এবার আর ‘চোকিং’ নয়, মুখ লুকানোর জায়গা খুঁজছে দক্ষিণ আফ্রিকা
আরও একবার নকআউট ম্যাচে হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, তবে এবারের পরাজয়কে চোকিং নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ দেখছেন সজোরে থাপ্পড় হিসেবে।
প্রসঙ্গটি উঠতই, অবধারিতভাবেই। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, সংবাদ সম্মেলনের দশম মিনিটে গিয়ে, শেষ প্রশ্নটি হলো ‘চোকিং’ নিয়ে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা কোচ শুক্রি কনরাড সেই আলোচনার পালে বিন্দুমাত্র জোগালেন না। বরং নিজেদের ব্যর্থতা ও আত্মসমর্পণের ব্যাপারটি এতটা চরমভাবে তুলে ধরলেন তিনি, চোকিংয়ের আলোচনাই আর হালে পানি পেল না।
আইসিসি আসরের নকআউট ম্যাচ আর দক্ষিণ আফ্রিকার পরাজয়, চিরায়ত এক চিত্র। উড়তে থাকা দলের ধপাস করে মাটিতে পড়া, চাপের মধ্যে ভেঙে পড়া, মুঠো থেকে ম্যাচ ফসকে ফেলা, বছরের পর বছর, টুর্নামেন্টের পর টুর্নামেন্টে প্রোটিয়ারা এসব দেখিয়ে আসছে। তাদের ‘চোকার’ তকমা পাওয়া কিংবা বারবার ‘চোক’ করার ব্যাপারটিও এখন ক্লিশে হয়ে গেছে অনেকটা। এবারের পরাজয়কে যেমন ‘চোক’ বলতেই নারাজ প্রোটিয়া কোচ।
গত বিশ্বকাপে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠে শিরোপার সুবাসও পাচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে ভারতের কাছে হেরে গেছে শেষ সময়ে। এবার সেমি-ফাইনালের আগ পর্যন্ত তারাই ছিল একমাত্র অপরাজিত দল। টুর্নামেন্টজুড়ে সবচেয়ে পরিপূর্ণ ক্রিকেট তারা উপহার দিয়েছে। কিন্তু সেমি-ফাইনালে দেখা গেল উল্টো রূপ।
আসরের সবচেয় জীর্ণ পারফরম্যান্স উপহার দিল তারা এ দিনই। ব্যাটিংয়ে তারা করতে পারল ১৬৯ রান। ইডেন গার্ডেন্সের ব্যাটিং সহায়ক উইকেট ও ছোট সীমানার মাঠে এই স্কোর কত ছোট, তা ফুটে উঠল পরের ভাগেই। রান তাড়ায় ৪৩ বল বাকি রেখেই ৯ উইকেটে জিতে ফাইনালে পৌঁছে গেল নিউ জিল্যান্ড।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে চোকিংয়ের প্রশ্নেই দক্ষিণ আফ্রিকা কোচ কনরাড অকপটে বললেন, চোক করতে হলে যেটুকু পারফর্ম করতে হয়, তার দল সেটুকুও পারেনি।
“আমার মনে হয় না আজকে রাতের ব্যাপারটি ‘চোক’ ছিল। আজকে আমরা স্রেফ বিধ্বস্ত হয়েছি। চোক করার জন্যও তো ম্যাচে কিছুটা সময় টিকে থাকতে হবে। আমরা তেমন কিছুই তো করতে পারিনি!:
“দক্ষিণ আফ্রিকায় আমরা এটাকে বলি, আমাদেরকে ‘moered’ করা হয়েছে, আজকে রাতে আমরা ‘প্রপার স্নটক্ল্যাপ’ পেয়েছি। এটিও দক্ষিণ আফ্রিকান ভাষা, যেটির মানে মুখ লুকানোর জায়গা পাচ্ছি না আমরা।”
‘স্নটক্ল্যাপ’ আফ্রিকান্স ভাষার একটি শব্দ, যেটির আক্ষরিক অর্থ করা কঠিন। তবে ‘সজোরে থাপ্পড়’ দিয়ে কিছুটা বোঝানো যায়।
পরমুহূর্তে একটু গর্বের কথাও বললেন কোচ। তবে সেটিকে তিনি সান্ত্বনা হিসেবে দেখতেও নারাজ।
“এত ভালো কিছু করেছি আমরা টুর্নামেন্টজুড়ে, ছেলেদের নিয়ে আমি গর্বিত। আমরা যখন দেশ ছেড়েছি, আমাদের ফর্ম যেমন ছিল, খুব বেশি লোক ভাবতে পারেনি আমরা সেমি-ফাইনালে খেলব। তবে সেটা তো আর সান্ত্বনা নয়।”
নিজেদের ব্যর্থতার পাশাপাশি এই ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের শ্রেষ্ঠত্বও মেনে নিচ্ছেন প্রোটিয়া কোচ।
“আমার মনে হয় না আজকে আমরা যথেষ্ট ভালো ছিলাম। টস জিতলে অবশ্যই ভালো হতো। তবে সে অজুহাত খুঁজে লাভ নেই। লড়াই করার মতো স্কোরের ধারেকাছেও যেতে পারিনি আমরা। স্টাবো ও মার্কো (স্টাবস ও ইয়ানসেন) কিছুটা পুষিয়ে দিয়েছিল। তবে নিউ জিল্যান্ড দুর্দান্ত ছিল। স্পিনারদের দিয়ে কন্ডিশন দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে শুরুতে এবং আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারিনি। তাদের পুরো কৃতিত্ব দিতে হবে, আমাদের চেয়ে অনেক বেশি ভালো ছিল তারা।”
এভাবে হারার পর গোটা দল বেদনায় পুড়ছে বলে জানালেন কনরাড। তার আশা, বাস্তবতার উপলব্ধিও হবে তার দলের।
“ছেলেরা কষ্ট পাচ্ছে। পাওয়ারই কথা। বিশ্বকাপ দিয়ে এবং বিশ্বকাপ জেতা দিয়েই বিচার করা হয়। টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ অনেক কিছু করেছি আমরা। দারুণ ক্রিকেট খেলেছি। কিন্তু বাজে পারফরম্যান্সের জন্য খুব বাজে সময় বেছে নিয়েছি আমরা। ছেলেরা কষ্ট পাচ্ছে, তবে আশা করি ওরা এটাও বুঝতে পারবে যে, আজকে ওরা যথেষ্ট ভালো ছিল না।”
