Published : 14 Feb 2026, 11:08 PM
প্রথম দুই ম্যাচে রান তাড়ায় দাপুটে জয়। আর এবার আগে ব্যাটিংয়ের চ্যালেঞ্জে নেমে ধুঁকতে দেখা গেল নিউ জিল্যান্ডকে। পাওয়ার প্লেতে তিন উইকেট হারানোর পর, মিডল ও লোয়ার অর্ডারের দৃঢ়তায় কোনোমতে পৌনে দুইশ রানের পুঁজি গড়তে পারল তারা। কিন্তু বোলিংয়ে পারল না লড়াই জমাতেই। এইডেন মার্করামের বিধ্বংসী ইনিংসে বড় জয়ে সুপার এইটের দুয়ারে পৌঁছে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।
বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ৭ উইকেটে। আহমেদাবাদে শনিবার ১৭৬ রানের লক্ষ্য ১৭ বল বাকি থাকতেই পেরিয়ে যায় প্রোটিয়ারা।
পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট নিয়ে নিউ জিল্যান্ডের টপ অর্ডার এলোমেলো করে দেন মার্কো ইয়ানসেন। ৪০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান তিনিই।
রান তাড়ায় আট চার ও চার ছক্কায় ৪৪ বলে অপরাজিত ৮৬ রানের দারুণ ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন অধিনায়ক মার্করাম। এই সংস্করণে দেশের হয়ে তার যৌথভাবে সর্বোচ্চ ইনিংস এটি। গত মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও করেছিলেন অপরাজিত ৮৬।
আসরে তিন ম্যাচের সবকটি জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা। টানা দুই জয়ের পর প্রথম হারের স্বাদ পাওয়া নিউ জিল্যান্ড ৪ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে।
দুই ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আফগানিস্তান ও কানাডা এখনও পয়েন্ট পায়নি।
গ্রুপের শীর্ষ দুই দল উঠবে সুপার এইটে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের ধারাও ধরে রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই দলের পাঁচবারের দেখায় সবগুলো জিতল তারা।
নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নিউ জিল্যান্ডের শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। প্রথম তিন ওভারে তারা করে ২৭ রান।
পরের ওভারে আক্রমণে আসা ইয়ানসেনকে ছক্কার পরের বলেই আউট হয়ে যান টিম সাইফার্ট। প্রথম দুই ম্যাচে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলা ওপেনার এবার থামেন ১৩ রানে।
সাইফার্টের ক্যাচ নিয়ে বিশ্বকাপে কিপার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসালের রেকর্ডে মাহেন্দ্র সিং ধোনিকে (৩২) ছাড়িয়ে যান কুইন্টন ডি কক (৩৩)।
ওই ওভারে পরপর চার ও ছক্কা মারেন ফিন অ্যালেন। তবে নিজের পরের ওভারেই অ্যালেন (১৭ বলে ৩১) ও রাচিন রাভিন্দ্রাকে (৮ বলে ১৩) ফিরিয়ে দেন ইয়ানসেন। গ্লেন ফিলিপসকে দ্রুত বিদায় করেন স্পিনার কেশাভ মহারাজ।

তখন ৬৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে নিউ জিল্যান্ড।
সেখান থেকে ৭৪ রানের জুটিতে দলকে টানেন মার্ক চ্যাপম্যান ও ড্যারিল মিচেল। কিন্তু দুই থিতু ব্যাটসম্যানই আউট হয়ে যান ১৪ ও ১৬তম ওভারে।
ছয় চার ও দুই ছক্কায় ২৬ বলে ৪৮ রান করেন চ্যাপম্যান। ২৪ বলে ৩২ রান করেন মিচেল।
অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ৪ রান করতে খেলেন ১০ বল। জেমস নিশামের ১৫ বলে ২৩ রানের ক্যামিওতে ১৭৫ পর্যন্ত যেতে পারে কিউইরা।
জবাবে মার্করামের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম তিন ওভারে তারা তোলে ৫১ রান, যার ৪১ রানই মার্করামের।
১৪ বলে ২০ রান করে ফেরেন ডি কক। পাওয়ার প্লেতে আসে ১ উইকেটে ৮৩ রান, যা বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার যৌথভাবে সর্বোচ্চ। ২০১৬ আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিনা উইকেটে ৮৩ রান তুলেছিল তারা।
মার্করাম ফিফটি করেন স্রেফ ১৯ বলে, বিশ্বকাপে যা দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দ্রুততম। ২০১৬ আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২১ বলে ফিফটি ছুঁয়ে আগের রেকর্ড ছিল ডি ককের।
ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিয়ে থেমে যান রায়ান রিকেলটন (১১ বলে ২১) ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (১৭ বলে ২১)। ডেভিড মিলারকে (১৭ বলে ২৪*) নিয়ে বাকিটা সারেন মার্করাম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৭৫/৭ (সাইফার্ট ১৩, অ্যালেন ৩১, রাভিন্দ্রা ১৩, ফিলিপস ১, চ্যাপম্যান ৪৮, মিচেল ৩২, স্যান্টনার ৪, নিশাম ২৩*, হেনরি ৯*; এনগিডি ৪-০-৩৪-১, রাবাদা ৪-০-২৭-০, ইয়ানসেন ৪-০-৪০-৪, মহারাজ ৩-০-২৪-১, বশ ১-০-১৫-০)
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৭.১ ওভারে ১৭৮/৩ (মার্করাম ৮৬*, ডি কক ২০, রিকেলটন ২১, ব্রেভিস ২১, মিলার ২৪*; হেনরি ৪-০-৩৮-০, ফার্গুসন ৩.১-০-৩৩-১, ডাফি ৩-০-৫০-০, স্যান্টনার ৪-০-৩৩-০, নিশাম ২-০-১৫-১, রাভিন্দ্রা ১-০-৯-১)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: মার্কো ইয়ানসেন