Published : 10 Feb 2026, 05:20 PM
ভারতের সাবেক ক্রিকেটারদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন সাকলায়েন মুশতাক। পাকিস্তানের সাবেক স্পিনারের মতে, যে ক্রিকেটাররা মানুষের আদর্শ, তারাই সবার মাঝে ঘৃণা ছড়াচ্ছেন। তাই কোনো ইস্যু নিয়ে কথা বলার সময় তারকা ক্রিকেটারদের আরও দায়িত্বশীল হতে বলেছেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ বর্জন নিয়ে চর্চা কম হয়নি। অনেক টানাপোড়েনের পর সোমবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। তারপরও আলোচনা-সমালোচনা থামছে না।
বিশ্বকাপের এই সঙ্কটময় সময়ে ভারতের এক সাবেক ক্রিকেটারের একটি মন্তব্য একদমই ভালো লাগেনি সাকলায়েনের। নাম প্রকাশ না করে তাকে ধুয়ে দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে অন্যদের কথা বলার সময় আরও বুদ্ধিদীপ্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পাকিস্তানের হয়ে ৪৯ টেস্ট ও ১৬৯ ওয়ানডে খেলা এই ক্রিকেটার।
‘গেম অন হে’ অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় সাকলায়েন বলেন, ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটারদের কথাবার্তায় সংকীর্ণ মানসিকতা ফুটে উঠছে।
“সম্প্রতি এক সাবেক ক্রিকেটার—নাম বলছি না, কারণ সেটা ঠিক মনে হচ্ছে না—তাকে জিজ্ঞাস করা হয়েছিল-পাকিস্তান নিজেদের সততা ও সম্মানের কথা বলছে, সে বিষয়ে। তিনি জবাবে বলেছিলেন, ‘দেখুন, কথা বলার আগে বলি— যাদের শুরু থেকেই কোনো সম্মান নেই, তারা আবার সম্মানের কথা কীভাবে বলে?’ আমি বলতে চাই, একটু তো সাধারণ বুদ্ধি ব্যবহার করুন!”
“কী ধরনের সংকীর্ণ-মনের কথা বলছেন? আপনি একজন সাবেক ক্রিকেটার। খেলোয়াড়দের তো নায়ক ও তারকা হওয়ার কথা। আর তারকারা সবার জন্যই আলো ছড়ায়। নায়ক সবার। অন্তত নায়কের মতো আচরণ করার চেষ্টা করুন!”
রাজনীতিবিদদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রিকেটারদের কথা বলা উচিত নয় বলে মনে করেন ৪৯ বছর বয়সী সাকলায়েন।
“রাজনীতিবিদরা তারা যা করে সেটাই করছে-তারা রাজনীতির খেলা খেলছে। কিন্তু আপনারা (সাবেক ক্রিকেটাররা) এভাবে কথা বলতে পারেন না। এটা কি বোঝেন না? যখন বাউন্ডারি মারেন বা উইকেট নেন, তখন এপাশ-ওপাশ (ভারত-পাকিস্তান) সব দিক থেকেই সবাই হাততালি দেয়। কিন্তু এটা যেন আপনারা বুঝতেই চান না। আমি বলি, সীমান্তের ওপাশে একটু বোধ-বুদ্ধি দরকার; আরও দায়িত্বশীল ও বুদ্ধিদীপ্তভাবে কথা বলা উচিত।”
ভারত ও পাকিস্তানের সমর্থকদের একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সাক্ষী হওয়ার উদাহরণও তুলে ধরেন সাকলায়েন।
“এমনকি ভারতের বড়মাপের সাবেক ক্রিকেটাররা অদ্ভুত সব কথা বলছেন এবং ঘৃণা ছড়াচ্ছেন। তারা এই খেলাটার উদ্দেশ্যই বোঝেন না। ক্রিকেট শান্তি ও ঐক্যের বার্তা দেয়। আমার মনে পড়ে, আমরা যখন যুক্তরাষ্ট্রে ‘ক্রিকেট অল স্টার্স’ খেলতে গিয়েছিলেন, দর্শকরা দুই দ্দেশের পতাকা জোড়া দিয়ে বিশাল এক পতাকা বানিয়েছিল। ভারত ও পাকিস্তানের জোড়া পতাকা মাঝে ছিল, আর দুই দেশের সমর্থকরা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল।”
অনেক জল ঘোলা হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান। কলম্বোয় দুই দলের লড়াই আগামী রোববার।