Published : 03 Mar 2026, 09:49 AM
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া এতটা বাজে করবে, এমন ধারণা ছিল না গ্লেন ম্যাকগ্রার। তবে এই দলকে নিয়ে খুব বড় আশাও তার ছিল না। বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় তাই হতাশ হলেও অবাক হননি এই পেস বোলিং কিংবদন্তি।
বিশ্বকাপে এবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ও শেষ ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে জিতলেও হেরে যায় তারা জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে।
চোট-জর্জর দলটি ছিল অনেকটাই খর্বশক্তির। শীর্ষ ফেভারিটদের তালিকায় তাদেরকে সেভাবে রাখা হয়নি। তবে সুপার এইটেও তারা উঠতে পারবে না, এমন ধারণাও বেশি লোকে করেনি।
ম্যাকগ্রাও তাদেরই একজন। চেন্নাইয়ে এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট বললেন, প্রশ্নবিদ্ধ দল নির্বাচন ভূমিকা রেখেছে ব্যর্থতার পেছনে।
“আমার মনে হয়েছিল, সুপার এইটে তারা উঠবে। তবে সত্যি বলতে, আমার মনে হয়নি যে এর বেশি তারা এগোতে পারে। শেষ পর্যন্ত তারা সুপার এইটেই উঠতে পারেনি, এটা হতাশাজনক। কামিন্স নেই, স্টার্ক-হেইজেলউড নেই, বিশাল ব্যবধান হয়ে গেছে সেখানে। বিগ ব্যাশে পারফর্ম করা স্টিভ স্মিথ ছিল, কিন্তু তাকে খেলানো হয়নি। ম্যাচ রেনশ এক ম্যাচে ৬৬ রান (৬৫) করল, পরের ম্যাচে তাকে নেওয়া হলো না।”
“ঠিক নিশ্চিত নই, অস্ট্রেলিয়ানরা কী চিন্তা করছিল। অনেক কিছুই কাজে লাগেনি। দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন আছে, গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার বিদায় এবং জিম্বাবুয়ের সুপার এইটে যাওয়া হতাশাজনক, তবে বিস্ময়কর নয়।”
দল নির্বাচন নিয়ে আঙুল তোলার পাশাপাশি ম্যাকগ্রা তুলে ধরলেন রসদের ঘাটতির ব্যাপারটিও। বিশেষ করে, পেস বোলিংয়ে বড় শূন্যতা দেখছেন তিনি।
গত কিছুদিনে ন্যাথান এলিস অবশ্য টি-টোয়েন্টিতে নিজের ছাপ রেখেছেন। তবে বোলিং আক্রমণের নেতা হওয়ার মতো নন তিনি। মূলত রক্ষণাত্মক পেসার তিনি, রান বাঁচানোর বোলার। বিশ্বকাপের আগে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছে দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডার ২৫ বছর বয়সী জ্যাক এডওয়ার্ডস ও ২০ বছর বয়সী মাহলি বিয়ার্ডম্যানের। দুজনই সম্ভাবনাময়, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করছেন। তবে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে এখনও।
এখানেই অস্ট্রেলিয়ার পরীক্ষা দেখছেন ম্যাকগ্রনি। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের সফলতম পেসারের মতে, সামনের পথচলায় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হেইজেলউডের উত্তরসূরী খুঁজে বের করা হবে।
“ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া যে পেসারদের খেলিয়েছে (অ্যাশেজে), তাদের দিকে তাকান। স্কটি বোল্যান্ড, মাইকেল নিসার, জাই রিচার্ডসন, ওরা অনেক বছর ধরেই খেলছে। যেটির মানে, পুরোনো ক্রিকেটারদের বদলে তরুণদের বেছে নেওয়া হচ্ছে না। কাজেই পরবর্তী প্রজন্ম হবে কৌতূহল জাগানিয়া।”
“এলিস ও বিয়ার্ডম্যানকে দেখেছি আমরা। সাদা বলের ক্রিকেটে কিছু অভিজ্ঞতা তাদের আছে। তবে কামিন্স, স্টার্ক, হেইজেলউডের জায়গা নিতে হলে…ওরা অনেক বছর খেলেছে এবং অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণকে এগিয়ে নিয়েছে…। স্কটি বোল্যান্ড দারুণ করছে, তবে সামনে তাকিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, পরবর্তী প্রজন্মের পেসাররা কীভাবে এখান থেকে এগিয়ে যায়। টি-টোয়েন্টিতে আমরা দেখেছি, এই বিশ্বকাপ খুব একটা ভালো যায়নি। দেখা যাক, ভবিষ্যতে কী হয়।”