Published : 23 Feb 2026, 11:22 PM
পাওয়ার প্লেতে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালালেন শিমরন হেটমায়ার ও রভম্যান পাওয়াল। তাদের বিস্ফোরক জুটির পর শেষ দিকের কয়েকটি ক্যামিওতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গড়ল বিশাল সংগ্রহ। সেই চ্যালেঞ্জে মুখ থুবড়ে পড়ল জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং।
গ্রুপ পর্বে অপরাজিত দুই দলের সুপার এইটের প্রথম লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ১০৭ রানে।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সোমবার ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৫৪ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এটি।
জবাবে ১০৩ রানে ৯ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে ১৪৭ পর্যন্ত যেতে পারে দশম উইকেটে রেকর্ড জুটির সৌজন্যে।
তিন নম্বরে নেমে সাতটি করে চার ও ছক্কায় ৩৪ বলে ৮৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নায়ক শিমরন হেটমায়ার।
১৯ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দ্রুততম ফিফটির নিজের রেকর্ডই ভেঙে দেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান তিনিই।
চারটি করে চার ও ছক্কায় ৩৫ বলে ৫৯ রান করেন পাওয়েল। তৃতীয় উইকেটে এই দুজন গড়েন ৫২ বলে ১২২ রানের জুটি।

জিম্বাবুয়ের হয়ে ত্রিশ ছাড়াতে পারেন কেবল একজন। পাঁচ ছক্কা ও দুই চারে ২১ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলেন ব্র্যাড ইভান্স।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই বাঁহাতি স্পিনার আকিল হোসেন ও গুডাকেশ মোটি মিলে নেন ৭ উইকেট। সমান ২৮ রান দিয়ে মোটি ৪টি ও আকিল নেন ৩টি উইকেট।
টস জিতে বোলিং নেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শেই হোপ বলেন, জিতলে তিনিও আগে বোলিং নিতেন।
বোলিংয়ের শুরুটা ভালোই করে জিম্বাবুয়ে। প্রথম দুই ওভারে আসে কেবল ৭ রান। পরের ওভারে রিচার্ড এনগারাভাকে একটি করে চার ও ছক্কা মেরে বিদায় নেন ব্র্যান্ডন কিং।
হেটমায়ার প্রথম বলেই চার মেরে শুরু করেন। ৯ রানে আউট হয়ে যেতে পারতেন তিনি, কিন্তু সহজ ক্যাচ ছাড়েন মুসেকিওয়া।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে হোপ ফেরেন ১৪ রান করে। ৬ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৫৫।
পরের দুই ওভারে পাঁচটি ছক্কা মেরে ১৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন হেটমায়ার।
পাওয়েলের রান ছিল একপর্যায়ে ১৮ বলে ১৫। পরে রানের গতি বাড়ান তিনিও, ফিফটি করেন কেবল ২৯ বলে।
সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে গ্রায়েম ক্রিমারের স্পিনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন হেটমায়ার। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর বেশিদূর যেতে পারেননি পাওয়েল।
শেষ দিকে শেরফেন রাদারফোর্ড (১৩ বলে ৩১*), রোমারিও শেফার্ড (১০ বলে ২১) ও জেসন হোল্ডারের (৪ বলে ১৩) নৈপুণ্যে ২৫৪ পর্যন্ত যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অক্ষত রয়ে যায় ২০০৭ সালে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরে শ্রীলঙ্কার ২৬০ রানের রেকর্ড।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে ছক্কা হয়েছে মোট ১৯টি, বিশ্বকাপে এক ইনিংসে যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ। ২০১৪ আসরে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯ ছক্কা এসেছিল নেদারল্যান্ডসের ইনিংসে। ওই ম্যাচের ৩০ ছক্কা হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে ম্যাচের ৩১ ছক্কাও বিশ্বকাপে রেকর্ড।
বিশাল রান তাড়ায় ২০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। তাদের ইনিংস গতি পায়নি কখনোই।
পাওয়ার প্লেতে একই ওভারে জোড়া শিকার ধরেন আকিল। একাদশ ওভারে পরপর দুই বলে দুই উইকেট নেন মোটি। যার একটি রাজার (২০ বলে ২৭)।
আট নম্বরে ইভান্সের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দেড়শর কাছে যেতে পারে জিম্বাবুয়ে। দশম উইকেটে রিচার্ড এনগাভারার সঙ্গে তার ১৯ বলে ৪৪ রানের জুটিই ইনিংসের সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপে দশম উইকেটে রেকর্ড জুটি এটি।
পরের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, জিম্বাবুয়ের পরের প্রতিপক্ষ ভারত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ২৫৪/৬ (কিং ৯, হোপ ১৪, হেটমায়ার ৮৫, পাওয়েল ৫৯, রাদারফোর্ড ৩১*, শেফার্ড ২১, হোল্ডার ১৩, ফোর্ড ১*; এনগারাভা ৪-০-৪৭-২, মুজারাবানি ৪-০-৪২-২, ইভান্স ৪-০-৪৬-১, ক্রিমার ৪-০-৩৮-১, রাজা ৩-০-৫২-০, মেয়ার্স ১-০-১৯-০)
জিম্বাবুয়ে: ১৭.৪ ওভারে ১৪৭ (মারুমানি ১৪, বেনেট ৫, মেয়ার্স ২৮, বার্ল ০, রাজা ২৭, মুনিয়োঙ্গা ১৪, মুসেকিওয়া ০, ইভান্স ৪৩, ক্রিমার ০, মুজারাবানি ০, এনগারাভা ৭*; আকিল ৪-১-২৮-৩, ফোর্ড ৩.৪-০-২৭-২, মোটি ৪-০-২৮-৪, শামার ৩-০-৩৫-০, হোল্ডার ৩-০-২৫-১)
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০৭ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: শিমরন হেটমায়ার