Published : 19 Feb 2026, 10:38 AM
উসমান তারিকের বোলিং খেলা কতটা কঠিন, ম্যাচে তো সেটি ফুটেই উঠছে। ব্যাটসম্যানরা খাবি খাচ্ছেন তার বৈচিত্রের সামনে। সালমান আল আগা জানালেন, এমনকি নেট অনুশীলনেও এই স্পিনারকের সামলানো কঠিন। পাকিস্তান অধিনায়কের আশা, টুর্নামেন্টের সামনের সময়টাতেও এভাবেই বোলিং করে যাবেন তার রহস্য স্পিনার।
নামিবিয়ার বিপক্ষে বুধবার সুপার এইট নিশ্চিত করার ম্যাচে ১৬ রানে ৪ উইকেট নেন তারিক। তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং এটি। ৬ ম্যাচের ছোট্ট ক্যারিয়ারেই ৪ উইকেটের স্বাদ পেয়ে গেলেন তিনি ২ বার।
এবার বিশ্বকাপের আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন তিনি। আধুনিক রহস্য স্পিনারদের মতোই ক্যারম বল, গুগলিসহ নানা বৈচিত্র তার আছে। তবে নিজেকে তিনি আলাদা করেছেন বোলিং অ্যাকশন দিয়ে। সাধারণভাবে রান-আপে এগিয়ে গিয়ে ডেলিভারি স্ট্রাইডে অস্বাভাবিকভাবে থেমে যান তিনি, সেটি অনেক সময় ২-৩ সেকেন্ডও হয়ে যায়। এরপর বল ডেলিভারি করে অনেকটাই লো-আর্ম বা সাইড-আর্ম কিংবা স্লিঙ্গিং অ্যাকশনে। তার রহস্যের কেন্দ্রে মূলত এটিই। এছাড়া প্রথাগত স্পিনারদের মতো ফ্লাইট আর গতির বৈচিত্র ও ক্রিজের ব্যবহার তো আছেই।
মাত্র ৩ আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতায় বিশ্বকাপে এসেছেন তিনি এবার। তবে সেই ৩ ম্যাচেই ৯ উইকেট নিয়ে জানান দিয়েছিলেন, এই পর্যায়ের ক্রিকেটের জন্য তিনি প্রস্তুত। বিশ্বকাপে দলে প্রথম ম্যাচে একাদশে জায়গা পাননি। পরের ম্যাচে একাদশে ফিরে নিয়েছেন ২ উইকেট। এরপর ভারতের বিপক্ষে দল উড়ে গেলেও তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন। নামিবিয়ার বিপক্ষে তো নিজেকে ছাড়িয়েই গেলেন।

৬ ম্যাচেই তার উইকেট হয়ে গেছে এখন ১৬টি। বোলিং গড় (৭.৯৩) ও ওভারপ্রতি রান (৫.৭২), দুটিই অবিশ্বাস্য।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের পর অধিনায়ক সালমান তাকে স্তুতিতে ভাসিয়ে শোনালেন সামনের ম্যাচগুলির জন্য আশাবাদও।
“বিশ্বাস করুন, (তাকে খেলা) খুব কঠিন। এমনকি তাকে নেটে খেলাও কঠিন। যখনই ঘরোয়া ক্রিকেটে তাকে খেলেছি, খুবই কঠিন লেগেছে আমার। কোনো না কোনোভাবে তাকে পড়তে পারা মুশকিল হয়ে পড়ে এবং যখন সে ওভাবে থেমে যায় (ডেলিভারি স্ট্রাইডে), তখন তাকে খেলা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।”
“আমি খুবই খুশি যে সে আমাদের হয়ে খেলছে এবং যেভাবে বোলিং করছে সে, তাতেও আমি খুশি। আশা করি, এখন টুর্নামেন্টের আসল সময়টাতেও সে এভাবেই বোলিং করে যাবে এবং আমাদেরকে আরও ম্যাচ জেতাবে।”
বোলিংয়ের মতো তারিকের ক্যারিয়ারের গল্পও চমকপ্রদ এবং তা নিয়ে চর্চা চলছে তুমুল। ৩৪ বছর বয়সী এই স্পিনার এখনও পর্যন্ত মোটে সব মিলিয়ে মোটে ৪৪টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। কারণ, ক্রিকেট ছেড়ে একসময় বেছে নিয়েছিলেন অন্য জীবিকা।
খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের নৌশেরা জেলায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা তার। চার বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর বেড়ে উঠেছেন কষ্টে। ক্রিকেটের পথ বেছে নিলেও খুব সুবিধে করতে পারছিলেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষ ব্যক্তিটি ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার দাবি মেটানোর পাশাপাশি নানা রকম কাজ করে যাচ্ছিলেন জীবন চালাতে। কিন্তু পরিবার চালানো কঠিন হয়ে উঠেছিল। এক পর্যায়ে ভালোবাসাকে বলি দিয়ে ২০১৫ সালে পাড়ি জমান দুবাইয়ে।
সেখানে একটি রিয়েল এস্টেট ফার্মে ক্রয় সমন্বয়কারীর চাকরিতে জীবন থিতু হয়ে যায় তার। কিন্তু মাহেন্দ্র সিং ধোনিকে নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্র ‘MS Dhoni: The Untold Story’ দেখার পর তার ভেতরে আবার ঝড় ওঠে। গল্পটি নিজের জীবনের বলেই মনে হয় তার কাছে। ব্যস, এক পর্যায়ে সেই চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে ক্রিকেটের পথে আবার সংগ্রাম শুরু করেন। অনেক পথ পেরিয়ে এখন তিনি বিশ্বকাপের মঞ্চে।
তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে চর্চার পাশাপাশি প্রশ্নও উঠেছে অনেক। দুই দফায় পাকিস্তান সুপার লিগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে তার অ্যাকশন। কিন্তু দুবারই শুদ্ধ প্রমাণিত হয়েছে তার অ্যাকশন। এখন ম্যাচের পর ম্যাচ ব্যাটসম্যানদের জন্য তিনি হয়ে উঠেছেন বিভীষিকা।