Published : 19 Feb 2026, 02:31 PM
এমনিতে টি-টোয়েন্টিতে তিলাক ভার্মার স্ট্রাইক রেট খারাপ নয়। কিন্তু এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্রেফ এক ম্যাচে দেড়শ ছুঁয়েছে তার স্ট্রাইক রেট। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে যেখানে দ্রুত রান তুলেছেন দলের অন্যরা, সেখানে মন্থর ছিলেন তিনি। তার এমন ব্যাটিং চোখে লেগেছে ইরফান পাঠানের। সামনে তাকিয়ে তাকে এখানে মনোযোগ দিতে বললেন ভারতের সাবেক পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের চারটি ম্যাচেই খেলেছেন তিলাক। সবগুলোতেই বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে তিনে খেলিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু ফিফটির দেখা এখনও পাননি তিনি।
প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে একটি ছক্কা ও তিনটি চারে ১৬ বলে ২৫ রান করেন তিলাক। এই ম্যাচে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৫৬.২৫। পরের তিন ম্যাচে তার স্ট্রাইক রেট ১২০ স্পর্শ করেনি।
কলম্বোতে পাকিস্তানের বিপক্ষে মন্থর ও স্পিন সহায়ক উইকেটে ২৪ বলে ২৫ রান করে তিলাক। ওই ম্যাচে তার এমন ব্যাটিংয়ে দোষের কিছু অবশ্য দেখেন না ইরফান। কিন্তু বুধবার আহমেদাবাদে ডাচদের বিপক্ষে তার ২৭ বলে ৩১ রান গ্রহণযোগ্য নয় ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী এই ক্রিকেটারের কাছে।
“তিলাকের ব্যাটিং নিয়ে আমার কিছু প্রত্যাশা ছিল। সে যেভাবে শ্রীলঙ্কায় ব্যাটিং করেছে, সেখানে তাকে সচেতনতার সঙ্গে এবং দায়িত্ব নিয়ে খেলতে দেখা গেছে। ইশান কিষান দ্রুত রান তুলছিল, তাই তিলাক ১০০ স্ট্রাইক রেটের আশেপাশে রান করছি, কারণ সে উইকেট হারাতে চায়নি।”
“তবে আহমেদাবাদে তিলাকের কাছে আরও ভালো ব্যাটিং আশা করেছিলাম। তার স্ট্রাইক রেটে আরও ভালো হওয়া উচিত ছিল, কারণ পিচ ব্যাটিংয়ের জন্য দারুণ ছিল। এ দিকে তার নজর দেওয়া উচিত।”
আহমেদাবাদেই আগামী রোববার সুপার এইটের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে ভারত। গত আসরের ফাইনালে প্রোটিয়াদের হারিয়েই শিরোপা জিতেছিল তারা।
আসছে ম্যাচটি তো বটেই, সামনের খেলাগুলোয় ভারতকে কিছু কৌশলগত লড়াইয়ের সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করছেন ইরফান।
“দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরের ম্যাচে কৌশলগত কিছু লড়াই হবে। তবে আমার মতে, আভিশেক শার্মা, ইশান কিষান ও তিলাক ভার্মাকে নিয়ে কৌশল হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা তিন জনই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। যখন তিনজন বাঁহাতি পরপর ব্যাটিংয়ে আসে, তখন প্রতিপক্ষের জন্য পরিকল্পনা করা সহজ হয়ে যায়।”
ভারতের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে ভাবনার জায়গা দেখিয়ে, গত দুই ম্যাচের উদাহরণ দিয়েছেন ইরফান। সঙ্গে একটি সমাধানও বাতলে দিয়েছেন ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক।
“পাকিস্তানের বিপক্ষে টার্নিং পিচের উদাহরণটা দেওয়া যায়। সালমান আলি আগা, যে কিনা মূলত ব্যাটসম্যান আর পার্ট-টাইম বোলার, সে কার্যকর দুটি ওভার করতে পেরেছিল, কারণ তখন ক্রিজে দুজন বাঁহাতি ছিল। একইভাবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আরিয়ান দত্ত পাওয়ার প্লেতে ভালো বোলিং করে এবং এক স্পেলে অন্তত দুই ওভার করে। ওই সময়ে প্রতিপক্ষ একরকম ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ পায়।”
“এমনটা যদি বড় ম্যাচে হয়, বিশেষ করে নকআউট ম্যাচে, এটা ভারতকে চাপে ফেলতে পারে। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে মূল বোলার না হলেও এইডেন মার্করাম বোলিংয়ে আসতে পারে, আরিয়ান দত্তর মতো। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে তারা কি এই বাঁহাতি কম্বিনেশন ভাঙতে চাইবে? সুরিয়াকে তিন নম্বরে পাঠাবে? এটা কৌশলগত কোনো পদক্ষেপ হতে পারে? দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, আহমেদাবাদের মতো পিচ যেখানে বল খুব একটা গ্রিপ করে না, সেখানে না হলেও, শ্রীলঙ্কার মতো ভেন্যুতে—যেখানে বল বেশি গ্রিপ করে, সেখানে এমন কিছু ভাবা যায়। তখন কি সুরিয়াকুমার ইয়াদাভকে ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে তুলে আর তিলাককে চার নম্বরে নামিয়ে দেওয়ার কথা ভাববে? আমার মনে হয়, এটা বিবেচনা করা উচিত।”
বিশ্বকাপের আগে গত দেড় বছরে বিভিন্ন সময়ে তিলাক ও সুরিয়াকুমারকে ঘুরিয়েফিরিয়ে তিনে খেলানো হয়েছে, সঙ্গী ওপেনার ডানহাতি বা বাঁহাতি বুঝে। তবে বিশ্বকাপে এখনও সেটা দেখা যায়নি।