Published : 09 Feb 2026, 08:27 AM
পাওয়ার প্লেতে শ্রীলঙ্কার রান স্পর্শ করল পঞ্চাশ। এরপরই যেন বদলে গেল তাদের ব্যাটিং। একের পর এক ওভারে আসছিল না কোনো বাউন্ডারি। তবে কামিন্দু মেন্ডিস উইকেটে যাওয়ার পর পাল্টে গেল চিত্র। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দারুণ ইনিংস খেললেন তিনি। সেটিই গড়ে দিল ব্যবধান।
কলম্বোয় রোববার আয়ারল্যান্ডকে ২০ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে শ্রীলঙ্কা।
চমক জাগিয়ে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া কামিন্দু প্রথম ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার জয়ের নায়ক। ছয় নম্বরে নেমে চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ১৯ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ-সেরার পুরস্কার জেতেন ২৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা তোলে ৫০ রান। কিন্তু বিস্ময়করভাবে, ৭ থেকে ১৫ ওভার পর্যন্ত কোনো বাউন্ডারিই আসেনি! এই সময়ের মধ্যে শ্রীলঙ্কা উইকেটও হারায় তিনটি।
চতুর্দশ ওভারের পঞ্চম বলে দুনিথ ওয়েলালাগের বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নামেন কামিন্দু। তার ব্যাটেই শ্রীলঙ্কার ৫৭ বলের বাউন্ডারি-খরা কাটে ষোড়শ ওভারে, চার মারেন গ্যারেথ ডেল্যানিকে।
পরের ওভারে ম্যাথু হ্যামফ্রিজের শেষ তিন বলে একটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন কামিন্দু। যদিও ছক্কার বলটিতে ক্যাচ ফেলেন ফিল্ডার।
১৯তম ওভারে ব্যারি ম্যাককার্থির ‘নো’ বলে চার মারার পর, বৈধ প্রথম বল ছক্কায় ওড়ান কামিন্দু। ওই পর্যন্ত সবশেষ ১১ বলের মধ্যে সব মিলিয়ে আসে ৪৫ রান।
১১ ডেলিভারির ওই ওভারেই আউট হয়ে যান কামিন্দু। তার ঝড়ো ইনিংসের সঙ্গে কুসাল মেন্ডিসের ৪৩ বলে অপরাজিত ৫৬ রানের সুবাদে ৬ উইকেটে ১৬৩ রানের পুঁজি গড়ে শ্রীলঙ্কা। শেষ চার ওভারে আসে ৬০ রান।

ফিল্ডিংয়ে সাতটি ক্যাচ ফেলা আয়ারল্যান্ড রান তাড়ায় যেতে পারে ১৪৩ পর্যন্ত।
কামিন্দুর বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়াটাই ছিল বড় চমক। গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে কোনো ম্যাচে তিনি একাদশে সুযোগ পাননি। বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দলে জায়গাও হারান তিনি।
কামিন্দুকে ছাড়া ওই সিরিজের জন্য শ্রীলঙ্কা দল ঘোষণা করে ২৮ জানুয়ারি। এর পাঁচ দিন পরই ৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হয় কামিন্দুকে রেখে। মূলত পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে তিন ম্যাচ খেলে ভালো করতে না পারা ধানাঞ্জায়া ডি সিলভার জায়গায় ফেরানো হয় তাকে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচেও খেলানো হয় কামিন্দুকে। পাল্লেকেলেতে সেদিন যদিও ১৪ রান করেই আউট হয়ে যান তিনি। তবে বিশ্বকাপের শুরুতেই ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন এই স্পিনিং অলরাউন্ডার।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ খেলে ভালো করতে পারেননি কামিন্দু। তিন ম্যাচে তার রান ছিল মোটে ৩২। এর চেয়ে বেশি রান করলেন এবার প্রথম ম্যাচেই।
৩৭ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পেলেন তিনি। প্রথমবার পেয়েছিলেন গত বছরের সেপ্টেম্বরে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।