চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স চ্যাম্পিয়ন হলে পার্টিতে ‘ডিজে’ হবেন ম্যাক্স ও’ডাউড

একান্ত সাক্ষাৎকারে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ডাচ ক্রিকেটার কথা বললেন নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার, নেদারল্যান্ডসে ক্রিকেটের বর্তমান ও ভবিষ্যত, তার ডিজে সত্ত্বাসহ আরও অনেক কিছু নিয়ে।

শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদ চট্টগ্রাম থেকেবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Jan 2023, 04:35 PM
Updated : 12 Jan 2023, 04:35 PM

“চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স শিরোপা জিতলে তো ডিজে…” প্রশ্ন শেষ করার আগেই ম্যাক্স ও’ডাউডের মুখে হাসি, ‘হ্যাঁ… হ্যাঁ অবশ্যই…! আমরা বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হলে অবশ্যই পার্টিতে আমিই ডিজে হব!’ ব্যাট হাতে তার দক্ষতা ক্রিকেট দুনিয়ার অনেকেরই জানা, তবে ডিজে হিসেবেও তার হাত পাকা। বাংলাদেশে এসে অবশ্য আপাতত ক্রিকেটেই ব্যস্ত নেদারল্যান্ডসের এই ওপেনার। বিপিএলে খেলতে এসেছেন তিনি চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এটিই তার প্রথম অভিজ্ঞতা। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিজের ছাপ রেখেছেন যথেষ্টই। টি-টোয়েন্টিতে ডাচদের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান তিনি। খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ফিফটি দিয়ে বিপিএলের পথচলাও শুরু করেছেন সাফল্যে রাঙিয়ে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২৮ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান কথা বললেন নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার, নেদারল্যান্ডসে ক্রিকেটের বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা, ডিজে হিসেবে অভিজ্ঞতাসহ আরও অনেক কিছু নিয়ে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে সময় কেমন কাটছে?

ম্যাক্স ও’ডাউড: খুব ভালো। উপভোগ করছি। আবহাওয়া এখন কিছুটা ভালো হয়েছে। ঢাকায় তো সূর্যের মুখই দেখতে পাচ্ছিলাম না কয়েকদিন।

প্রশ্ন: এদেশে এই প্রথম?

ও’ডাউড: হ্যাঁ! প্রথমবার এলাম। তবে গত (টি-টোয়েন্টি) বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছি। সেটিই ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে আমার প্রথম ম্যাচ।

প্রশ্ন: ক্রিকেট নিয়ে কথা হবে। তার আগে আপনার আরেক পরিচয় নিয়ে একটু কথা বলা যাক। আপনাকে ‘ডিজে ম্যাক্স’ হিসেবে সম্বোধন করা যেতে পারে? শোনা যায়, আপনি খুব ভালো ডিজে!

ও’ডাউড: (হাসি) হ্যাঁ… হ্যাঁ, অবশ্যই ডাকতে পারেন এই নামে!

আমি অনেক আগে থেকেই ডিজে। ছেলেবেলায় দেখেছি, বাসায় মা-বাবা নানা ধরনের ইলেক্ট্রনিক মিউজিক বাজাতেন। এই ধরনের গান শুনেই বেড়ে উঠেছি। আমার মনে আছে, ১৩-১৪ বছর বয়সে হাই স্কুলে পড়ার সময় ডিজে করার একটি ভিডিও দেখেছিলাম। সেটি খুব ভালো লেগেছিল। তখন মনে হয়েছিল, আমি এটিই করতে চাই। 

অবশ্যই আমি পুরোদস্তুর ক্রিকেটার। তবে সব জায়গায় আমি ডিজের সরঞ্জাম সঙ্গে করে নিয়ে যাই। বাংলাদেশে অবশ্য আনিনি (হাসি)। তবে সব জায়গায় নিয়ে যাই এবং নানা ধরনের গান বাজিয়ে থাকি।

প্রশ্ন: জীবনের কোনো পর্যায়ে পুরোদস্তুর ডিজে হওয়ার সম্ভাবনা আছে?

ও’ডাউড: নাহ, সেই সম্ভাবনা দেখি না। ডিজেদের লাইফস্টাইল বেশ পাগলাটে। আমি সেদিক থেকে শান্ত স্বভাবের। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ছোটখাটো অনুষ্ঠানে গান বাজাতে ভালো লাগে। তবে ডিজে হিসেবে বড় কিছু করার ভাবনা নেই।

প্রশ্ন: আপনার ইউটিউব চ্যানেল কি ডিজের কথা চিন্তা করেই খোলা?

 ও’ডাউড: সত্যি বলতে, আমি শুধু মজার জন্য চ্যানেল খুলেছি। আমি নিজের (ডিজে) মিক্সগুলো শুনতে পছন্দ করি। তাই আমার সব গান ও মিক্সগুলো আপলোড করার জন্য চ্যানেল খুলেছি। ভ্রমণ করার সময় এগুলো শুনতে পারি। 

প্রশ্ন: যে কোনো দলে গানের পছন্দ একেক জনের একেক রকম হয়। একজন ‘ডিজে’ হিসেবে সবাইকে সন্তুষ্ট করা কতটা কঠিন?

ও’ডাউড: এটি খুবই কঠিন কাজ। বিশেষ করে ড্রেসিংরুমে অনেক বেশি কঠিন। এখনও জানি না, এখানে কে কেমন গান পছন্দ করে। নিজের কথা বললে, আমি প্রায় সব ধরনের গানই শুনি। বিশেষ করে, শান্ত প্রকৃতির হাউজ মিউজিক। কোনো সৈকতের ধারে বসে ঢিমেতালে হাউজ মিউজিক আমার পছন্দ। এছাড়া ড্রাম ও বেজের সমন্বয়ে পার্টি গানও আমার পছন্দের।

প্রশ্ন: আপনার দিকে তাকালেই সবকিছুর আগে চোখ যায় চুলে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তো আপনার চুল ছোট ছিল। এখন এত বড়। কোনো গল্প আছে?

ও’ডাউড: হাহাহাহা… আছে বটে!

আপনি হয়তো ‘ভাইকিংস’ টিভি সিরিজটি দেখেছেন। আমার বান্ধবী ওই সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্রের বড় ভক্ত। তার চুলগুলো লম্বা। তাই আমিও ভাবলাম চুল বড় রাখি। তবে আমার মনে হয়, বড় চুলেই আমাকে ভালো মানায় (হাসি)। 

প্রশ্ন: এবার ক্রিকেট! আপনার বেড়ে ওঠা, ক্রিকেটের শুরু, সেসব গল্প শোনা যাক।

ও’ডাউড: আমার জন্ম নিউ জিল্যান্ডে। ৫ বছর বয়সে নেদারল্যান্ডসে চলে যাই। তখন থেকে ১২-১৩ বছর পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসেই ক্রিকেট খেলেছি। জুনিয়র পর্যায়ের ক্রিকেটের পুরো পাঠ আমি নেদারল্যান্ডসেই পেয়েছি। এরপর আবার নিউ জিল্যান্ডে ফিরে যাই। 

১৩ বছর বয়সে সেখানে গিয়ে হাই স্কুলে ভর্তি হই। পরে আবার ১৮-১৯ বছর বয়সে নেদারল্যান্ডসে ফিরে ক্রিকেট খেলা শুরু করি। সম্ভবত ২১-২২ বছর বয়সে আমার অভিষেক। গত প্রায় ৬ বছর ধরে খেলছি। দারুণ উপভোগ করছি এই ভ্রমণ।

প্রশ্ন: আপনার বাবা তো একজন রাগবি কোচ। নিউ জিল্যান্ডে ঘরোয়া ক্রিকেটেও তিনি খেলেছেন। আপনার ক্যারিয়ারে তার প্রভাব কতটা?

ও’ডাউড: আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন বাবা। তিনি নিজে পেশাদার ক্রিকেট খেলেছেন অকল্যান্ডের হয়ে। তার সঙ্গে যে কোনো সময় খেলা নিয়ে কথা বলতে পারি। তিনি তো আমাকে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করতেই থাকেন, ‘উইকেট কেমন?’ ‘বল টার্ন করছে কি না?’ ‘উইকেট ভালো কি না?’ ‘বোলাররা কেমন?’ ‘আশপাশের মানুষরা ভালো কি না?’  

আমার বাবা এমন একজন মানুষ, যার সঙ্গে সবসময়ই খেলা নিয়ে কথা হয়। তিনি যে কোনো সময় আমার পাশে থাকেন। যেটা বললাম, তিনি আমার ক্যারিয়ারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

প্রশ্ন: এখনও তো নিউ জিল্যান্ডে থাকেন?

ও’ডাউড: হ্যাঁ, তবে স্থায়ীভাবে নয়। ছয় মাস করে নিউ জিল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসে থাকি। কারণ শীতের সময় নেদারল্যান্ডসে কোনো ক্রিকেট হয় না। তাই তারা (ক্রিকেট বোর্ড) চায় ক্রিকেটাররা যেন বাইরের দেশে গিয়ে খেলে।

তবে এখন পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। নেদারল্যান্ডসেও খেলা বেড়েছে। এখন প্রায় ৮-৯ মাস নেদারল্যান্ডসে থাকতে হয়। বাকি ৩ মাস নিউ জিল্যান্ডে থাকি।

প্রশ্ন: এখনও ক্রিকেট খেলছেন। এর মধ্যেই কোচিংয়ে নাম লিখিয়েছেন। পেছনের ভাবনাটা কি? 

ও’ডাউড: হ্যাঁ, আমার নিজের ক্রিকেট একাডেমি আছে অকল্যান্ডে। সেখানে ক্রিকেট শেখাই। এখন বিপিএল খেলতে এখানে চলে এসেছি।এখন আমার পক্ষে ওখানকার মানুষদের ক্রিকেট শেখানো কঠিন (হাসি)।

বাচ্চারা ও ভালো ক্রিকেটার যারা আমার থেকে শিখতে চায়, মূলত তাদের জন্য শুরু করেছিলাম। আমি নিজে ক্যারিয়ারের অনেক দিন পরে এসে অনেক কিছু শিখেছি, যেগুলো ছোট বয়সে শিখতে পারলে ভালো হতো। সেই ভাবনা থেকেই এই প্রোগ্রাম শুরু করেছি। আশা করি এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটাররা উপকৃত হবে। 

প্রশ্ন: নেদারল্যান্ডসে তো ফুটবলের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। ক্রিকেটের অবস্থান আসলে ঠিক কোথায়?

ও’ডাউড: এটি খুব বেশি শক্ত নয়। নেদারল্যান্ডসে হয়তো ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ ক্রিকেট খেলে বা ক্রিকেট সম্পর্কে জানে। আমরা ভালো খেলতে পারলে এই খেলাটির জন্যও ভালো হয়। অবশ্যই আমরাও ভালো ক্রিকেট খেলে এই খেলার একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাই, যাতে মানুষ ক্রিকেট দেখার আগ্রহ পায় ও আরও মানুষ এতে যুক্ত হয়। কারণ নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেট কমিউনিটি খুব ছোট।

প্রশ্ন: এই কথা নিশ্চয়ই প্রায়ই শোনেন যে নেদারল্যান্ডসে ক্রিকেট জনপ্রিয় নয়। খারাপ লাগে না?

ও’ডাউড: তা কিছুটা লাগে। কারণ আমরা যখন ক্রিকেট খেলছি, একটা চাওয়া থাকে মানুষ যেন বুঝতে পারে আমরা কী করছি, এর গুরুত্ব কী। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের মতো জায়গায় ক্রিকেট খেললে এখানের মানুষের প্যাশনটা বোঝা যায়। এখানে ক্রিকেট খেলা অনেকটা ধর্মের মতো। এখানে মানুষ প্রায় সব ক্রিকেটার সম্পর্কে জানে, তাদের চেনে। নেদারল্যান্ডসের আমাদের এই অভিজ্ঞতা নেই। 

তবে এটিই শেষ কথা নয়। আমাদের সামনে এখনও অনেক সুযোগ আছে। আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে খেলি। তবে ক্রিকেট আরও জনপ্রিয় হওয়ার জন্য প্যাশনটা প্রয়োজন।

প্রশ্ন: নেদারল্যান্ডসে কোনো সংবাদমাধ্যমে ক্রিকেটের জন্য তেমন জায়গা থাকে না সাধারণত। টিভিতেও খেলা সম্প্রচারিত হয় না। এমন অবস্থায় খেলাটি কিভাবে সামনের দিকে এগোবে?

ও’ডাউড: তা খুব কঠিন। আমি মনে করি, জাতীয় দল খুব ভালো পারফর্ম করলে ক্রিকেট এগোতে পারে। বড় মঞ্চে জাতীয় দল ভালো খেললে উঠতি ক্রিকেটাররা অনুপ্রেরণা পাবে। 

যদি টিভিতে জাতীয় দলের খেলা না দেখা যায়, তাহলে কারও জন্য খেলাটি নিয়ে স্বপ্ন দেখা কঠিন। কারণ তারা জানতে পারে না, বাইরের দুনিয়ায় আসলে কী হচ্ছে। কেউ হয়তো চিন্তা করে যে ক্রিকেট খেলবে। কিছুদিন পর দেখা যায় সে নেদারল্যান্ডসের হয়ে খেলছে। কিন্তু কেউই জানতে পারে না। 

বাংলাদেশে জন্মের পর থেকেই ক্রিকেটের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে সবার। টিভিতে সাকিব, আফিফদের খেলা দেখা যায়। এতে করে তাদের মতো হওয়ার একটা অনুপ্রেরণা কাজ করে। নেদারল্যান্ডসে আমাদের এটি নেই। আমাদের এখন এটিই প্রয়োজন।

প্রশ্ন: নেদারল্যান্ডসের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান আপনি। এটি নিশ্চয়ই ক্যারিয়ারের অন্যতম গর্বের মুহূর্তঁ

ও’ডাউড: অবশ্যই! নেদারল্যান্ডসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করা অনেক বড় অর্জন। এটি এমন একটি দিন, যা আসলে ভোলার মতো নয়। আমার বাবাও এটি নিয়ে গর্বের কথা বলেছেন। তবে আমি জানি, আমি যা-ই করি না তিনি সবসময় আমাকে নিয়ে গর্ব করেন। 

প্রশ্ন: গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের শেষ ম্যাচটা নিশ্চয়ই ভোলার মতো নয়। ওই দিনের যদি গল্পটা বলতেন...

ও’ডাউড: ওই ম্যাচটি! অসাধারণ ছিল। আমাদের মধ্যে সবসময়ই বিশ্বাসটা ছিল যে আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষেও পারফর্ম করতে পারব। শেষ পর্যন্ত সবকিছু একসঙ্গে আমাদের পক্ষে কাজ করে এবং আমরা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে সক্ষম হই। সেই অভিজ্ঞতা অবশ্যই ভোলার মতো নয়। তবে আমাদের বিশ্বাস ছিল আমরা কী করতে পারি এবং কী সামর্থ্য আছে। আশা করি ভবিষ্যতে আমরা ধারাবাহিকভাবে এমন জয় পাব।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপে অমন আনন্দ যেমন হয়েছে, তেমনি বিষাদও তো এসেছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে আপনি রান আউট হয়েছিলেন। দলও চাপে পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত হেরে যান। কী মনে হচ্ছিল তখন?

ও’ডাউড: হ্যাঁ! আফিফ (হোসেন) খুব ভালো ফিল্ডিং করেছিল। খুব হতাশাজনক ছিল সেটি। আমাদের পুরো দলের জন্যই আসলে হতাশার ছিল। বিশ্বকাপে ওই ম্যাচটিই আমরা সবচেয়ে খারাপ খেলেছি। খুব সম্ভবত ৮ রানে (৯ রানে) হেরেছিলাম। পাওয়ার প্লে’র মধ্যে (১৫ রানে) ৪ উইকেট পড়ে যায়। তা না হলে ম্যাচের গল্পটা ভিন্নও হতে পারত।

প্রশ্ন: নেদারল্যান্ডসের এখনকার প্রধান কোচ রায়ান কুক তো কয়েক বছর বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে কাজ করে গেছেন। এখানে আসার আগে কথা হয়েছে তার সঙ্গে?

ও’ডাউড: হ্যাঁ, তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে লম্বা সময় কাজ করেছেন। এখানকার আবহাওয়া-কন্ডিশন সম্পর্কে কিছু ধারণা দিয়েছেন তিনি। আমি নিজে থেকেও অনেক কিছু জিজ্ঞেস করেছি। রায়ান আমাকে খুব সাহায্য করেছেন। 

প্রশ্ন: আফিফ হোসেনের সঙ্গে নাকি আপনার দারুণ জমে গেছে!

ও’ডাউড: দেখুন, আফিফ খুব শান্ত প্রকৃতির ছেলে। খুব বেশি কথা বলে না। আমিও অনেকটা এরকম। তেমন কথা-টথা বলি না। চুপচাপ থাকি। তবে আমি ও আফিফ নানান বিষয়ে কথা বলি। বিশেষ করে, সে ভালো ইংরেজি বলে (হাসি)। এটি যোগাযোগ আরও সহজ করে দেয়।

আমরা একসঙ্গে  ফিফা (ফুটবল গেম) খেলি। এতেও আসলে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। এখনও অবশ্য মুখোমুখি ম্যাচ খেলিনি আমরা। হয়তো ঢাকায় গিয়ে খেলব। তবে আফিফ খুব ভালো ফিফা খেলে। 

প্রশ্ন: দেশের বাইরের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে প্রথমবার খেলছেন। বিপিএলে দল পাওয়ার খবরটা প্রথম কিভাবে পেলেন?

ও’ডাউড: আমি তখন বান্ধবীর সঙ্গে সিনেমা দেখছিলাম। রাত প্রায় সাড়ে ১১টা বাজে সম্ভবত। আমার এজেন্ট অভিনন্দন জানিয়ে ম্যাসেজ পাঠায়। আমি তো অবাক, ‘অভিনন্দন কী জন্য জানাচ্ছে!’ আমার কোনো ধারণাই ছিল না। ড্রাফটের কথা পুরোপুরি ভুলে গিয়েছিলাম। তখন সে (এজেন্ট) বলল, বিপিএলে দল পাওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে।

এটি শুনে টুইটারে গিয়ে নাম লিখে সার্চ দেই। সেখানে দেখতে পাই, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স আমাকে দলে নিয়েছে। আমি তখন ঘরের মাঝে দাঁড়িয়ে দুই হাত ছড়িয়ে উদযাপন করি। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলার জন্য অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। অবশেষে স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে খুব ভালো লেগেছে।

প্রশ্ন: টুর্নামেন্টের যদিও এখনও শুরুর সময়, তার পরও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের সঙ্গে অভিজ্ঞতা এখনও পর্যন্ত কেমন?

ও’ডাউড: অসাধারণ! দলটি তরুণদের নিয়ে গড়া। প্রথম ম্যাচে হারের পর দল হিসেবে আমরা একতাবদ্ধ থেকেছি। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওই ম্যাচের ভুলগুলো থেকে শেখার চেষ্টা করেছি আমরা। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে সবকিছু কীভাবে বদলে গেল, সবাই দেখেছেন। 

অবশ্যই যখন বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রিকেটাররা এক দলে আসে, তখন গুছিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগে। তবে আমরা এখন কাজটি ভালোভাবে করছি। অনুশীলনে সবাই পরিশ্রম করছে। (জুলিয়ান) উডসহ কোচিং স্টাফের সবাই খুব সাহায্য করছেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক