ইফতিখারের স্বপ্ন পূরণের সারথি সাকিব

সাকিবের সহায়তা পেয়েই শতরানের দিকে এগিয়ে যান ইফতিখার।

ক্রীড়া প্রতিবেদকচট্টগ্রাম থেকেবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Jan 2023, 06:25 PM
Updated : 19 Jan 2023, 06:25 PM

শেখ মেহেদি হাসানের  ডেলিভারি অন সাইডে ঠেলে দিয়ে রানের জন্য ছুটলেন ইফতিখার আহমেদ। রান পূর্ণ হওয়ার আগেই আনন্দের দোলায় শুরু হলো তার উদযাপন। হেলমেট খুলে ব্যাট বাতাসে ঘুরিয়ে দিলেন বেশ এক চোট। অপরপ্রান্তে সাকিব আল হাসানও উল্লসিত। আলিঙ্গনে জড়ালেন তিনি ইফতিখারকে।

এই উদযাপনে যেমন, তেমনি ইফতিখারের সেঞ্চুরির পথেও এগিয়ে চলাও যুগলবন্দিতেই। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানের স্বপ্ন ছিল এই সংস্করণের। এই ম্যাচে শতরানের সুবাস পেয়ে তিনি সহায়তা চান সাকিবের। ফরচুন বরিশাল অধিনায়কও সানন্দে বাড়িয়ে দেন হাত। 

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে পঞ্চম উইকেটে ১৯২ রান যোগ করেন সাকিব ও ইফতিখার। স্রেফ ৪৬ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর অবিস্মরণীয় প্রদর্শনীতে দুজন মিলে দলকে নিয়ে যান ২৩৮ রানে।

শেষ পর্যন্ত ইফতিখার অপরাজিত থাকেন ৪৫ বলে ঠিক ১০০ রান করে। ৬ চারের সঙ্গে ৯টি ছক্কায় সাজান তিনি নিজের ইনিংস। সাকিবের ব্যাট থেকে আসে ৪৩ বলে ৮৯ রান। ইফতিখারের মতো তারও টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ স্কোর এটি।

ম্যাচ সেরা হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে ইফতিখার জানালেন, তার শতরানের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হয়েছে সাকিবের সহায়তা পেয়ে।

“পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে একটা স্বপ্ন থাকে যে সব সংস্করণে সেঞ্চুরি করব। উইকেটে সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে এটি নিয়ে কথা হচ্ছিল যে, সেঞ্চুরি করার স্বপ্ন আমার। তিনিও সাপোর্ট দিলেন, ‘আপনি এগিয়ে যান, যেভাবে খেলতে চান, সেভাবে খেলুন।’ শেষ পর্যন্ত সেটা অর্জন করতে পেরেছি।”

“যখন ৫০ করলাম, তখন সাকিব ভাইকে বললাম, “আমি শতরানের দিকে ছুটব।’ তিনিও সাপোর্ট করে বলছিলেন, ‘আমি আপনাকে সুযোগ দেব, একশর দিকে যান।’ ওভাবেই হয়ে গেল।”

ইনিংসের ১৮ ওভার শেষে সাকিবের নামের পাশে ছিল ৩৮ বলে ৭২ রান। ইফতিখারের রান তখন ৭০। সেখান থেকে শেষ ওভারে তৃতীয় বলে ইফতিখার পৌঁছে যান সেঞ্চুরিতে।

ইফতিখার আবারও বললেন, তার সেঞ্চুরির ভাবনায় সঙ্গী হয়েই এগিয়ে যান সাকিব।

“তার সঙ্গে এই আলোচনাই হচ্ছিল যে আমি শতরানের জন্য চেষ্টা করব। তিনি বলছিলেন, ‘আপনার যেটা শক্তির জায়গায়, সেভাবেই এগোতে থাকেন। আপনাকে সাপোর্ট করে যাব, সিঙ্গেল নিয়ে দেব, কোনো সমস্যা নেই। শতরানের দিকে এগিয়ে যান।’ সেটিই হয়েছে শেষ পর্যন্ত।”

পরে আরেক দফায় ইফতিখার বলেন, ৭০ রান হওয়ার পর সাকিবকে তিনি বলেন যে সেঞ্চুরির পথে ছুটবেন, বেশি বেশি স্ট্রাইক পেতে চান।

শেষ দুই ওভারে ৩০ রান তোলেন ইফতিখার। স্বদেশি হারিস রউফের করা ১৯তম ওভারে মারেন টানা তিন ছক্কা। শেখ মেহেদির শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে চার ও ছয় মেরে পৌঁছে যান ৯৯ রানে। পরের বলে এক রান নিয়ে স্বপ্ন পূরণ করেন তিনি। 

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ইফতিখারের রয়েছে ১২টি সেঞ্চুরি। লিস্ট ‘এ’তে শতরানের দেখা পেয়েছেন ৯ বার। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে এতদিন ধরে তার সর্বোচ্চ ছিল ৯০ রান। পেশোয়ারের হয়ে ২০১৫ সালে সেটি করেন তিনি। প্রায় ৮ বছর পর এবার টি-টোয়েন্টিতে পেলেন সেঞ্চুরি।

১৯২ রানের জুটিতে যে বিশ্ব রেকর্ড হয়েছে, এটা অবশ্য জানতেন না ইফতিখার। জানার পর সহাস্যে বললেন, ‘এটা তো খুব খুশির খবর!’ সাকিবের সঙ্গে ১৪ ওভারের বেশি সময় ধরে এই জুটি দারুণ উপভোগ করেছেন ইফতিখার।

“সাকিব ভাই দারুণ একজন ক্রিকেটার। সবসময় সব জায়গায় পারফর্ম করেছেন তিনি। এই ধরনের কিংবদন্তির সঙ্গে উইকেটে খেললে অনুপ্রেরণা কাজ করে। কারণ তিনি এমন একজন ক্রিকেটার, যিনি সবসময় বলেন নিজের শক্তির জায়গা ধরে এগোতে।”

“যখন আমি বললাম যে অফ স্পিনারকে মারব, তিনি বললেন, “অবশ্যই, যেটা ভালো মনে করুন, সেটাই করুন। কে কোথায় আছেন (ফিল্ডিংয়ে), দেখার দরকার নেই। সাকিব সেরা ক্রিকেটারদের একজন, সেরা মানুষদেরও একজন।”

গত মাসে আবু ধাবি টি-টেন টুর্নামেন্টের পর এবার বিপিএলে সাকিবের নেতৃত্বে খেলে মুগ্ধ ইফতিখার। এমন অধিনায়ক তিনি কমই দেখেছেন ক্যারিয়ারে।

“সাকিব দারুণ একজন অধিনায়ক। অনেকের সঙ্গেই আমি খেলেছি… সম্প্রতি টি-টেন ক্রিকেটেও তার নেতৃত্বে খেলেছি আমি, তিনি ক্রিকেটারদের যেভাবে প্রেরণা জোগান, খুব কম অধিনায়কই এতটা করেন। আমাদের দলে জুনিয়র ক্রিকেটারও আছে। ভুল তো হয়েই থাকে। ভুল না হলে তো আর মানুষ নয়। কিন্তু ওদেরও তিনি এত এত সাপোর্ট করেন… এরকম অধিনায়ক খুব কম দেখা যায়।”

ইফতিখারের ক্যারিয়ারে ভালো ইনিংস আছে বেশ কটিই। তবে এটি তার কাছে আলাদা জায়গা নিয়ে থাকবে বলেই জানালেন।


“এটা আমার জীবনের সুন্দর একটি ইনিংস। আমি নিজে খুব উপভোগ করেছি। এই কারণে সুন্দর ইনিংস ছিল, কারণ দল বিপদে ছিল। ৩-৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিলাম। সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করতে এরকম ইনিংস খেলা, জয় উদযাপন করা বড় বিষয়। আনন্দের বিষয়। দল জেতার থেকে বড় কিছু নেই।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক