দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে ব্রুকের বিধ্বংসী ২০২
ওয়ানডে ক্রিকেটে এই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন ইংল্যান্ডের কোনো ব্যাটসম্যান।
শেষ ওভারে জানিথ লিয়ানাগের লো ফুল টস স্কুপ করে ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠালেন হ্যারি ব্রুক। ১৯৬ থেকে তিনি পৌঁছে গেলেন দুইশতে। ইংল্যান্ড অধিনায়কের নাম খোদাই হয়ে গেল ইতিহাসের পাতায়।
ওয়ানডে ক্রিকেটে এই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন ইংল্যান্ডের কোনো ব্যাটসম্যান। এই সংস্করণে দ্রুততম দ্বিশতকের রেকর্ডও এখন ব্রুকের। ত্রিদেশীয় সিরিজে বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনি দুইশ স্পর্শ করেন ১১৪ বলে।
আগের রেকর্ডটি ছিল শুবমান গিলের। গত মাসে গুয়াহাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১১৭ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন ভারত অধিনায়ক।
২১ চার ও ১০ ছক্কায় ১১৬ বলে ২০২ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন ব্রুক। ইংল্যান্ডের হয়ে আগের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ছিল বেন স্টোকসের ১৮২, ওভালে ২০২৩ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে।
শুধু বাউন্ডারি (চার ও ছক্কা) থেকেই ব্রুকের রান ১৪৪, এটিও ইংল্যান্ডের রেকর্ড। ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জস বাটলারের ১৫০ রানের ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে এসেছিল আগের রেকর্ড ১২৪।
ব্রুকের শুরুটা ছিল মন্থর। প্রথম ২৪ বলে তার রান ছিল ১৩। রানের গতি বাড়িয়ে পরের ৫১ বলে পৌঁছে যান সেঞ্চুরিতে। সেখান থেকে দেড়শতে যেতে লাগে ২২ বল, পরের ১৭ বলে পা রাখেন দুইশতে। অর্থাৎ সেঞ্চুরি থেকে ডাবলে যেতে লাগে স্রেফ ৩৯ বল।
রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে টম ব্যান্টন ও বেন ডাকেটের ৭৪ রানের উদ্বোধনী জুটিতে শক্ত ভিত পায় ইংল্যান্ড। দুনিথ ওয়েলালাগের পরপর দুই ওভারে এই দুজনের বিদায়ের পর ১৭তম ওভারের শুরুতে ক্রিজে যান ব্রুক।
প্রথম ২৪ বলে ১৩ রানের পর, কামিন্দু মেন্ডিসকে টানা দুটি ছক্কায় ডানা মেলেন তিনি। পঞ্চাশ পূর্ণ করেন ৪২ বলে। ৬৬ বলে ৬৯ রান করে বিদায় নেন জো রুট। থামে ১২৭ বলে ১৫৯ রানের জুটি।
উইল জ্যাকসের সঙ্গে জুটি বেঁধে ব্রুক চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৭৫ বলে। এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই গত জানুয়ারিতে করা নিজের আগের সর্বোচ্চ ১৩৬ ছাড়িয়ে যান তিনি। লঙ্কান বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে ৯৭ বলে দেড়শতে পৌঁছে যান ২৭ বছর বয়সি ব্যাটসম্যান।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে আগের সর্বোচ্চ ২০১১ বিশ্বকাপে অ্যান্ডু স্ট্রাউসের ১৫৮ ছাড়িয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান ব্রুক। ৪৭তম ওভারের শেষ দুই বলে ইশান মালিঙ্গাকে দুটি চার মেরে তার রান হয়ে যায় ১৭৭।
পরের আট বলে আর স্ট্রাইক পাননি তিনি। এই সময়ে তিনটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন জ্যাকস। ৪৯তম ওভারের তৃতীয় বলে স্ট্রাইক পেয়েই দিলশান মাদুশাঙ্কাকে ছক্কা হাঁকিয়ে স্টোকসের ১৮২ রান ছাড়িয়ে যান ব্রুক।
ওই ওভারের শেষ বলে ১৮৫ রানে আউট হতে পারতেন তিনি, কিন্তু ক্যাচ নিতে পারেননি ফিল্ডার।
১৮৬ রান নিয়ে শেষ ওভার শুরু করে লিয়ানাগের প্রথম বলে ছক্কায় ওড়ান ব্রুক। পরের দুই বলে নেন দুটি করে রান। আর চতুর্থ বলে চার মেরে পৌঁছে যান ডাবল সেঞ্চুরির ঠিকানায়।
শেষ বলে থামে ব্রুকের দুর্দান্ত ইনিংস। জুটি থামে ৭৯ বলে ১৮৫ রানে। আট চার ও তিন ছক্কায় জ্যাকস অপরাজিত রয়ে যান ৩০ বলে ৬৬ রানে।
৫০ ওভারে ইংল্যান্ড তোলে ৪ উইকেটে ৪২৯ রান। এই সংস্করণে যা তাদের চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বোচ্চ।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এতদিন চারশ রানের সংগ্রহও ছিল না ইংল্যান্ডের। ২০১৮ সালে কলম্বোয় ৩৫৭ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ।
ওয়েলালাগে ৫৬ রানে দুটি উইকেট নিতে পারলেও, শ্রীলঙ্কার অন্য বোলাররা প্রচুর রান দিয়েছেন। ১০ ওভারে মালিঙ্গা দিয়েছেন ৯১, মাদুশাঙ্কা ৮৯। দাসুন শানাকা ৬ ওভারেই দিয়েছেন ৭৪।
