১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সাদাকাতের বিধ্বংসী ৯৬, শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে সিরিজ পাকিস্তানের

বড় সংগ্রহ গড়ে শ্রীলঙ্কাকে পাত্তা না দিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিল পাকিস্তান।

সাদাকাতের বিধ্বংসী ৯৬, শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে সিরিজ পাকিস্তানের

ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে পাকিস্তানের জয়ের নায়ক মাজ সাদাকাত। ছবি: পাকিস্তান ক্রিকেট টিম ফেইসবুক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Oct 2026, 10:43 PM

Updated : 11 Oct 2026, 11:13 PM

আগের ম্যাচ যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন আবার শুরু করলেন সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। দুজন ফের উপহার দিলেন বিধ্বংসী ইনিংস। তাতে যে উচ্চতায় উঠল পাকিস্তানের স্কোর, তার ধারেকাছে যেতে পারল না শ্রীলঙ্কা।

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৮২ রানের জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জিতে নিল সাহিবজাদার দল।

এই দুই দলের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে রানের হিসাবে সবচেয়ে বড় জয় এটিই। ২০১৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কার ৬৪ রানে জয় ছিল আগের রেকর্ড।

রাওয়ালপিন্ডিতে রোববার পাকিস্তান ২০ ওভারে করে ৩ উইকেটে ২১৫ রান। এই সংস্করণে তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ স্কোর এটি।

জবাবে শুরু থেকে ধুঁকতে থাকা শ্রীলঙ্কা কোনোমতে যেতে পারে ১৩৩ পর্যন্ত।

সাত ছক্কা ও ছয় চারে ৫১ বলে ৯৬ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে পাকিস্তানের নায়ক সাদাকাত। প্রথম ম্যাচে রান তাড়ায় ২৯ বলে ৫০ রান করেছিলেন ২১ বছর বয়সি এই ব্যাটসম্যান।

ওই ম্যাচে ৫৩ বলে ৮৯ রান করে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হওয়া ওপেনার সাহিবজাদা এবার করেন ৪৪ বলে ৭৩। চারটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় গড়া পাকিস্তান অধিনায়কের ইনিংসটি।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুতে ঝড়ের ইঙ্গিত তেমন একটা ছিল না। পাওয়ার প্লেতে আসে ৪৬ রান। পরের ওভারে বিদায় নেন ফাখার জামান (১৭ বলে ২২)। থামে ৪১ বলে ৫৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।

এরপর, প্রথম ম্যাচের মতোই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন সাহিবজাদা ও সাদাকাত।

৩১ বলে ফিফটি করেন সাহিবজাদা। পঞ্চদশ ওভারে দাসুন শানাকাকে পরপর ছক্কা ও চারের পরের বলে ক্যাচ দিয়ে থামেন তিনি। ভাঙে ৪৯ বলে ৮৮ রানের বিস্ফোরক জুটি।

ক্যারিয়ারের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা সাদাকাত ছক্কা মেরে দ্বিতীয় ফিফটি করেন ৩০ বলে। এক বল পর তিনি ছক্কা মারেন আরও দুটি।

৯২ রান নিয়ে শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে স্ট্রাইক পেয়ে রান নিতে পারেননি সাদাকাত। পরের দুই বলে দুই রান করে নেন তিনি। পঞ্চম বলে ইশান মালিঙ্গার আরেকটি স্লোয়ারে তিনি ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি। শেষ বলে ছক্কার চেষ্টায় ডিপ কাভারে ধরা পড়েন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

গত মাসে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালসহ প্লে অফে দুটি সেঞ্চুরি করেন সাদাকাত। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে সাত ম্যাচের মধ্যে তৃতীয় সেঞ্চুরি পেলেন না তিনি ৪ রানের জন্য।

হাসান নাওয়াজের (৯ বলে ১৯*) সঙ্গে সাদাকাতের জুটিতে আসে ৩১ বলে ৭২ রান। শেষ ছয় ওভারে পাকিস্তান তোলে ৮৪।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ভালো শুরু। কিন্তু শুরুতেই ধুঁকতে থাকে তারা। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে করতে পারে কেবল ৩৫ রান। প্রথম ম্যাচে ৯১ রান করা লাহিরু উদারা এবার থামেন ৫ রানে।

ওই ম্যাচে অভিষেকে ২১ রানে দুটি উইকেট নেওয়া মোহাম্মাদ ইমরান এবারও দারুণ বোলিং করেন।

নিজের দ্বিতীয় ওভার তিনি ফিরিয়ে দেন সিনেথ জায়াওয়ার্দেনাকে। পরের ওভারে বিদায় করেন কুসাল মেন্ডিস ও সাহান আরাচ্চিগেকে।

চার ওভারে স্রেফ ১১ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন ২৯ বছর বয়সি এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।

কামিন্দু মেন্ডিস, শানাকারাও ভালো করতে পারেননি। চামিন্দু উইক্রামাসিংহে (২৪ বলে ২৯) ও থিকশানার (২৬ বলে ৩২*) ব্যাটে পরাজয়ের ব্যবধানই শুধু কমাতে পারে শ্রীলঙ্কা।

একই মাঠে আগামী মঙ্গলবার শেষ ম্যাচে সফরকারীদের সামনে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর চ্যালেঞ্জ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ২১৫/৩ (সাহিবজাদা ৭৩, ফাখার ২২, সাদাকাত ৯৬, নাওয়াজ ১৯*; বিনুরা ৪-০-৪২-০, থুশারা ৪-০-৩২-০, থিকশানা ৪-০-৫৫-১, মালিঙ্গা ৪-০-৪১-১, শানাকা ৩-০-৩০-১, কামিন্দু ১-০-১৫-০)

শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৩৩/৭ (উদারা ৫, জায়াওয়ার্দেনা ২২, কুসাল মেন্ডিস ৯, কামিন্দু মেন্ডিস ২৩, আরাচ্চিগে ০, শানাকা ৯, উইক্রামাসিংহে ২৯, থিকশানা ৩২*, বিনুরা ০*; সালমান ৩-০-২৮-২, নাসিম ৪-০-২৮-০, ইমরান ৪-০-১১-৩, আবরার ৩-০-২৬-০, সাইম ৩-০-১৯-১, শাদাব ৩-০-১৯-১)

ফল: পাকিস্তান ৮২ রানে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-০তে এগিয়ে পাকিস্তান

ম্যান অব দা ম্যাচ: মাজ সাদাকাত