Published : 21 Jan 2024, 06:01 PM
নেটে ঢোকার আগে মিরপুরের একাডেমি মাঠে ফটোশুটের জন্য তৈরি হচ্ছিলেন অ্যালেক্স রস। দূর থেকে তাকে দেখে এগিয়ে গেলেন বেন কাটিং। বেশ কিছুক্ষণ ধরে কথা বললেন দুজন, হালকা খুনসুটি করতেও দেখা গেল। এখানে দুজন দু্ই দলের। রস খেলবেন দুর্দান্ত ঢাকার হয়ে, কাটিং খেলছেন সিলেট স্ট্রাইকার্সে। তবে দুজনের দেশ একই। এক সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার দুই ক্রিকেটারের এই ছবিটা বিপিএলের বাস্তবতায়ও একটু অন্যরকম।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততা, বিগ ব্যাশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সূচি কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেটের আসর, সব মিলিয়ে গত কয়েক আসর ধরে বিপিএলে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের উপস্থিতি অনেকটাই কম। চলতি বিপিএলে এখন পর্যন্ত এসেছেন স্রেফ এই দুজনই। নতুন করে কারও আসার সম্ভাবনা আপাতত নেই।
বল টেম্পারিং কাণ্ডে দেশের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ থাকায় ২০১৯ সালের শুরুতে হওয়া বিপিএলে একসঙ্গে খেলেছিলেন স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার। এর আগে ব্র্যাড হজ, শন টেইট, ডার্ক ন্যানেসদের দেখা গেছে বিভিন্ন আসরে। এখনকার বাস্তবতায় বিপিএলে অস্ট্রেলিয়ানদের অংশগ্রহণ বিরলই বটে।
বেশ লম্বা সময় পর এবার এলেন অস্ট্রেলিয়ার দুজন। প্রথম দিনের অনুশীলন শেষে রস জানালেন, তাদের ছোট্ট আড্ডায় ক্রিকেটের উপস্থিতি ছিল না।
“(কাটিং) কোনো পরামর্শ দেয়নি। তবে সে বলেছে, এখানে দুটি ভালো খাবারের দোকান আছে, ভালো স্টেক আছে। এখনও ক্রিকেট নিয়ে কিছু বলেনি। তবে ওর সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগছে। (প্রতিপক্ষ হওয়ায়) সে হয়তো আমাকে ভুল তথ্য দেবে… (হাসি)।”
কাটিং এমনিতে বিশ্ব ক্রিকেটের পরিচিত নাম। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি তো খেলেছেনই। আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, কলকাতা নাইট রাইডার্সের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিসহ ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে খেলেছেন নানা দেশের লিগে। এখন অবশ্য ততটা চাহিদা নেই ৩৬ বছর বয়সী এই পেস বোলিং অলরাউন্ডারের। এবার বিগ ব্যাশেও যেমন, খেলার সুযোগ পাননি।
নিজ দেশের টি-টোয়েন্টি লিগ শেষ করেই বিশ্বের আরেক প্রান্তের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে এলেন রস। শনিবার দুপুরে বাংলাদেশে পৌঁছান তিনি।
এবারের বিগ ব্যাশ তেমন ভালো কাটেনি রসের৷ সিডনি থান্ডারের হয়ে ৮ ইনিংসে ২০.৫০ গড় ও ১১৫.৪৯ স্ট্রাইক রেটে করেন ১৬৪ রান৷ ফিফটি ছিল না একটিও। স্রেফ এক জয়ে তলানিতে থেকে আসর শেষ করে তার দল।
এমনিতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের কন্ডিশনে মিল দেখা যায় না তেমন। তবে এবারের অভিজ্ঞতা একটু ভিন্ন ছিল তার। সেই অভিজ্ঞতা বিপিএলে কাজে লাগবে বলে আশা ৩১ বছর বয়সী মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যানের।
“আমরা এবার বিগ ব্যাশে কিছু ম্যাচে এরকম উইকেট পেয়েছি, ব্যাটিংয়ের জন্য যা ভালো ছিল না। স্পিন করা বলের বিপক্ষে খেলার কিছুটা অভিজ্ঞতা হয়েছে, উইকেটও মন্থর ছিল। টিভিতে যতটা দেখা যায় (কন্ডিশন) ততটা ভিন্নও নয়। এখানে খেলার জন্য মুখিয়ে আছি এখন।”
উপমহাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা আগেই আছে তার। গত বছর লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে তিনি খেলেছেন ডাম্বুলা অরার হয়ে। এবার প্রথম বিপিএল খেলতে এসে শ্রীলঙ্কার ওই অভিজ্ঞতার ফায়দা নিতে চান রস।

“নেটে লম্বা সময় ব্যাটিং করেছি। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আমি শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ খেলেছি গত বছর। ওইখানে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তা এখানে কাজে দেবে। অনুশীলন উইকেটে অনেক মিল। তবে আমি দলের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শুনেছি, ম্যাচের উইকেট কিছুটা ভালো।”
২০১৬ সালে ‘ডন ব্র্যাডম্যান ইয়াং ক্রিকেটার অব দা ইয়ার’ পুরস্কার জয়ী রসের পরবর্তীতে ক্যারিয়ার প্রত্যাশামতো এগোয়নি। ঘরোয়া ক্রিকেটেও তেমন বড় নাম নন তিনি।
তবে স্পিনের বিপক্ষে বেশ কার্যকারিতার সঙ্গেই তিনি খেলেন সুইপ শট। বিগ ব্যাশে সুইপ শটের সাবলিল ব্যবহার দেখে তাকে ‘সুইপোলজিস্ট’ নাম দিয়ে দেন ধারাভাষ্যকাররা।
বাংলাদেশের কন্ডিশনে এবার নিজের সেই নামের প্রমাণ দিতে চান তিনি।
“আমার মনে হয় সুইপ শট এখানে খুব কার্যকর হবে। সেদিন দেখেছি উইকেট বেশ শুষ্ক। এখানে ক্রিজ ছেড়ে খেলতে চাইবে না কেউ। সুইপ এবং রিভার্স সুইপে বাউন্ডারির চেষ্টা করব। বিশেষ করে, অল্প রানের ম্যাচে স্পিনের বিপক্ষে চাপ সৃষ্টি করতে পারলে ভালো। আশা করি সেটা করতে পারব। আগামী কয়েকদিন এটিরই চেষ্টা করব।”