সাকিবের আরেকটি ঝড়ো ফিফটি, সবার আগে প্লে-অফে রংপুর

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ১৮ রানে হারিয়ে টানা সপ্তম জয়ে প্রথম দল হিসেবে প্লে-অফের টিকেট নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Feb 2024, 05:14 PM
Updated : 16 Feb 2024, 05:14 PM

বাঁহাতি স্পিনার সাকিব আল হাসানের বলে সিঙ্গেল না নিয়ে স্ট্রাইক ধরে রাখলেন রোমারিও শেফার্ড। নন স্ট্রাইকে থাকা শহিদুল ইসলামের উদ্দেশে নুরুল হাসান সোহান বলে উঠলেন, ‘শহিদুল, ওকে বল যে তুইও ব্যাটিং পারিস।’ সোহানের ওই কথা বোঝার সম্ভাবনা নেই শেফার্ডের। তবে টর্নেডো ব্যাটিংয়ে সিঙ্গেল না নেওয়ার কারণ বেশ ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিলেন ক্যারিবিয়ান তারকা।

অবশ্য আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মাঠে উপস্থিত গুটিকতক দর্শকের জন্য বিনোদনের খোড়াক এনে দিলেও ম্যাচ জেতাতে পারেননি শেফার্ড। তার শেষের ঝড় সামলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ১৮ রানে হারাল রংপুর রাইডার্স। নিজ শহরের মাঠে ১৮৮ রানের লক্ষ্যে ৬ উইকেটে ১৬৯ রানে থামল চট্টগ্রাম।

রংপুরের টানা সপ্তম জয় এটি। সব মিলিয়ে দশ ম্যাচে আট জয়ে প্রথম দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত হলো তাদের। সমান ম্যাচে পাঁচটি করে জয়-পরাজয় চট্টগ্রামের। পয়েন্ট টেবিলে পাঁচ নম্বরে তাদের অবস্থান। 

ব্যাটিংয়ে স্বস্তি ফেরার আভাস দেওয়া সাকিব এদিন খেলেন আরেকটি পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় এদিন তার ব্যাট থেকে আসে ৩৯ বলে ৬২ রান। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন শেখ মেহেদি হাসান।

পরে বল হাতে শুরুতেই চট্টগ্রামকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। বোলিংয়েও দারুণ পারফর্ম করেন মেহেদি। যার ফলে শেষ দিকে শেফার্ড প্রাণপণ চেষ্টা করলেও তা চট্টগ্রামের জন্য যথেষ্ট হয়নি।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা রংপুরের শুরুটা হয় মন্থর। পাওয়ার প্লেতে দুই উইকেট হারিয়ে তারা করে ৪০ রান। পঞ্চম ওভারে শহিদুলের বলে বোল্ড হন রনি তালুকদার। দুটি করে চার-ছক্কায় ১৯ বলে ২৫ রান করেন সম্প্রতি জাতীয় দলে জায়গা হারানো ওপেনার। 

পরের ওভারে রিজা হেন্ডরিকসকে এলবিডব্লিউ করেন শেফার্ড। ৪ রান করতে ১১ বল খেলেন হেন্ডরিকস। তিন নম্বরে নামা ব্র্যান্ডন কিংও ব্যর্থ হন। ৯ বলে স্রেফ ২ রান করে শেফার্ডের বলে তানজিদ হাসানের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। 

দশ ওভারে রংপুরের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৬৭ রান। পরে সাকিব ও মেহেদির ঝড়ে শেষ দশ ওভারে ১২০ রান যোগ করে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলটি। 

চার নম্বরে নেমে প্রথম বলে ব্যাটের কানায় লেগে বাউন্ডারি পান সাকিব। এরপর কিছুটা সময় নেন তিনি। এক পর্যায়ে ১৫ বলে তার নামের পাশে ছিল ১২ রান। শেফার্ডকে ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা মেরে গা ঝারা দেন তিনি। নিহাদউজ্জামানকে হাঁটু গেড়ে মারেন পরের ছক্কা। 

পঞ্চদশ ওভারে জিয়াউর রহমানের বলে টানা তিন ছক্কা মারেন মেহেদি। সালাউদ্দিন শাকিলের ওভারে ছক্কা ও চার মেরে স্রেফ ৩৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন সাকিব। একই ওভারে নিজের চতুর্থ ছক্কা মারেন মেহেদি। 

বিলালের স্লোয়ারে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন ১৭ বলে ৩৪ রান করা অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার। হতাশায় স্টাম্পে ব্যাট দিয়ে আঘাত করতে গিয়েও শেষ মুহূর্তে নিজেকে সামলে নেন তিনি।
 
পরে সাকিবকে থামান শেফার্ড। স্লোয়ার লেংথ বলে ছক্কার আশায় স্লগ করেন সাকিব। ডিপ মিড উইকেটে ঠিক সীমানায় দাঁড়িয়ে দারুণ ক্যাচ নেন তানজিদ। 

শেষ দিকে শামীম হোসেনের ৯ বলে ১৭ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন। শেষ দুই বলে জোড়া চার মেরে রংপুরকে ১৮৭ রানে পৌঁছে দেন হাসান মাহমুদ।

বড় লক্ষ্যে ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের নতুন বলের তোপে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে চট্টগ্রাম। প্রথম তিন ওভারে তিনি ফেরান জশ ব্রাউন, সৈকত আলি ও তানজিদকে। পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেটে আসে মোটে ৩৯ রান।

প্রিটোরিয়াসকে টানা ৪ ওভার করান সোহান। শেষ ওভারে আর সাফল্য না পেলেও নিজের স্পেলে স্রেফ ১৪ রান দেন প্রোটিয়া পেসার। 

চাপ সামলে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন শুভাগত হোম ও টম ব্রুস। কিন্তু রানের গতি বাড়াতে পারেননি। ৪৫ রানের জুটি গড়তে তারা খেলেন ৩৯ বল।

দ্বাদশ ওভারে আক্রমণে এসে দুজনকেই ফেরান মেহেদি। ছক্কা মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দেন শুভাগত। ব্রুস ধরা পড়েন লং অফ সীমানায়।

পরে একাই লড়াই করেন শেফার্ড। চলতি আসরে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে স্রেফ ২১ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। অষ্টাদশ ওভারে হাসানের বলে তিন ছক্কা মেরে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও চট্টগ্রামের জয়ের আশা জাগান ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার।

তবে শেষ ওভারে ২৯ রানের সমীকরণে জিমি নিশামের বলে ১০ রানের বেশি নিতে পারেননি শেফার্ড। ফলে তার পাঁচ চার ও ছয় ছক্কায় ৩০ বলে ৬৬ রানের বিনোদন দেওয়া ইনিংস স্রেফ পরাজয়ের ব্যবধানই কমায়।  

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৮৭/৮ (রনি ২৫, হেন্ডরিকস ৪, কিং ২, সাকিব ৬২, সোহান ৫, মেহেদি ৩৪, নিশাম ৫, শামিম ১৭, প্রিটোরিয়াস ৩*, হাসান ৮*; বিলাল ৪-০-৩৫-১, সালাউদ্দিন ৪-০-৩৮-২, নিহাদউজ্জামান ১.৫-০-১৫-০, জিয়া ২.১-০-৩০-০, শহিদুল ৪-০-৩২-২, শেফার্ড ৪-০-২৭-৩)

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ২০ ওভারে ১৬৯/৬ (তানজিদ ১৩, ব্রাউন ৪, সৈকত ৯, ব্রুস ২৪, শুভাগত ২১, শেফার্ড ৬৬*, জিয়া ১৫, শহিদুল ***; প্রিটোরিয়াস ৪-০-১৪-৩, নিশাম ৪-০-৪২-০, হাসান ৪-০-৪০-১, সাকিব ৪-০-৩০-০, মুরাদ ২-০-১৭-০, মেহেদি ২-০-১৭-২)

ফল: রংপুর রাইডার্স ১৮ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: শেখ মেহেদি হাসান