Published : 04 May 2026, 01:21 AM
হুনাইন শাহর লেংথ ডেলিভারি লেগ সাইডে খেললেন ফারহান ইউসুফ। ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকাতে পারলেন না কিপার উসমান খান। তার পাশ দিয়ে বল চলে গেল বাউন্ডারিতে। ডাগ আউট থেকে মাঠে ছুটে গেলেন পেশাওয়ার জালমির ক্রিকেটাররা। দুই ব্যাটসম্যানকে কোলে তুলে নিলেন কেউ কেউ। চলল তাদের আনন্দ-উল্লাস। আট মৌসুম পর আবার পিএসএল চ্যাম্পিয়ন হলো পেশাওয়ার জালমি।
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) একাদশ আসরের ফাইনালে বাবর আজমের দলের জয় ৫ উইকেটে। লাহোরে রোববার আসরের নবাগত দল হায়দরাবাদ কিংসমেনের ১২৯ রান ২৮ বল হাতে রেখে পেরিয়ে যায় জালমি।
সপ্তম ওভারে ২ উইকেটে ৭১ রানের শক্ত অবস্থানে ছিল কিংসমেন। তবে নাহিদ রানা, অ্যারন হার্ডিদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পথ হারিয়ে দুই ওভার বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় তারা। ৪৮ রানের মধ্যে হারায় শেষ ৭ উইকেট।
নিজের প্রথম ওভারে ১৩ রান দিলেও, পরের তিন ওভারে একটি মেডেনে স্রেফ ৯ রান দিয়ে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও হুনাইন শাহর উইকেট নেন নাহিদ। চার ওভারে ২২ রানে ওই ২ উইকেট শিকার করেন বাংলাদেশের ফাস্ট বোলার।
অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ফাইনালের নায়ক হার্ডি। বোলিংয়ে চার ওভারে ২৭ রানে ৪ উইকেট নেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। পরে চাপের মুখে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ চারে ৩৯ বলে ৫৬ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন তিনি।
পিএসএলে জালমির দ্বিতীয় শিরোপা এটি। প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা ২০১৭ সালে দ্বিতীয় আসরে।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় জালমির শুরুটা ভালো ছিল না। প্রথম ওভারে বিদায় নেন মোহাম্মাদ হারিস ও অধিনায়ক বাবর। পাঁচ ওভারের মধ্যে ফিরে যান কুসাল মেন্ডিস ও মাইকেল ব্রেসওয়েলও। ৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা।
সেখান থেকে ৮৫ রানের দারুণ জুটিতে দলকে জয়ের দুয়ারে নিয়ে যান হার্ডি ও সামাদ। জয় থেকে ৫ রান দূরে থাকতে সামাদ (৩৪ বলে ৪৮) ফিরলেও, কাজ শেষ করে ফেরেন হার্ডি।
কিংসমেনের হয়ে সাইম আইয়ুবের ৫০ বলে ৫৪ ছাড়া আর কেউ উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি।
প্রথমবার পিএসএলে খেলতে গিয়েই শিরোপার স্বাদ পেলেন নাহিদ। অভিষেক ম্যাচে ভালো না করলেও, পরের তিন ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিংয়ে তিনি উইকেট নেন ৭টি। এরপর নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে দেশে ফেরেন ২৩ বছর বয়সী পেসার।
ওয়ানডে সিরিজের পর প্রাথমিকভাবে তাকে আর পিএসএলে খেলার ছাড়পত্র না দিলেও, পরে ফাইনালের জন্য অনুমতি দেয় বিসিবি। চমৎকার বোলিংয়ে দলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেন তিনি।
সব মিলিয়ে আসরে পাঁচ ম্যাচে নাহিদের শিকার ৯ উইকেট। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন তিনি স্রেফ ৫.৪৪ করে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
হায়দরাবাদ কিংসমেন: ১৮ ওভারে ১২৯ (লাবুশেন ২০, সাদাকাত ১১, সাইম ৫৪, উসমান ৮, ইরফান ১, ম্যাক্সওয়েল ০, পেরেরা ১, হাসান ১২, হুনাইন ৯, আলি ১*, আকিফ ৫; ইফতিখার ২-০-২১-০, বাসিত ৩-০-২২-১, হার্ডি ৪-০-২৭-৪, নাহিদ ৪-১-২২-২, মুকিম ৪-০-২৩-১, ব্রেসওয়েল ১-০-১১-০)
পেশাওয়ার জালমি: ১৫.২ ওভারে ১৩০/৫ (হারিস ৬, বাবর ০, মেন্ডিস ৯, হার্ডি ৫৬*, ব্রেসওয়েল ৪, সামাদ ৪৮, ইউসুফ ৪*; আলি ৪-০-৩৮-৩, আকিফ ৪-০-২৯-১, হুনাইন ৩.২-০-২৬-১, হাসান ৩-০-২২-০, সাইম ১-০-১৩-০)
ফল: ৫ উইকেটে জিতে চ্যাম্পিয়ন পেশাওয়ার জালমি
ম্যান অব দা ম্যাচ: অ্যারন হার্ডি
ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট: সুফিয়ান মুকিম