Published : 24 May 2026, 08:32 PM
দ্বিতীয় বলে চার মেরে ডানা মেলে দিলেন হামজা খান। সেই যে শুরু, তাকে থামাতে পারলেন না প্রতিপক্ষের কেউ। ব্যাটকে তরবারি বানিয়ে কোত দি ভোয়ার বোলারদের কচুকাটা করলেন রুয়ান্ডার ব্যাটসম্যান। তাণ্ডব চালিয়ে গড়লেন কয়েকটি কীর্তি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আফ্রিকা অঞ্চলের বাছাই পর্বের ম্যাচে রোববার হামজার সামনে যেন বল ফেলারই জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলেন না বোলাররা। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলে, বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ৬৫ বলে ১৬৪ রান করেন তিনি। তার ইনিংসটি গড়া ১৫ ছক্কা ও ৯টি চারে।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে হামজার চেয়ে বড় ইনিংস আছে আর কেবল একটি। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭২ রান করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চ।
আর স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে হামজার ইনিংসটি তৃতীয় সর্বোচ্চ। ২০১৩ সালের আইপিএলে অপরাজিত ১৭৫ রান করে রেকর্ডটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ গ্রেট ক্রিস গেইলের।
প্রতিপক্ষের বোলারদের তুলাধুনা করে গড়া ইনিংসটিতে ১৫টি ছক্কা মারেন হামজা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে যা চতুর্থ সর্বোচ্চ। সাইপ্রাসের বিপক্ষে ১৮ ছক্কা মেরে রেকর্ডটি এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহানের।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে স্পেনের মোহাম্মাদ এহসান হাঁকান ১৭ ছক্কা। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের হাজরাতউল্লাহ জাজাই ও পাকিস্তানের বিপক্ষে নিউ জিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন ১৬টি করে ছক্কা মারেন।
অপরাজিত ইনিংসটির পথে ১৬ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন হামজা। পরে তার রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়। ৪১ বলে স্পর্শ করেন তিনি সেঞ্চুরি। পরের ১৭ বলে পা রাখেন দেড়শর ঠিকানায়।
হাজমার সৌজন্যে ২ উইকেটে ২৮৮ রান তোলে রুয়ান্ডা।
পরে রুয়ান্ডার বোলিংয়ের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে কোত দি ভোয়া। দলটির কেউ পাঁচ রানও করতে পারেননি। তাতে স্রেফ ১৭ রানে গুটিয়ে যায় তারা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এর চেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার নজির আছে আর চারটি। সর্বনিম্ন রানের রেকর্ডটি কোত দি ভোয়ার। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে স্রেফ ৭ রানে অলআউট হয় তারা।
কোত দি ভোয়াকে গুঁড়িয়ে ২৭১ রানের জয় তুলে নেয় রুয়ান্ডা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রানের হিসেবে যা তৃতীয় বড় জয়। ২০২৪ সালে গাম্বিয়ার বিপক্ষে ২৯০ রানে জিতেছিল জিম্বাবুয়ে। তার আগের বছর মঙ্গোলিয়াকে ২৭৩ রানে হারিয়েছিল নেপাল।