Published : 11 Jan 2026, 09:49 PM
হাসান ইসাখিল যখন আউট হয়ে ফিরছেন, টিভি ক্যামেরায় ফুটে উঠল মোহাম্মাদ নাবির মুখ। ডাগআউটে বসে আছেন তিনি পাথুরে চেহারায়। নোয়াখালী দলের অন্যরা দাঁড়িয়ে তালি দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন ড্রেসিং রুমের পথে থাকা ইসাখিলকে। কিন্তু বাবার ভালোবাসা যেমন স্পেশাল, কষ্টও তো বেশি। ৮ রানের জন্য ছেলের সেঞ্চুরি ছুঁতে না পারা যেন মানতেই পারছিলেন না নাবি। পরে অবশ্য তিনিও তালিতে শামিল হলেন একটু করে।
আক্ষেপ বলতে ওইটুকুই। নইলে বিপিএল অভিষেকে ইসাখিলের ৯২ রানের ইনিংস, বাবার সঙ্গে দারুণ জুটি, দলের জয়, নাবি পরিবারের জন্য ম্যাচটি স্মরণীয়ই।
প্রাপ্তি আছে তাদের দলেরও। ঢাকা ক্যাপিটালসকে ৪১ রানে হারিয়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। টানা ছয় ম্যাচ হেরে হাস্যরসে পরিণত হওয়া দলটি জিতে গেল পরপর দুই ম্যাচ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার ২০ ওভারে নোয়াখালী তোলে ৭ উইকেটে ১৮৪ রান।
টুর্নামেন্টে প্রথম খেলতে নেমে ৭টি চার ও ৫ ছক্কায় ৬০ বলে ৯২ রান করেন ইসাখিল।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকা ঢাকা শেষ পর্যন্ত আট যায় ১৪৩ রানে।
নাবি বল হাতেও দারুণ বোলিংয়ে উইকেট নেন দুটি। ইসাখিল একটি রান আউট করেন দুর্দান্ত সরাসরি থ্রোয়ে।
নোয়াখালী দলের সঙ্গে শুরু থেকেই ছিলেন ইসাখিল। নাবি আইএল টি-টোয়েন্টি খেলে দলে যোগ দেন পরে। বাবা নিয়মিত খেলছেন আসার পর থেকেই। ছেলে ছিলেন অপেক্ষায়। সেটির অবসান এই ম্যাচ দিয়েই। ছেলের মাথায় ক্যাপ তুলে দেন বাবাই।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে খানিকটা চমকে দেয় নোয়াখালী। এবারের বিপিএলে এটি বিরল ব্যাপার। এই ম্যাচ পর্যন্ত ২২ ম্যাচের মাত্র তিনটিতে টসজয়ী দল আগে ব্যাটিং বেছে নিল। এর মধ্যে নোয়াখালীই দুবার!
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা দারুণ করে তারা। ইসাখিল ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে বাউন্ডারির ফোয়ারা ছুটতে থাকে। ইমাদ ওয়াসিমের টানা চার বলে চার মারেন সৌম্য।
পাওয়ার প্লেতে ৬৪ রান তোলে নোয়াখালী। দুই ব্যাটসম্যান মিলে ৫ ওভারে বাউন্ডারি মারেন ১১টি।
পাওয়ার প্লে শেষে পরের ওভারে প্রথম ছক্কাটি আসে ইসাখিলের ব্যাটে। সৌম্য আর বাদ থাকবেন কেন! পরের ওভারে তিনিও বল আছড়ে ফেলেন গ্যালারিতে।
দশম ওভারের দল পৌঁছে যান শতরানে।
এরপরই উইকেট হারান সৌম্য। আব্দুল্লাহ আল মামুনের নিরীহ এক শর্ট বল তিনি তুলে দেন মিড উইকেট সীমানায় সাব্বির রহমানের হাতে। আগের ম্যাচে ফিফটি করা ব্যাটসম্যান এবার ফেরেন ২৫ বলে ৪৮ রানে।
এরপর শাহাদাত হোসেন পারেননি ভালো করতে। ওপেনিংয়ে ব্যর্থ হয়ে একাদশে জায়গা হারানোর পর ফেরার ম্যাচে চার নম্বরে নেমে হাবিবুর রহমান সোহান ফেরেন চার রানে।
বাবা-ছেলের কাঙ্ক্ষিত বন্ধন সেখান থেকেই। ৩০ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন দুজন, যেখানে বাবা ছিলেন অনেকটা দর্শক। জুটিতে ইসাখিলের ব্যাট থেকে আসে ১৮ বলে ৩৪, নাবির ব্যাট থেকে ১৩ বলে ১৭।
৩৫ বলে ফিফটি করে ইসাখিল দ্রুত ছুটতে থাকেন শতরানের দিকে। বাবার সঙ্গে ক্রিজে থেকেই তার সেঞ্চুরি মনে হচ্ছিল স্রেফ সময়ের ব্যাপার।
হঠাৎই ছন্দপতন। ফুল টস বলে বাজে শটে আগে আউট হন নাবি। বাবার বিদায়ের পর কোনো রান করতে পারেননি ছেলে। আউট হয়ে যান পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে।
এরপর আর প্রত্যাশিত দ্রুততায় রান আসেনি। শেষ তিন ওভারে মাত্র ১৭ রান করতে পারে নোয়াখালী।
মৌসুমে প্রথম খেলতে নেমে চার ওভারে ২৯ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম।
রান তাড়ায় ঢাকার ব্যাটিং মুখ থুবড়ে পড়ে শুরুতেই। পাঁচ ওভারের মধ্যে হারায় তারা চার উইকেট।
হাসান মাহমুদের বলে ছক্কার এক বল পরই আউটহন রাহমানউল্লাহ গুরবাজ (১০ বলে ১১)। ইহসানউল্লাহর করা পরের ওভারে বিদায় নেন আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সাইফ হাসান।
বাজে শটে শূন্য রানে ফেরেন সাইফ। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ দলের সহ-আধিনায়ক বিপিএলের ছয় ম্যাচে রান করলেন মোট ৪৮।
পরের ওভারে শূন্য রানেই মেহেদি হাসান রানার শিকার নাসির হোসেন।
এরপর কিছুক্ষণ বিনোদন দিয়ে ১৬ বলে ২৯ রান করেন শামীম হোসেন। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ৩১ বল খেলে করেন ৩৩। দুই দফায় ক্যাচ দিয়ে রক্ষা পেয়ে সাব্বির রহমান ফেরেন ১০ বলে ১৩ রান করে।
শেষ দিকে ২০ বলে ৩৪ রান করে ব্যবধান কিছুটা কমান সাইফ উদ্দিন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ২০ ওভারে ১৮৪/৭ (ইসাখিল ৯২, সৌম্য ৪৮, শাহাদাত ৩, সোহান ৪, নাবি ১৭, হায়দার ০, জাকের ৮, হাসান ০*, মেহেদি রানা ৪*; ইমাদ ৪-০-৩৬-০, সাইফ উদ্দিন ৩-০-২৩-২, জিয়াউর ৩-০-৪৬-০, নাসির ৩-০-২৪-০, তাইজুল ৪-০-২৯-২, আল মামুন ৩-০-২৪-২)।
ঢাকা ক্যাপিটালস: ১৮.২ ওভারে ১৪৩ (গুরবাজ ১১, আল মামুন ২, নাসির ০, সাইফ হাসান ০, মিঠুন ৩৩, শামীম ২৯, সাব্বির ১৩, ইমাদ ৩, সাইফ উদ্দিন ৩৪, তাইজুল ১, জিয়াউর ৪*; হাসান ৩.২-০-২১-২, ইহসানউল্লাহ ৪-০-৩২-২, মেহেদি রানা ৪-০-২৫-২, নাবি ৪-০-২৩-২, আবু জায়েদ ৩-০-৩৫-১)।
ফল: নোয়াখালী এক্সপ্রেস ৪১ রানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: হাসান ইসাখিল।