Published : 10 Jan 2026, 08:47 AM
পুরস্কার বিতরণী আয়োজন শেষে সংবাদ সম্মেলন কক্ষের দিকে আসছিলেন হাসান মাহমুদ। তাকে ঘিরে থাকা সবাই যেন খুশিতে ঝলমল করছিলেন। হাসি-মজা-কৌতুক চলছিল। তবে হাসান প্রায় নির্লিপ্ত। ঠোঁঠের কোণে ঝুলে থাকা স্মিত হাসির রেখাটুকু ছাড়া তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই, বহু আকাঙ্ক্ষিত জয়ের দেখা মাত্রই পেয়েছে তার দল এবং সেখানে তিনিই জয়ের নায়ক।
বরাবরই অবশ্য তিনি এরকম। একসময় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন ব্যাটসম্যানদের আউট করেও উদযাপন করতে না চাওয়ায়। এখন তিনি টুকটাক উদযাপন করেন বটে। তবে সেটাও না করার মতোই। এই যে নির্লিপ্ত ধরন, এটা কাজে লাগে তার ক্রিকেটেও। এবারের বিপিএলেই যেমন, তার দল পয়েন্ট তালিকার তলানিতে, কিন্তু তিনি উইকেট শিকারের শীর্ষ দিকে।
নোয়াখালী ম্যাচের পর ম্যাচ হেরেছে। মাঠের ভেতরে-বাইরের ঘটনায় জুগিয়েছে হাস্যরসের খোরাক। কিন্তু হাসান আদায় করে নিয়েছেন সমীহ ও সম্মান।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দারুণ ধারাবাহিক হাসান। একটি ম্যাচ ছাড়া উইকেট নিয়েছেন প্রতি ম্যাচেই। সেই এক ম্যাচে তার দল গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ৬১ রানে। ২ ওভারে তিনি রান দিয়েছিলেন ৯। এছাড়া সব ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন তো বটেই, নতুন বল আর পুরোনো বল, সব মিলিয়েই ক্ষুরধার বোলিং করেছেন।
টুর্নামেন্টে নোয়াখালী প্রথম জয়টি যে তার হাত ধরেই এলো, এতে তাই বিস্ময়ের কিছু নেই।
টানা ছয় ম্যাচ হেরেছে যে দল, ম্যাচের পর ম্যাচ ব্যাটে-বলে যাদেরকে মনে হয়েছে ছন্নছাড়া, সেই দল শুক্রবার হারিয়ে দিয়েছে আসরের ফেভারিট দল তারকায় ঠাসা রংপুর রাইডার্সকে। ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সেই জয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ হাসান।
১২ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে এখন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় উইকেট শিকারি হাসান, সেখানে তার সঙ্গী এই সময়ের তুমুল আলোচিত মুস্তাফিজুর রহমান। তাদের দুজনের চেয়ে এক উইকেট বেশি নিয়ে আপাতত শীর্ষে শরিফুল ইসলাম।

একটি জায়গায় অবশ্য সবার চেয়ে এগিয়ে হাসান। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন তিনি মাত্র ৬.০৪। এখনও পর্যন্ত আসরে ৬টির বেশি উইকেট শিকারি ১৩ বোলারের মধ্যে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলার হাসানই।
এই পেসারই গত ছয় মাস ধরে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের বাইরে। বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও জায়গা পাননি। অবশ্য বিশ্বকাপ দল যদি এখন বাছাই করা হতো, তাকে বিবেচনা করতে হতো প্রবলভাবেই।
সেই সুযোগ সামান্য হলেও আছে এখনও। দল ঘোষণা করা হলেও আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দলে পরিবর্তন আনা যাবে কোনো কারণ দেখানো ছাড়াই। বিপিএলে কেউ অসাধারণ পারফর্ম করলে তার জন্য বিশ্বকাপের দুয়ার খুলে যেতেও পারে।
হাসানের মনের কোণেও কি সেই ভাবনা আছে?
২৬ বছর বয়সী পেসার বরাবরের মতোই ছোট্ট করে শোনালেন, নিজের কাজের বাইরে তিনি ভাবছেন না।
“যেভাবে আছে… আলহামদুলিল্লাহ। আমি চেষ্টা করছি আমার শেইপে থাকার। ভালো বল করে যাওয়ার… এটাই আমার কাজ। বাকিটা কী হবে না হবে, চিন্তা করছি না আপাতত।”
নিজের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা না করলেও নোয়াখালীর সমর্থকদের নিয়ে তার ভাবনা আছে। ম্যাচের পর ম্যাচে অনেক দূর থেকে সিলেটে এসে নোয়াখালীকে সমর্থন করেছেন অনেক দর্শক। প্রতিবারই তারা মাঠ ছেড়েছেন গোমড়া মুখে।
অবশেষে একটি জয় তাদের উপহার দিতে পেরেছেন হাসানরা। মৌসুমে তাদের বাকি আছে আর মোটে তিনটি ম্যাচ। এই ম্যাচগুলিতেও দর্শকদের আনন্দ উপহার দিতে চান তিনি।
“ম্যাচ হারলে তো সবারই খারাপ লাগে। উনারা আমাদের সমর্থন করছে সেই প্রথম ম্যাচ থেকে। মাঠে আসছে, আমাদেরকে সাপোর্ট করছে। ম্যাচ হেরে তারা কষ্ট পেয়েছেন। তবে আমি বলব যেন আমাদেরকে এভাবেই সপোর্ট করতে পারেন যেন, পরের ম্যাচগুলোয় জয় উপহার দিতে পারি।”