Published : 07 May 2026, 01:14 AM
সাদা বলের ক্রিকেটের পারফরম্যান্স লাল বলের দলের দুয়ার খুলে দিয়েছে ডিন ফক্সক্রফটের জন্য। প্রথমবার নিউ জিল্যান্ডের টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের দলে রাখা হয়েছে তাকে।
গত মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বেশ ভালো করেন ফক্সক্রফট। মিরপুরে প্রথম ম্যাচে যে উইকেটে রান তুলতে ভুগতে দেখা যায় প্রায় সব ব্যাটসম্যানকে, সেখানেই তিনি খেলেন ৫৮ বলে ৫৯ রানের ইনিংস। পরে বল হাতে ছয় ওভারে ২৫ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হন তিনিই। দ্বিতীয় ম্যাচে খুব একটা ভালো করতে না পারলেও, তৃতীয় ম্যাচে চট্টগ্রামে ছয় ওভারে ৩৫ রানে একটি উইকেট নেওয়ার পর, সাত ছক্কায় ৭২ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম ম্যাচে ৩ রানে আউট হলেও শেষ ম্যাচে ১৫ বলে ১৫ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন ফক্সক্রফট।
দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ও দেশটির হয়ে ২০১৬ সালের যুব বিশ্বকাপে খেলা ফক্সক্রফট পরে পাড়ি জমান নিউ জিল্যান্ডে। এখন পর্যন্ত নিউ জিল্যান্ডের হয়ে চারটি ওয়ানডে ও সাতটি টি-টোয়েন্টি খেলা এই ক্রিকেটার প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন ৪২টি। ৩১.৯৫ গড়ে রান করেছেন দুই হাজার ৩০১। সেঞ্চুরি আছে দুটি। হাত ঘুরিয়ে উইকেট নিয়েছেন ৬৩টি। পাঁচ উইকেট পেয়েছেন দুই দফায়।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টেস্ট সিরিজের জন্য ১৯ সদস্যের বিশাল স্কোয়াড বুধবার ঘোষণা করেছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট। দলে ফিরেছেন ফাস্ট বোলার উইল ও’রোক ও কাইল জেমিসন।

সাবেক অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকেও দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত ডিসেম্বরে ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান বলেছিলেন, ‘সিরিজ বাই সিরিজ’ ভিত্তিতে নিজের ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন করবেন তিনি।
বর্তমানে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের উপদেষ্টা হিসেবে আইপিএলে ব্যস্ত আছেন উইলিয়ামসন। নিউ জিল্যান্ডের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ১০ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া থেকে ৫৩৯ রান দূরে আছেন তিনি।
৩১ বছর বয়সী ফাস্ট বোলার জ্যাকব ডাফিকে পাচ্ছে না নিউ জিল্যান্ড। গত বছর সব সংস্করণ মিলিয়ে ৮১ উইকেট নিয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে নিউ জিল্যান্ডের কোনো বোলারের সর্বোচ্চ উইকেটের স্যার রিচার্ড হ্যাডলির রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি। দেশে থাকবেন ডাফি, তিনি ও তার স্ত্রী প্রথম সন্তানের জন্মের অপেক্ষায় আছেন।
পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন ও’রোক ও জেমিসন, যেখানে আরও আছেন ম্যাট হেনরি, জ্যাক ফোকস, ন্যাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার, বেন সিয়ার্স, মাইকেল রে ও ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক।
গত বছর ঘরের মাঠে মাইকেল রের টেস্ট অভিষেক হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ক্লার্ক এখনও টেস্ট ক্যাপ পাননি। সিয়ার্সকে শুধু আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের দলে রাখা হয়েছে। আগামী ২৭ মে বেলফাস্টে শুরু হবে এই টেস্ট। ম্যাচটি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্ট্রেস ফ্র্যাকচারে আক্রান্ত হওয়া জেমিসন দুই বছরের বেশি সময় পর টেস্ট খেলার অপেক্ষায়। পিঠের চোটে আট মাস মাঠের বাইরে থাকার পর, বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে ক্রিকেটে ফেরেন ও’রোক। তিনটি ওয়ানডে খেলে পাঁচ উইকেট শিকার করেন তিনি।
লাল বলের ক্রিকেট থেকে বিরতি নেওয়ায় দলে নেই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মাইকেল ব্রেসওয়েল। আইপিএল থেকে কাঁধের চোট নিয়ে ফেরা বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার মিচেল স্যান্টনারকে পরে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। ব্রেসওয়েল ও স্যান্টনারের অনুপস্থিতিতে, প্রয়োজন হলে স্পিনে হাত ঘোরাতে পারবেন গ্লেন ফিলিপস ও রাচিন রাভিন্দ্রা।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলার সময় পেশিতে চোট পাওয়া ড্যারিল মিচেল সময়মতো সেরে উঠবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলে একমাত্র বিশেষজ্ঞ উইকেটকিপার টম ব্লান্ডেল। প্রয়োজনে অধিনায়ক টম ল্যাথাম উইকেটকিপার হিসেবে খেলতে পারেন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সে দলে ফিরেছেন ব্যাটসম্যান হেনরি নিকোলসও। নিউ জিল্যান্ডের প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা প্লাঙ্কেট শিল্ডে ক্যান্টারবুরির শিরোপা জয়ের পথে ১১ ইনিংসে আসরের সর্বোচ্চ ৮৭০ রান করেন তিনি। ব্যাটিং গড় ৯৬.৬৬। আরেক ব্যাটসম্যান উইল ইয়াংকে শুধু আয়ারল্যান্ড সফরের জন্য দলে নেওয়া হয়েছে।
আইপিএল ও পিএসএলে অংশ নেওয়া শীর্ষ ১৫-১৬ জন ক্রিকেটারকে ছাড়া বাংলাদেশে সীমিত ওভারের সিরিজ খেলে গেছে নিউ জিল্যান্ড। টেস্টে, বিশেষ করে ইংল্যান্ড সফরে সবাইকে পাচ্ছে তারা।
ম্যাট হেনরি, ফোকস, জেমিসন, রাভিন্দ্রা ও ফিলিপস তাদের আইপিএল অভিযান শেষ করে নিউ জিল্যান্ড দলে যোগ দেবেন। আইপিএল ফাইনাল হবে আগামী ৩১ মে। ইংল্যান্ডে নিউ জিল্যান্ডের প্রথম টেস্ট লর্ডসে শুরু হবে ৪ জুন। পরের দুই টেস্ট হবে ওভাল ও ট্রেন্ট ব্রিজে।
নিউ জিল্যান্ড টেস্ট দল: টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), টম ব্লান্ডেল, ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক (শুধু আয়ারল্যান্ড টেস্ট), ডেভন কনওয়ে, জ্যাক ফোকস, ডিন ফক্সক্রফট, ম্যাট হেনরি, কাইল জেমিসন, ড্যারিল মিচেল, হেনরি নিকোলস, উইল ও’রোক, গ্লেন ফিলিপস, মাইকেল রে (শুধু আয়ারল্যান্ড টেস্ট), রাচিন রাভিন্দ্রা, বেন সিয়ার্স (আয়ারল্যান্ড টেস্ট ও ইংল্যান্ড সফরে রিজার্ভ), ন্যাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার, কেন উইলিয়ামসন, উইল ইয়াং (শুধ আয়ারল্যান্ড টেস্ট)।