Published : 30 Jul 2024, 12:37 PM
ক্রিকেট থেকে যা কিছু পাওয়া সম্ভব, খুব একটা কিছু বাদ নেই এলিস পেরির। দীর্ঘদিন ধরে নারী ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন মানা হয়েছে তাকে। নারীদের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারও মনে করা হয় তাকে। ব্যক্তিগত রেকর্ড-অর্জনের পাশাপাশি দলীয় অর্জনেও দারুণ সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার। তবে একটি ঘাটতি এখনও আছে, অলিম্পিকসে খেলেননি কখনও।
এতদিন অলিম্পিকসে ক্রিকেট ছিল না, পেরিরও কিছু করার ছিল না। তবে ১২৮ বছর পর ক্রিকেট ফিরছে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকসে।
অলিম্পিকস না হলেও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কমনওয়েলথ গেমসের সোনা জিতেছেন পেরি। জাতীয় দলে ফুটবলও খেলার পর ক্রমে ক্রিকেটকে বেছে নেওয়া অলরাউন্ডার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছে দুটি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ছয়টি। ফুটবল ও ক্রিকেট, দুটি বিশ্বকাপেই খেলা ক্রীড়াবিদ তিনি।
টেস্ট ক্রিকেটে তিনি ১৩ ম্যাচ খেলে ৯২৮ রান করেছেন ৬১.৮৬ গড়ে, উইকেট নিয়েছেন ৩৯টি। ওয়ানডেতে ৫০.৭৪ গরড় করেছেন প্রায় ৪ হাজার রান, উইকেট নিয়েছেন ১৬৫টি। টি-টোয়েন্টিতে ৩১.৩০ গড়ে রান ১ হাজার ৮৭৮, উইকেট ১২৬টি। অনেক অনেক রেকর্ড তার আছে, তার হাত ধরে জন্ম হয়েছে অনেক ‘প্রথম’ কীর্তির।
সামনে এখন আছে অলিম্পিকসের হাতছানি। যদিও পেরি এমনিতে ক্যারিয়ার নিয়ে দূর ভবিষ্যৎ চিন্তা করেন না। চার বছর পরের আসরে খেলা নিয়েও তাই ভাবনা তার নেই এখনও। তবে অলিম্পিকস খেলতে পারলে বাড়তি রোমাঞ্চ যে থাকবে, সেটি শোনালেন ঠিকই।
“আমি এমন ধরনের মানুষ, অবসরের দিনক্ষণ নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ভাবি না। কখনোই এটিকে এই দৃষ্টিতে দেখিনি। তবে যদি তখনও খেলে যাই এবং উপযুক্ত থাকি, অবশ্যই সেখানে (অলিম্পিকস) থাকতে পারলে দারুণ লাগবে।”

অলিম্পিকসে ক্রিকেট হয়েছে একবারই, সেই ১৯০০ সালে প্যারিসে। ১৮৯৬ সালে প্রথম অলিম্পিকসেও ক্রিকেট রাখা হয়েছিল। তবে দলের অভাবে তা বাদ হয়ে যায়। পরের অলিম্পিকসে দুটি দল পাওয়া যায়। ইংল্যান্ডের সঙ্গে অংশ নেয় ফ্রান্স। সেই ফরাসি দলেও মূলত খেলেন ইংল্যান্ড থেকে যাওয়া প্রবাসীরা।
ইংল্যান্ডেরও জাতীয় দল বা টেস্ট দল সেখানে অংশ নেয়নি। মূলত দুটি ক্লাবের ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গড়া হয়েছিল। দুই দিনের সেই ম্যাচে এক দলে খেলেছিলেন ১২ জন করে। প্রথম শ্রেণির ম্যাচের মর্যাদা তাই পায়নি ম্যাচটি। ফ্রান্সেকে ১৫৮ রানে হারিয়ে সেটিতে সোনা জয় করে ইংল্যান্ড। আর পাঁচ মিনিট টিকে থাকলেই ম্যাচ ড্র করতে পারত ফরাসিরা।
পরে ১৯০৪ অলিম্পিকসে ক্রিকেট রাখা হলেও আবার দলের অভাবে বাতিল হয়ে যায়। শত বছরের বেশি সময়ের নির্বাসন কাটছে ২০২৮ আসর দিয়ে।
ততদিনে পেরির বয়স হবে ৩৭। গত কয়েক বছরে বেশ কিছু চোটের সঙ্গে লড়তে হয়েছে তাকে। অলিম্পিকস খেলা তাই কঠিনই হবে তার জন্য। পেরি নিজে তাই প্রবল আশা বুকে পুষে রাখেননি। তবে মনের কোণে কিছুটা জায়গা আছেই অলিম্পিকস নিয়ে।
“অলিম্পিকস নিয়ে ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য আমি ঠিক করিনি। তবে যদি তখনও খেলে যাই এবং যথেষ্ট ভালো থাকি, অবশ্যই সেখানে খেলতে ভালো লাগবে। ক্রিকেট খেলাটির জন্যও এটি অসাধারণ ব্যাপার, খেলাটির আরও ছড়িয়ে পড়া ও গড়ে ওঠার সুযোগ।”