Published : 04 Sep 2025, 08:33 PM
বিসিবি একাডেমি ভবনের ঠিক সামনেই প্যান্ডেল। সেখানে গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলামসহ বেশ কজন। পাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে জায়গায় জায়গায় আরও অনেক ক্রিকেটারের জটলা। একাডেমি ভবনের ঠিক মুখে চলছিল নিগার সুলতানা, সাথিরা আক্তার জেসি, রুমানা আহমেদ, নাহিদা আক্তারদের ফটোসেশন। ভেতরে ভোটকেন্দ্র ঘিরেও ক্রিকেটারদের ভিড়। সব মিলিয়ে হাসি-কথা-আড্ডা-খুনসুটিতে জমজমাট আবহ।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম বৃহস্পতিবার এভাবেই মুখরিত ছিল সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের পদচারণায়। উপলক্ষ্য ছিল মূলত ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জিতে সভাপতি নির্বাচিত হন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মোহাম্মদ মিঠুন।
১১টি পদের মধ্যে ১০টিতেই একক প্রার্থী থাকায় তারা নির্বাচিত হয়ে যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। কেবল সভাপতি পদেই ছিল নির্বাচন। সেখানেও আসলে মিঠুনের জয় অনুমিতই ছিল। শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে লড়াই জমাতেই পারেননি সাবেক ক্রিকেটার সেলিম শাহেদ।
২১৫ জন ভোটারের মধ্যে অনলাইন ও প্রতক্ষ্যভাবে ভোট দিয়েছেন ১৯০ জন। মিঠুন পেয়েছেন ১৫৪ ভোট, সেলিম ৩৪টি। বাকি দুটি ভোট বাতিল হয়েছে।
নির্বাচন ছিল যেন উপলক্ষ মাত্র। আয়োজনটি মূলত রূপ নিয়েছিল ক্রিকেটারদের মিলন মেলায়। বর্তমান ক্রিকেটারদের তো নিজেদের মধ্যে দেখা ও যোগাযোগ একটা পর্যায়ের আছে। কিন্তু অনেক সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকের সঙ্গেই অনেকের দেখা হলো অনেক দিন পর।

এই নির্বাচন দিয়ে অনেক দিন পর গা ঝারা দিয়ে উঠেছে কোয়াব। সংগঠনের নতুন শুরুর প্রতিশ্রতিও মিলছে। প্রায় ১১ বছর ধরে কোয়াবের সভাপতি ছিলেন সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সাবেক ক্রিকেটার দেবব্রত পাল। নির্বাচন তখন ছিল স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা। কোয়াবের দৃশ্যমান তেমন কোনো কার্যক্রমও ছিল না। অনেকটাই ঝিমিয়ে ছিল সংগঠন।
নাঈমুর নিজে ছিলেন বোর্ড পরিচালক, দেবব্রত ছিলেন বিসিবির ম্যাচ রেফারি। সংগঠনের অন্য কর্তাদের বেশ কজনও সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বোর্ডে। ক্রিকেটারদের সংগঠনের মূল কাজের একটি বোর্ডের সঙ্গে নানা কিছুতে দেনদরবার করা। সেই মৌলিক জায়গাটির পথই তাই রুদ্ধ ছিল।
গত বছরের অগাস্টে সরকার পরিবর্তনের পথ ধরে ক্রিকেট বোর্ডেও পরিবর্তন আসে। সেই ধাক্কা লাগে কোয়াবে। নাঈমুর ও দেবব্রত সরে দাঁড়ান। সেলিম শাহেদকে প্রধান করে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। গত কিছুদিনে সেলিম শাহেদ, তামিম ইকবাল, মিঠুনদের চেষ্টায় বর্তমান-সাবেক ক্রিকেটারদের আবার উজ্জীবিত করে এককাট্টা করে তোলা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এখন দায়িত্ব নেবে নতুন নির্বাচিত কমিটি।
নতুন সভাপতি মিঠুনের ক্যারিয়ার এখনও চলছে পুরোদমে। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে না থাকলেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের চুক্তিতে আছেন ৩৪ বছর বয়সী ক্রিকেটার। ফুলের মালা গলায় দিয়ে সবার অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসতে ভাসতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বললেন, ক্রিকেটাদের স্বার্থে প্রয়োজনে বোর্ডের মুখোমুখি হতে তিনি পিছপা হবেন না।
“আমরা সবাই মিলেই একটি পরিবারের মতো। এখানে কোনো দূরত্ব, বিভেদ থাকার কথা নয়। বিসিবি আমাদের অভিভাবক। আমরা আমাদের যে কোনো প্রয়োজন, যে কোনো দাবি তাদের কাছে জানাতেই পারি। আশা করি, বিসিবি সেটা ইতিবাচকভাবেই নেবে।”

“দাবী আদায়ের দুটি পথ আছে। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব সমঝোতার মাধ্যমে যতটা সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সম্ভব সবকিছু করতে। কিন্তু যদি কখনও অন্যরকম কিছুর প্রয়োজন হয়, যেহেতু আমি ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি, ক্রিকেটারদের স্বার্থই আমাকে দেখতে হবে। প্রয়োজন পড়লে ক্রিকেটারদের জন্য কঠিন পথও বেছে নিতে হতে পারে।”
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সিনিয়র সহসভাপতি পদে সাবেক জাতীয় ওপেনার শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ, ও সহসভাপতি পদে কিপার-ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান। এবার নির্বাচনের আগে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে সাধারণ সম্পাদকের পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন খালেদ মাসুম পাইলট, শামসুর রহমান শুভ, ইমরুল কায়েস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, রুমানা আহমেদ, ইরফান শুক্কুর ও আকবর আলি।