Published : 20 May 2026, 09:59 PM
টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশড হওয়ার পর পাকিস্তান দলের ওপর ক্ষুব্ধ দেশটির সাবেক কিপার-ব্যাটসম্যান কামরান আকমাল। ক্রিকেটার থেকে শুরু করে দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক কাঠামোর তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
সিলেট টেস্টে বুধবার পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে পাকিস্তান সফরে গিয়েও বাংলাদেশ একই ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতে এসেছিল।
এই দুই সিরিজের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩ টেস্টে বাংলাদেশের কোনো জয় ছিল না (১২ হার, ১ ড্র)। এখন দুই দলের সবশেষ চার টেস্টেই জয়ী বাংলাদেশ। দেশের বাইরে সবশেষ সাত টেস্টেই হারল পাকিস্তান।
সিলেট টেস্টে পরাজয়ের পর ‘গেম প্ল্যান’ ইউটিউব চ্যানেলে পাকিস্তান দলের কঠোর সমালোচনা করেন আকমাল। উত্তরসূরিদের তীব্র আক্রমণ করার আগে বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করেন তিনি।
“বাংলাদেশ দল ও পুরো জাতিকে অনেক অভিনন্দন। নিঃসন্দেহে অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে তারা। বিক্ষোভ, সরকারের পরিস্থিতি- এসব কিছুর মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরও তারা তাদের মৌলিকত্ব থেকে কখনও সরে আসেনি। বড় অর্জন।”

এরপর নিজেদের দলের উদ্দেশ্য করে আকমাল বলেন, “তীব্র হতাশা ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই। আমরা ছয়-সাত বছর ধরে একই কথা বলে আসছি। কিছুই বদলায়নি।”
ক্রিকেট বোর্ডের কর্তাদের একহাত নিয়ে আকমাল বলেন, তাদের অহংকারই দলকে আরও পিছিয়ে দিচ্ছে।
“যখন ক্রিকেটের বাইরের লোকেদের অহংকার জড়িত থাকে, তখন ক্রিকেটের উন্নতি হয় না। যখন প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে হুট করে খেলোয়াড় নির্বাচন করেন, তখন আপনার কাছে মেধা ও দক্ষতার কোনো মূল্য থাকে না। গোড়ায় গলদ থাকলে কোনো জবাবদিহিতা থাকবে না, পারফরম্যান্সের কোনো মানদণ্ড থাকবে না।
ক্রিকেটারদের মানসিকতা এবং জাতীয় দলের দায়িত্বের চেয়ে পাকিস্তান সুপার লিগকে (পিএসএল) বেশি গুরুত্ব দেওয়ারও সমালোচনা করেন আকমাল।
“পিএসএলে একজন খেলোয়াড়ও কখনও আনফিট থাকে না। ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু হয়, আর ফিটনেসের চিঠি আসতে শুরু করে। পিএসএলের সময় একটিও আসে না। এই যখন মানসিকতা, তখন ক্রিকেটের উন্নতি কীভাবে হবে?”
পাকিস্তানের হয়ে ৫৩ টেস্ট, ১৫৭ ওয়ানডে ও ৫৮ টি-টোয়েন্টি খেলা আকমালের মতে, বোর্ড ঘরোয়া ক্রিকেটারদের সঙ্গে সঠিক আচরণ করছে না এবং ফিটনেসের মানদণ্ডও ঠিক নেই।
“একজন খেলোয়াড় যে ১০০, ২০০ রান করতে পারে, দিনে ১৮ ওভার বল করতে পারে, আপনারা তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করে দিচ্ছেন শুধু এই কারণে যে, সে একটা লাফ দিতে পারেনি। দুই কিলোমিটার দৌড়ানোর সময় যদি সে আধা মিনিট বেশি নেয়, আপনারা বলেন সে খেলার জন্য ফিট নয়। যারা ক্রিকেটের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তারা আগে নিজেদের দিকে তাকান।”
ফিটনেসের ব্যাপারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের উদাহরণও টানলেন ৪৪ বছর বয়সী আকমাল।
“(চেতেশ্বর) পুজারাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, আজিঙ্কা রাহানেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, শিখার ধাওয়ানকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, সে কত বড় পারফর্মার ছিল? ক্রিকেট আগে, দল আগে। এখানে তারা (পাকিস্তান) বন্ধুত্বকে মাঠে নিয়ে আসে।”
খুব শিগগিরই পাকিস্তানের উন্নতি দেখছেন না আকমাল। উন্নতির জন্য কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বললেন তিনি।
“বাস্তবিক অর্থে আগামী চার-পাঁচ বছরেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি আমি দেখছি না। যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলতে থাকবে। যদি আরও ভালো করতে চান, তাহলে বড় ও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে কোনো কিছুরই উন্নতি হবে না।”