Published : 26 Jul 2026, 08:14 AM
আগের টেস্ট সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ইনিংসে ব্যাটিং পেয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি কাভেম হজ। এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে ব্যাট হাতে আলো ছড়ালেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। শেই হোপের সঙ্গে তার জুটিতে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ত্রিনিদাদে প্রথম টেস্টের বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম দিন খেলা হতে পারে কেবল ৬৭ ওভার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৯৪ রান।
চতুর্থ উইকেটে ৮৮ রানের জুটিতে অবিচ্ছিন্ন আছেন হজ ও হোপ। তিন নম্বরে নেমে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৯ চারে ১৮১ বলে ৮৩ রানে অপরাজিত আছেন হজ। ৯১ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত হোপ।
এই ম্যাচ দিয়ে শনিবার টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রা শুরু হয় ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামের। উইকেটে বাদামি ঘাসের ছোঁয়া আছে কিছুটা। টস জিতে ব্যাটিং নেন স্বাগতিক অধিনায়ক রস্টন চেইস। গত সপ্তাহে না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্সের স্মরণে খেলা শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বৃষ্টির কারণে প্রথম সেশনে খেলা হতে পারে কেবল ১৪.১ ওভার, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ উইকেট হারিয়ে করতে পারে ২৩ রান। উইকেটে পাওয়া মুভমেন্ট কাজে লাগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা কঠিন করে তোলেন সফরকারী পেসাররা।
শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিলেন মোহাম্মাদ আব্বাস। চতুর্থ স্টাম্পের লাইনে টানা বল করে যান তিনি। ছোট্ট প্রথম সেশনে তার সাত ওভারের মধ্যে পাঁচটিই ছিল মেডেন। তার চাপ সামলাতে না পেরেই যেন অফ স্টাম্পের বাইরের বল স্টাম্পে টেনে আনেন ব্র্যান্ডন কিং।
টসের সময় রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকলেও, প্রথম ঘন্টার পানি পানের বিরতির একটু পরই বৃষ্টি শুরু হয়। লাঞ্চ বিরতি নেওয়া হয় আগেভাগে। বিরতির আগে-পরে মিলিয়ে খেলা বন্ধ থাকে দুই ঘন্টা।
আবার খেলা শুরু হলে আর্দ্রতায় উইকেট যেন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। তবে তেজনারাইন চান্দারপল ও হজও ছিলেন ইতিবাচক। আক্রমণে ফেরা আব্বাসের প্রথম দুই ওভারে আসে ১৪ রান। দুজনের জুটি পেরিয়ে যায় পঞ্চাশ।
এরপরই প্রথমবার আক্রমণে এসে ৫১ রানের জুটি ভাঙেন আমির জামাল। তার অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে দ্বিতীয় স্লিপে ধরা পড়েন চান্দারপল (৭৭ বলে ২১)।
জামাল এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তাকে পরপর দুটি চার মারেন হজ। একই ওভারে একটি চারের পর ছক্কা হাঁকান আমির জাঙ্গু। দুজনের জুটিতে দলের স্কোর পেরিয়ে যায় শতরান।
আব্বাসকে আক্রমণে ফেরান পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। জাঙ্গুকে বেরিয়ে এসে খেলতে দেখে স্টাম্পের কাছে চলে আসেন কিপার মোহাম্মাদ রিজওয়ান। এই স্পেলে আব্বাসের দ্বিতীয় ওভারে একটি সোজা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন জাঙ্গু (৩২ বলে ২১)। আম্পায়ার প্রাথমিকভাবে আউট না দিলেও, রিভিউ নিয়ে উইকেটটি পায় পাকিস্তান।
তখন ১০৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকেই হজ ও হোপের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ৮৬ বলে ফিফটি করেন হজ।
তৃতীয় সেশন ব্যাট-বলের বেশ কঠিন লড়াইয়ে পরিণত হয়। আক্রমণ চালিয়ে যায় পাকিস্তান। হজ ও হোপও দেখিয়ে দেন, তারা এই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত। নিরাপদেই বাকি দিন কাটিয়ে দেন তারা। শেষ সেশনে একটিও বাউন্ডারি হয়নি। আলোকস্বল্পতায় আগেভাগে শেষ হয় দিনের খেলা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৬৭ ওভারে ১৯৪/৩ (চান্দারপল ২১, কিং ১২, হজ ৮৩*, জাঙ্গু ২১, হোপ ৩৯*; আব্বাস ১৯-৬-৪৪-২, শাহজাদ ১৪-৩-৩২-০, আলি ১২-২-২১-০, উসমান ১২-১-৩৪-০, জামাল ১০-১-৫৪-১)