Published : 31 Aug 2022, 12:51 PM
“ভালোবাসি…কেমন আছেন? …ভালো আছি… ভালো? মোহাম্মদ নবির কণ্ঠে পরিষ্কার বাংলা ভাষা। সংবাদ সম্মেলন কক্ষে তাতে হাসির রোল উঠল খানিকটা। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মিলিয়ে বাংলাদেশে তিনি এত সময় কাটিয়েছেন, কিছু বাংলা শব্দ তার জানা থাকা খুব অবাক করার মতো নয়। বরং বোঝা গেল, বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন আফগান অধিনায়ক।
একটু আগে তিনি নাজিবউল্লাহ জাদরানের ব্যাটিং তাণ্ডব দেখেছেন, দারুণ জয়ে দল পরের ধাপে পা রেখেছে, খোশ মেজাজেই থাকার কথা নবির। আফগান অধিনায়ক বললেন, নাজিবউল্লাহর ব্যাটিং ঝড়ই গড়ে দিয়েছে ম্যাচের ভাগ্য।
বাংলাদেশের ১২৭ রান তাড়ায় ১৪ ওভার শেষে আফগানিস্তানের রান ছিল ৬৫। পরের ৪.৩ ওভারে তারা তুলল ৬৬ রান! তাতেই ৯ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জেতে নবির দল।
১৭ বলে ছয় ছক্কা ও এক চারে অপরাজিত ৪৩ রানের ইনিংস খেলেন নাজিবউল্লাহ। তবে ম্যাচ সেরা তিনি নন। পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দেওয়া রহস্য স্পিনার মুজিব উর রহমান জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
টানা দুই জয়ে প্রথম দল হিসেবে সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান। শ্রীলঙ্কার পর বাংলাদেশকে হারিয়ে দলটির আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। আরও বেশি চনমনে এখন তারা। সংবাদ সম্মলনে নবির শরীরী ভাষাতেও ফুটে উঠল এর আঁচ। আফগান অধিনায়ক মজা করলেন, হাসলেন, হাসালেন।
এটাই আফগান ক্রিকেটারদের ধরন। তারা চাপ খুব একটা নেন না, সব সময়ই সহজ থাকার চেষ্টা করেন। মঙ্গলবার ২২ গজেও যটা ফুটিয়ে তুলেছেন নাজিবউল্লাহ। এক সময়ে দলটির প্রয়োজন ছিল ৬ ওভারে ৬৩ রান। সেই সমীকরণ তিনি মিলিয়ে দিলেন ৯ বল বাকি থাকতে।
চাপের মধ্যেও মন্থর উইকেটে অমন ইনিংস খেলা সহজ নয়। নবির মতে, ১৭ বলের এই ইনিংসই ব্যবধান গড়ে দিয়েছে দুই দলের মধ্যে।
“নাজিবউল্লাহ যখন মার শুরু করেছে, তখনই ম্যাচ ঘুরে গেছে।”
“যখন বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয়, আমরা মাঠে গোল হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। বলছিলাম, এই মাঠে এই রান তাড়া সহজ নয়। আমাদের অবশ্যই উইকেট ধরে রাখতে হবে। শেষ সময়ে বড় শট খেলার সামর্থ্য আমাদের আছে। যেটা নাজিবউল্লাহ জাদরান আজ করেছে।”
ম্যাচের প্রথমভাগে দুর্দান্ত বোলিং করেন মুজিব, রশিদ খানরা। ভালো করেন অন্য বোলাররাও। তাদের মতোই নাজিবউল্লাহর ইনিংসের দ্যুতিতে চাপ পড়ে গেছে ইব্রাহিম জাদরানের ৪১ বলে অপরাজিত ৪২ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস। তবে অধিনায়ক ঠিকই আলোয় আনলেন তরুণ এই ব্যাটসম্যানের ইনিংসের কার্যকারিতা।
“এক প্রান্তে আমাদের ইনিংসকে গভীর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য ওর আছে। আরেক প্রান্তে অন্যরা বোলারদের উপর চড়াও হতে পারে। আমাদের এই ধরনের ব্যাটসম্যান দরকার যে, সহজেই প্রান্ত বদল করে খেলতে পারে। এ কারণেই ইব্রাহিমকে আমরা টপ অর্ডারে রেখেছি। পুরোটা সময়ই ইব্রাহিম চাপে থাকে না। যখন মেরে খেলা দরকার, তখন সে সেটা করতে পারে।”
মাঠের লড়াইয়ে হয়তো কিছুটা এগিয়ে থেকেই জিতেছে আফগানিস্তান। কিন্তু লড়াইটা যখন গ্যালারিতে দর্শকদের মধ্যে। সেখানে বাংলাদেশেরই জয় দেখছেন নবি।
“সব সময়ই আমরা দর্শকদের সমর্থন পাই। আজ আমাদের অনেক দর্শক ছিল। বাংলাদেশি অনেক ভক্তও মাঠে ছিল আজ। আমার মনে হয়, মাঠে উপস্থিতির দিক থেকে ওরা আমাদের হারিয়ে দিয়েছে। তাই না?”