Published : 26 Sep 2025, 02:28 PM
লেগ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বল পুল করতে গিয়ে ব্যাটে-বলে করতে পারলেন না হাবিবুর রহমান সোহান। তার মনোযোগ একটু নড়ে গেল কি না, কে জানে! রবিউল ইসলামের পরের বলটি লেংথ থেকে ভেতরে ঢুকল একটু। সোহান ক্রস ব্যাটে খেললেন এলেমেলো শট। বল ছোবল দিল স্টাম্পে। হতাশায় মাথা নুইয়ে গেল সোহানের। অন্য প্রান্তে ক্রিজেই বসে মাথা নিচু করে ফেললেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
প্রতিপক্ষ দলের অনেকেই ছুটে এসে পিঠ চাপড়ে দিলেন সোহানের। আম্পায়ারও এসে মেলালেন হাত। কিন্তু এসবে কী আর সান্ত্বনা মেলে! দুর্দান্ত ব্যাটিং করেও যে সেঞ্চুরি হলো না মাত্র ৬ রানের জন্য! মাঠ থেকে শরীরটাকে কোনোরকমে টেনে যেন বের করে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
শতরান না পেলেও দলের দাপুটে জয়ের নায়ক তিনিই। ১০ চার ও ৬ ছক্কায় ৪৪ বলে ৯৪ রানের ইনিংস উপহার দেন ঘরোয়া ক্রিকেটের আগ্রাসী এই ব্যাটসম্যান। বৃষ্টির জন্য কদিন আগে স্থগিত হওয়া জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টি পুনরায় শুরুর ম্যাচে খুলনা বিভাগকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দেয় রাজশাহী বিভাগ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার ২০ ওভারে ১৭১ রান তোলে খুলনা। ৩৪ বলে ৬৩ রান করেন সৌম্য সরকার। রান তাড়ায় রাজশাহী জিতে যায় ২৩ বল বাকি রেখেই।
সোহানের সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্তর উদ্বোধনী জুটিতেই আসে ১৪৮ রান। ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৩৯ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন রাজশাহী অধিনায়ক শান্ত।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা খুলনা তিন ওভারেই হারায় তিন উইকেট। প্রথম ওভারেই ইমরানউজ্জামানকে ফেরান নিহাদ উজ জামান। বাঁহাতি এই স্পিনার পরে বিদায় করেন খুলনা অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনকে। মাঝে মেহেরব হোসেনের শিকার এনামুল হক (বিজয়)।
১৩ রারে ৩ উইকেট হারানো দলকে দারুণভাবে এগিয়ে নেন সৌম্য। সঙ্গী পান তিনি আফিফ হোসেনকে। ৭২ বলে ১৩০ রানের জুটি গড়েন দুজন।
শান্তর নিরীহ এক ডেলিভারিতে লং অফ সীমানায় ধরা পড়ে থামে সৌম্যর ইনিংস। আফিফ ৫০ রান করলেও খেলেন ৪৫ বল।
এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও জিয়াউর রহমান ভালো করতে পারেননি। নাহিদুল ইসলাম ১১ বলে ১৭ রান করে দলকে ১৭০ পার করান।

তবে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে সেই রানকে পাত্তাই দেননি সোহান ও শান্ত। পাওয়ার প্লেতেই ৭২ রান তোলেন দুজন। নবম ওভারে রান পেরিয়ে যায় একশ। সোহানের ফিফটি আসে ২২ বলে।
২২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার আগের একমাত্র ফিফটি ছিল ৬৬ রানের। সেটি পেরিয়ে দারুণ গতিতে ছুটে যান প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির কাছাকাছি।
কিন্তু কাছে গিয়েই বিপত্তি। ৯৪ রানে ফিরতে হয় তাকে আক্ষেপ নিয়ে।
পরে তিনে নামা সাব্বির হোসেনকে হারায় রাজশাহী। তবে ৩১ বলে ফিফটি করা শান্ত ক্রিজে থেকে দলকে জিতিয়ই ফেরেন।
ম্যাচের পর খুলনা অধিনায়ক মিঠুন বলেন, এই উইকেটে অন্তত ২০০ রান দরকার ছিল তাদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
খুলনা বিভাগ: ২০ ওভারে ১৭১/৭ (ইমরানউজ্জামান ০, সৌম্য ৬৩, এনামুল ২, মিঠুন ৯, আফিফ ৫০, মিরাজ ১০, জিয়াউর ৬, নাহিদুল ১৭*, মৃত্যুঞ্জয় ৫*; নিহাদ ৩-০-২০-২, মেহেরব ৪-০-২২-১, শফিকুল ৪-০-৪২-১, শান্ত ৩-০-২৫-১, নাহিদ ৪-০-৪২-১, সাব্বির ১-০-১২-০, তাইজুল ১-০-৬-১)।
রাজশাহী বিভাগ: ১৬.১ ওভারে ১৭২/২ (শান্ত ৬৫*, সোহান ৯৪, সাব্বির হোসেন ২, প্রিতম ৪*; জায়েদ উল্লাহ ২-০-১৮-০, রবিউল ৩-০-২৫-২, নাহিদুল ২-০-২৯-০, মিরাজ ৩-০-১৯-০, মৃত্যুঞ্জয় ২-০-৩২-০, জিয়াউর ২-০-২৩-০, সৌম্য ১.১-০-১৩-০, আফিফ ১-০-১২-০)।
ফল: রাজশাহী বিভাগ ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যচ: হাবিবুর রহমান সোহান।