Published : 20 Apr 2026, 06:08 PM
অনায়াস জয়ের পথে তখন বাংলাদেশ। ৩৪ বলে প্রয়োজন ৭ রান, হাতে উইকেট ৭টি। নিষ্প্রাণ ম্যাচে হঠাৎ করেই ছড়াল উত্তেজনা। ১১ বল আর ১ রানের মধ্যে আউট হয়ে গেলেন চার ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত অবশ্য চরম নাটকীয় কিছু হলো না। জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।
শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে আইসিসি উইমেন’স চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র শুরু করল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে নিগার সুলতানার দলের জয় ৩ উইকেটে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতে ফল হওয়া চার ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম জয় এটিই। আগের তিনটিতে জিতেছিল লঙ্কানরা।
রাজশাহীতে সোমবার বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেন মূলত বোলাররা। ৬৮ রানের উদ্বোধনী জুটির পরও নাহিদা আক্তার, মারুফা আক্তার, রিতু মনিদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে ৫০ ওভারে শ্রীলঙ্কা করতে পারে ৯ উইকেটে ২০৫।
৩৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফলতম বোলার পেস বোলিং অলরাউন্ডার রিতু। বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা ৩৮ রানে নেন ২ উইকেট।
আট ওভারে দুই মেডেনে স্রেফ ২৪ রানে একটি উইকেট নেন পেসার মারুফা।
শেষ দিকে তালগোল পাকানো বাংলাদেশ লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ৯ বল হাতে রেখে।
প্রথম দুই ওভারে ২ উইকেট হারানোর পর দলকে পথ দেখান শারমিন আক্তার সুপ্তা। তিন নম্বরে নেমে ১৩ চারে ১২৭ বলে ৮৬ রানের দারুণ ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন তিনি। সবশেষ পাঁচ ওয়ানডে ইনিংসে তার তৃতীয় পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস এটি।
নিয়মিত অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুকে এই ম্যাচে পায়নি শ্রীলঙ্কা। দলকে নেতৃত্ব দেন ওপেনার হাসিনি পেরেরা।
টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে শুরুটা ভালো করে শ্রীলঙ্কা। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম ১০ ওভারে শ্রীলঙ্কা করে ৪৪ রান।
চতুর্দশ ওভারে প্রথম সাফল্য আসে রিতুর হাত ধরে। হাসিনাকে (৪১ বলে ২৭) এলবিডব্লিউ করে ৮৪ বলে ৬৮ রানের জুটি ভাঙেন তিনি।
নিজের পরের ওভারে আরেকটি শিকার ধরেন রিতু, হার্শিথা সামারাউক্রামাকে ফিরতি ক্যাচে বিদায় করেন তিনি।
জোড়া ধাক্কা সামলে তৃতীয় উইকেটে আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ (৫২) জুটি শ্রীলঙ্কা পায় ইমেশা দুলানি ও হাসিমা কারুনারত্নের ব্যাটে। ফিফটি করেন দুজনই।
অফ স্পিনার সুলতানা খাতুনকে বেরিয়ে এসে খেলে মিড অফে সহজ ক্যাচ দেন ইমেশা (৭৭ বলে ৫২)।
৩৭ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৬০ রান। আড়াইশ ছোঁয়া স্কোরেই হয়তো দৃষ্টি ছিল তাদের। কিন্তু সেখান থেকে পথ হারিয়ে কোনোমতে দুইশ ছাড়াতে পারে তারা।
রান তাড়ায় প্রথম ওভারে মাল্কি মাদারার ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে যান শারমিন সুলতানা।
সাড়ে ছয় বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার ম্যাচে শূন্য রানে বিদায় নেন তিনি।

টি-টোয়েন্টিতে আলো ছড়িয়ে ওয়ানডে ক্যাপ পাওয়া জুরাইরিয়া ফেরদৌস টিকতে পারেন কেবল পাঁচ বল। মিড অনে ধরা পড়েন তিনি।
তখন পাঁচ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের মধ্যেই অধিনায়ক নিগারের (২৯ বলে ১৩) বিদায়ে স্কোর হয়ে যায় ৩ উইকেটে ৩৪।
এরপর, ৮৭ রানের জুটিতে দলকে টানেন শারমিন আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি। পায়ে টান লাগায় ২৮তম ওভারে মাঠ ছেড়ে যান সোবহানা। তখন ৫৬ বলে ৪১ রানে ব্যাট করছিলেন তিনি।
শারমিন ক্যারিয়ারের একাদশ ওয়ানডে ফিফটি করেন ৬৪ বলে। পঞ্চম উইকেটে স্বর্ণা আক্তারের সঙ্গে আরেকটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটিতে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন তিনি।
শেষে গিয়ে তালগোল পাকানোর শুরুটাও শারমিনকেই দিয়েই। বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় স্টাম্পড হন তিনি। তার মতো একইভাবে তেড়েফুঁড়ে খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন স্বর্ণা (৪৮ বলে ৩৫) ও রিতুও। রাবেয়া খান ফেরেন আলগা শটে।
দ্রুত ৪ উইকেট হারিয়ে তখন কিছুটা শঙ্কায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। তবে বিপদ হতে দেননি নাহিদা ও সুলতানা।
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ একই মাঠে হবে আগামী বুধবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ২০৫/৯ (হাসিনি ২৭, ইমেশা ৫২, হার্শিথা ২, হানসিমা ৫৪, কাভিশা ৩০, নিলাকশিকা ২, কাউশিনি ১৮, ভিহাঙ্গা ৮, মাল্কি ২*, ইনোকা ২, নিমাশা ০*; মারুফা ৮-২-২৪-১, নাহিদা ১০-০-৩৮-২, সুলতানা ৬-০-৪০-১, রাবেয়া ৯-৩-৩১-১, স্বর্ণা ৫-০-২১-০, সোবহানা ৩-০-১৩-১)
বাংলাদেশ: ৪৮.৩ ওভারে ২০৬/৭ (জুরাইরিয়া ৫, শারমিন সুলতানা ০, শারমিন আক্তার ৮৬, নিগার ১৩, সোবহানা ৪১, স্বর্ণা ৩৫, রিতু মনি ০, রাবেয়া ১, নাহিদা ৩*, সুলতানা ১*; মাল্কি ৯.৩-১-৩৭-২, নিমাশা ১০-৩-৩১-১, ভিহাঙ্গা ১০-১-৪৩-৩, ইনোকা ১০-১-৩৪-১, কাভিশা ৫-০-৪৪—০, নিলাকশিকা ৪-০-১৭-০)
ফল: বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: শারমিন আক্তার