এশিয়া কাপ
Published : 17 Aug 2025, 05:14 PM
‘যারা পারফর্ম করবে, কেবল তারাই খেলার যোগ্য’, এশিয়া কাপের দলে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের না থাকার প্রসঙ্গে বলেছেন আকিব জাভেদ। পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক জানিয়েছেন, ধারাবাহিকতা ও ফর্মের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে আসছে টুর্নামেন্টের স্কোয়াড।
গত চারটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাবর ও রিজওয়ানকে ছাড়া খেলেছে পাকিস্তান। অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যানকে এশিয়া কাপের দলে ফেরানো নিয়ে দেশটির ক্রিকেটে আলোচনা চললেও সেটি আমলে নেননি নির্বাচকরা।
সংবাদ সম্মেলন করে রোববার এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের জন্য ১৭ জনের দল ঘোষণা করেন আকিব। সেখানে বাবর ও রিজওয়ানকে না রাখা নিয়ে অনুমিতভাবেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। উত্তরে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরেন পাকিস্তানের সাবেক এই পেসার।
“বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান গত তিন (চার) সিরিজে দলের অংশ ছিল না, যেখানে সাইম, ফাখার ও সাহিবজাদা ফারহান টপ অর্ডারে খেলেছে। এমন না যে, কাউকে দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে উপেক্ষা করা হচ্ছে কিংবা নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রায়ই গণমাধ্যমে তুলে ধরা হয়, তবে ক্রিকেটার হিসেবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। যারা খেলতে চায়, সবার জন্যই সুযোগ থাকে।”
“টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দুটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ; রান করার সামর্থ্য এবং ম্যাচের পরিস্থিতি ও আবহ অনুযায়ী স্ট্রাইক রেট। আমরা সবসময় এটাই বিবেচনা করি।”
পাকিস্তানের হয়ে এখন পর্যন্ত ১২৮ টি-টোয়েন্টি খেলে তিন সেঞ্চুরি ও ১২৯.২২ স্ট্রাইক রেটে চার হাজার ২২৩ রান করেছেন বাবর। সাড়ে তিন হাজার রানও নেই দেশটির কারো। ১০৬ ম্যাচ খেলে এক সেঞ্চুরি ও ১২৫.৩৭ স্ট্রাইক রেটে রিজওয়ানের রান তিন হাজার ৪১৪।
টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ দুই রান সংগ্রাহক হলেও বাবর ও রিজওয়ানের ব্যাটিংয়ের ধরন ও স্ট্রাইক রেট নিয়ে চর্চা কম হয়নি। সঙ্গে অধারাবাহিক পারফরম্যান্স যোগ করে বাড়তি মাত্রা। এই সংস্করণের সাবেক দুই অধিনায়ককে বাদ দেওয়ার আলোচনাও ওঠে জোরেশোরে। গত ডিসেম্বরের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর সেই পথেই হাঁটে পাকিস্তান।
গত এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নিজেদের মেলে ধরে দলে ফেরার সুযোগ ছিল বাবর ও রিজওয়ানের সামনে। কিন্তু প্রত্যাশামতো পারফরম্যান্স করতে পারেননি তারা।
পিএসএলের গত আসরে পেশাওয়ার জালমির হয়ে ১০ ম্যাচ খেলে ২৮৮ রান করেন বাবর ১২৮.৫৭ স্ট্রাইক রেটে। পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেন তিনটি, পাননি তিন অঙ্কের স্বাদ। আসরে তার ব্যাটিং গড় ছিল ৩৬।
বাবরের তুলনায় অবশ্য ভালো খেলেন রিজওয়ান। মুলতান সুলতান্স অধিনায়ক ১০ ম্যাচে ৩৬৭ রান করেন ১৩৯.৫৪ স্ট্রাইক রেটে। তার ব্যাটিং গড় ছিল ৫২.৪২, একটি করে ছিল সেঞ্চুরি ও ফিফটি। তাতেও অবশ্য নির্বাচকদের সন্তুষ্ট করতে পারেননি তিনি।
আকিব অবশ্য নিশ্চিত করেছেন, টি-টোয়েন্টি দলে ফেরার দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি বাবর ও রিজওয়ানের জন্য। নিজেদের আরেকবার প্রমাণ করে জায়গা করে নেওয়ার বার্তা দিলেন তিনি।
“এমন না যে আমরা তাদেরকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে দিয়েছি…কোনো খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারেরই শেষ বলে দেওয়া যায় না-সুযোগ সবসময় থাকে। এই মুহূর্তে তারা (ক্রিকেটাররা) বিগ ব্যাশ ও পিএসএলের মতো লিগে অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। যে পারফর্ম করবে সেই খেলবে, এবং যারা ভালো করবে কেবল তারাই খেলার যোগ্য।”
এশিয়া কাপে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বসহ আসরে তিনবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই দুই দলের। আকিবের বিশ্বাস, ভারতের বিপক্ষে জেতার সব রসদ আছে তাদের দলে।
“পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দল ভারতকে হারাতে পারে। ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ সবসময়ই বিশাল কিছু। এই ১৭ জনের স্কোয়াড যেকোনো দলকে হারাতে পারে। আমাদের তাদের ওপর চাপ দেওয়া উচিত নয়, তবে এই দলের কাছে আমার প্রত্যাশা অনেক।”
ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শুরু পাকিস্তানের এশিয়া কাপ অভিযান।