Published : 31 Jan 2026, 11:12 PM
ছোট মাঠ। ব্যাটিং সহায়ক উইকেট। দুই দলই করল রান উৎসব। ইশান কিষানের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি, সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের ঝড়ো ফিফটি ও হার্দিক পান্ডিয়ার ক্যামিওতে ভারত গড়ল বিশাল সংগ্রহ। ফিন অ্যালেনের ব্যাটে উড়ন্ত শুরুর পরও লক্ষ্যের ধারেকাছে যেতে পারল না নিউ জিল্যান্ড।
পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে ৪৬ রানের জয়ে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল ভারত। চতুর্থ ম্যাচটি শুধু জিততে পারে নিউ জিল্যান্ড।
থিরুভানান্থাপুরামে শনিবার ২০ ওভারে ভারত তোলে ৫ উইকেটে ২৭১ রান। ১৬৯ রান আসে শেষ ১০ ওভারে।
জবাবে আট ওভারে এক উইকেটে ১০৫ রানের শক্ত অবস্থানে থেকে পথ হারিয়ে, দুই বল বাকি থাকতে ২২৫ রানে গুটিয়ে যায় নিউ জিল্যান্ড।
দুই দল মিলিয়ে রান হয়েছে মোট ৪৯৬, এই সংস্করণে এক ম্যাচে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের ৫১৭ রান সর্বোচ্চ।
চার ওভারে ৫১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ভারতের সফলতম বোলার আর্শদিপ সিং। এই সংস্করণে ম্যাচে পাঁচ উইকেট পেতে পঞ্চাশের বেশি রান দিতে হয়নি আর কোনো বোলারকে।
প্রথম দুই ওভারে ৪০ রান দিয়ে একটি উইকেট নিতে পারেন আর্শদিপ। শেষ দুই ওভারে স্রেফ ১১ রানে শিকার করেন ৪ উইকেট।
ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবার পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন ২৬ বছর বয়সী এই বাঁহাতি পেসার। ২০২৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৯ রানে ৪ উইকেট ছিল তার আগের সেরা বোলিং।
ভারতের জয়ের ভিতটা গড়ে দেন মূলত কিষান। চোটের কারণে চতুর্থ ম্যাচে বাইরে থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ১০ ছক্কা ও ছয় চারে খেলেন ৪৩ বলে ১০৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। দেশের হয়ে এই সংস্করণে প্রথম সেঞ্চুরিতে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ তিনিই।
ছয়টি ছক্কা ও চারটি চারে ৩০ বলে ৬৩ রান করেন অধিনায়ক সুরিয়াকুমার। কিষান ও তিনি গড়েন ৫৮ বলে ১৩৭ রানের জুটি, তৃতীয় উইকেট জুটিতে যা ভারতের রেকর্ড। পেছনে পড়ে গেছে ২০১৬ সালে অ্যাডিলেইডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সুরেশ রায়না ও ভিরাট কোহলির ১৩৪ রানের জুটি।
নিউ জিল্যান্ডের ওপেনার অ্যালেনের আট চার ও ছয় ছক্কায় ৩৮ বলে ৮০ ছাড়া আর কেউ ৩৩ রানের বেশি করতে পারেননি।
রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম বলে আর্শদিপকে চার মেরে শুরুর পর ওই ওভারেই বিদায় নেন টিম সাইফার্ট। প্রথম দুই বলে চার মেরে শুরু করা অ্যালেন তোলেন ঝড়। আর্শদিপের পরের ওভারে চারটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি।

প্রথম ছয় ওভারে নিউ জিল্যান্ড করে ১ উইকেটে ৭৯ রান। ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লেতে কোনো দলের সর্বোচ্চ স্কোর এটি। ২০১৬ সালে লডারহিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিনা উইকেটে ৭৮ ও ২০২৩ সালে গেবেখায় দক্ষিণ আফ্রিকার ১ উইকেটে ৭৮ ছিল যৌথভাবে আগের সর্বোচ্চ।
বিপজ্জনক হয়ে ওঠা অ্যালেনকে নবম ওভারে ফিরিয়ে শতরানের জুটি ভাঙেন আকসার প্যাটেল। রাচিন রাভিন্দ্রার সঙ্গে ১০০ রানের জুটিতে অ্যালেনের অবদানই ৭১।
অ্যালেনের বিদায়ের পর দ্রুত আরও তিন ব্যাটসম্যানকে হারায় নিউ জিল্যান্ড। আকসার পরের ওভারে বিদায় করেন গ্লেন ফিলিপসকে।
দ্বাদশ ওভারে বোলিংয়ে ফেরানো হয় আর্শদিপকে। প্রথম দুই ওভারে ৪০ রান দেওয়া বোলার এবার স্রেফ এক রান দিয়ে তুলে নেন রাভিন্দ্রা (১৭ বলে ৩০) ও মিচেল স্যান্টনারের উইকেট।
একপর্যায়ে এক উইকেটে ১১৭ থেকে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর হয়ে যায় ৫ উইকেটে ১৩৭।
পাল্টা আক্রমণ শুরু করে জাসপ্রিত বুমরাহর টানা তিন বলে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন ড্যারিল মিচেল। ওই ওভারে বুমরাহ দেন ২২ রান। ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে তার সবচেয়ে খরুচে ওভার এটি। ২০১৭ সালে কানপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক ওভারে দিয়েছিলেন ২১ রান।
মিচেল যদিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। নিজের শেষ ওভারে কাইল জেমিসন ও মিচেলকে (১২ বলে ২৬) ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন আর্শদিপ। তাদের আগে ফেরেন বেভন জ্যাকবসও।
ইশ সোধির ১৫ বলে ৩৩ রানের ইনিংসে পরাজয়ের ব্যবধানই কমে শুধু নিউ জিল্যান্ডের।
আকসার ৩৩ রানে নেন ৩ উইকেট। বুমরাহ চার ওভারে ৫৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন।
২০ ওভারের ক্রিকেটে এই তারকা পেসারের সবচেয়ে খরুচে বোলিং এটি। ২০২১ আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ৫৬ রানে ১ উইকেট ছিল তার আগের খরুচে বোলিং।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতকে ভালো শুরু এনে দেন আভিশেক শার্মা। যদিও ইনিংস টেনে নিতে পারেননি তিনি (১৬ বলে ৩০)। সাঞ্জু স্যামসন ফেরেন অল্পে।
পাওয়ার প্লেতে দুই ওপেনারকে হারানোর পর ভারত এগিয়ে যায় কিষান ও সুরিয়াকুমারের জুটিতে। এক প্রান্তে ঝড় তোলেন কিষান, তাকে সঙ্গ দিয়ে যান সুরিয়াকুমার।
লেগ স্পিনার সোধির এক ওভারে চারটি চার ও দুটি ছক্কা মারেন কিষান। সুরিয়াকুমার পরে ডাফির এক ওভারে মারেন টানা তিনটি ছক্কা।

আরেকটি ছক্কার পর বিদায় নেন ভারত অধিনায়ক। পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসের পথে বলের হিসাবে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম তিন হাজার রানের রেকর্ডও গড়েন তিনি।
৯১ থেকে স্যান্টনারকে পরপর দুই ছক্কায় ৪২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কিষান। ভারতের হয়ে তার প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি এটি, সব মিলিয়ে ২০ ওভারের ক্রিকেটে সপ্তম। সেঞ্চুরি ছুঁয়ে পরের বলেই বিদায় নেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
পান্ডিয়ার চারটি ছক্কা ও একটি চারে ১৭ বলে ৪২ রানের ইনিংসে পৌনে তিনশর কাছে পৌঁছে যায় ভারত।
ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতের শেষ সিরিজ ও শেষ ম্যাচ ছিল এটি। প্রস্তুতিটা ভালোই হলো তাদের।
পাঁচ ম্যাচে ভারতের ব্যাটসম্যানরা ছক্কা মেরেছেন মোট ৬৯টি, কোনো দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে কোনো দলের যা সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে পাঁচ ম্যাচে ইংল্যান্ডের ৬৪ ছক্কা ছিল আগের সর্বোচ্চ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ২৭১/৫ (আভিশেক ৩০, স্যামসন ৬, কিষান ১০৩, সুরিয়াকুমার ৬৩, পান্ডিয়া ৪২, রিঙ্কু ৮, দুবে ৭; ডাফি ৪-০-৫৩-১, জেমিসন ৪-০-৫৯-১, ফার্গুসন ৪-০-৪১-২, সোধি ৩-০-৪৮-০, ফিলিপস ১-০১০৮-০, স্যান্টনার ৪-০-৬০-১)
নিউ জিল্যান্ড: ১৯.৪ ওভারে ২২৫ (সাইফার্ট ৫, অ্যালেন ৮০, রাভিন্দ্রা ৩০, ফিলিপস ৭, মিচেল ২৬, স্যান্টনার ০, জ্যাকবস ৭, জেমিসন ৯, সোধি ৩৩, ফার্গুসন ৩, ডাফি ৯*; আর্শদিপ ৪-০-৫১-৫, পান্ডিয়া ২-০-১৫-০, বুমরাহ ৪-০-৫৮-০, ভারুন ৪-০-৩৬-০, আকসার ৪-০-৩৩-৩, আভিশেক ১-০-১৩-০, রিঙ্কু ০.৪-০-৭-১)
ফল: ভারত ৪৬ রানে জয়ী
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে জয়ী ভারত
ম্যান অব দা ম্যাচ: ইশান কিষান
ম্যান অব দা সিরিজ: সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ