Published : 27 Mar 2026, 02:47 PM
চোখধাঁধানো অঙ্কে ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রি করতে পেরে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন এক পক্ষ। কাঙ্ক্ষিত ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নিজেদের করে পেয়ে উচ্ছ্বসিত আরেক পক্ষ। ভারতীয় বোর্ডের কাজ এখানে শুধু সবকিছু খতিয়ে দেখে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া। তবে সেই প্রক্রিয়াতেই আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ডের ভাণ্ডার। বিশাল অঙ্কের অর্থ যোগ হবে তাদের কোষাগারেও।
সম্প্রতি আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি হয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও রাজস্থান রয়্যালস। আইপিএলের এই দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা বদলের ‘ট্রান্সফার ফি’ থেকে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) পাবে ১ হাজার ৫৫০ কোটি থেকে ১ হাজার ৮৮৩ কোটি রুপি পর্যন্ত।
১৭৮ কোটি মার্কিন ডলার বা ১৬ হাজার ৬৬০ কোটি রুপিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু কিনে নিয়েছে চার প্রতিষ্ঠানের একটি কনসোর্টিয়াম, যেখানে আছে আদিত্য বিরলা গ্রুপ, দা টাইমস অব ইন্ডিয়া গ্রুপ, বোল্ট ভেঞ্চার্স ও বিএক্সপিই (ব্ল্যাকস্টোন’স পারপেচুয়াল প্রাইভেট ইকুইটি স্ট্র্যাটেজি)।
রাজস্থান রয়্যালসও কিনেছে একটি কনসোর্টিয়াম। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা কাল সোমানির নেতৃত্বে এই কনসোর্টিয়ামে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) দুটি দলের কর্ণধার- ডেনভার ব্রঙ্কোসের রব ওয়াল্টন এবং ডেট্রইট লায়ন্সের স্বত্বাধিকারী শিলা ফোর্ড হ্যাম্পের ছেলে মাইকেল হ্যাম্প। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কিনতে তাদের খরচ হচ্ছে ১৬৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বা ১৫ হাজার ২৯০ কোটি রুপি।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা বদলে ৫ শতাংশ অর্থ পাবে ভারতীয় বোর্ড। ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজির চুক্তিতেই এই ৫ শতাংশ হস্তান্তরের শর্তটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এর ফলে ভারতীয় বোর্ডের নিয়ন্তা সংস্থাটি বিশাল অঙ্কের অর্থ পেতে চলেছে।
আইপিএলে যখনই কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা বদল হয়, তখনই এই শর্তটি কার্যকর হয়। বিসিসিআই এবং আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বাধ্যতামূলক অনুমোদনের সঙ্গে মিলিত হয়ে এই শর্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, প্রতিটি মালিকানা বদল থেকে যেন বোর্ড আর্থিকভাবে লাভবান হয়।
এই খাত থেকে এবারের আয়ের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক এখনই বের করা যাচ্ছে না, কারণ রাজস্থানের মালিকানা বদলের মধ্যে ওই ফ্র্যাঞ্চাইজির এসএ টোয়েন্টির দল পার্ল রয়্যালস ও সিপিএলের দল বারবাডোজ রয়্যালসও আছে। শুধু আইপিএল দলটির মূল্য থেকেই অর্থ পাবে ভারতীয় বোর্ড। তার পরও দুটি মালিকানা বদল থেকে ভারতীয় বোর্ড দেড় হাজার কোটি রুপির বেশি পাচ্ছে নিশ্চিতভাবেই।