Published : 02 Aug 2025, 12:46 AM
ব্যাটিংয়ে দিনের শুরুটা করেছিল ভারত, শেষটাও করল তারা। তবে ভিন্ন দুই ইনিংসে। মাঝে একটি ইনিংস শেষ ইংল্যান্ডের। দিনের শুরুতে দ্রুত ভারতকে থামিয়ে ইংলিশরা উড়ন্ত শুরু পায় উদ্বোধনী জুটিতে। তারপরও থমকে যায় তারা আড়াইশর আগেই। মোহাম্মদ সিরাজ ও প্রাসিধ কৃষ্ণার দারুণ বোলিংয়ের পর ইয়াশাসভি জয়সওয়ালের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বাড়ছে ভারতের লিড।
অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির পঞ্চম টেস্টে ওভালে দ্বিতীয় দিনে সব মিলিয়ে পতন হয়েছে ১৫ উইকেটের। এই সিরিজে এক দিনে এত বেশি উইকেট আর পড়েনি। লর্ডস টেস্টে চতুর্থ দিনে পড়েছিল ১৪ উইকেট।
শুক্রবারের খেলা শেষে ৮ উইকেট হাতে রেখে ৫২ রানে এগিয়ে আছে ভারত।
এদিন প্রথম ইনিংসে ভারতকে ২২৪ রানে অলআউট করার পর ১৩ ওভারেই ৯২ রান তুলে ফেলে ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি। সেখান থেকে তারা গুটিয়ে যায় ২৪৭ রানে। প্রথম দিন ফিল্ডিংয়ে চোট পেয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়া ক্রিস ওকস স্বাভাবিকভাবে ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি।
পেস সহায়ক আর ব্যাটিং দুরূহ উইকেটে ২৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৭৫। দুইবার জীবন পেয়ে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৪৯ বলে ৫১ রানে অপরাজিত আছেন জয়সওয়াল।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, ওভালে দ্বিতীয় দিন নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয় ইংল্যান্ড ও সারের প্রয়াত ব্যাটিং গ্রেট গ্রাহাম থর্পকে। তার ক্যারিয়ারের প্রতীক হেডব্যান্ড পরে মাঠে নামেন ইংল্যান্ডের ফিল্ডাররা। ধারাভাষ্যকার, দর্শকদেরও দেখা যায় সাদা হেডব্যান্ড পরতে। পরে বোলার সিরাজের মাথাতেও দেখা যায় এটি।
প্রথম দিনের ৬ উইকেটে ২০৪ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে ভারত টিকতে পারে স্রেফ ৩৪ বল। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, ১৮ বল ও ৬ রানের মধ্যে শেষ ৪ উইকেট হারায় তারা।
কারুন নায়ার আগের দিনের ৫২ রানের সঙ্গে যোগ করতে পারেন কেবল ৫। ভারতের শেষ তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে গাস অ্যাটকিনসন পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন স্রেফ ৩৩ রান দিয়ে। সিরিজে প্রথম খেলতে নামা পেসার ১৩ টেস্টের ক্যারিয়ারে চতুর্থবার পেলেন এই স্বাদ।

ব্যাটিংয়ে নেমে বেন ডাকেট ও জ্যাক ক্রলির ব্যাটে দারুণ শুরু পায় ইংল্যান্ড। ফ্লিক, স্কুপ, রিভার্স স্কুপ খেলে ভারতীয় পেসারদের এলোমেলো করে দেন ডাকেট। চতুর্থ ওভারে আকাশ দিপকে রিভার্স স্কুপ করে ছক্কায় ওড়ান বাঁহাতি ওপেনার। ষষ্ঠ ওভারে তিনি স্কুপ করে ছক্কা মারেন সিরাজকে।
দ্রুত রান তুলতে থাকেন ক্রলিও। প্রথম ১০ ওভারে ৭১ রান করে ফেলে ইংল্যান্ড।
অতি আগ্রাসনই ডাকেটের বিপদ ডেকে আনে। আকাশকে রিভার্স স্কুপের চেষ্টায় ব্যাটের কানায় লেগে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন তিনি। তার কাঁধে হাত রেখে হাসি মুখে ‘সেন্ড-অফ’ দেখিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন পেসার আকাশ।
৫ চার ও ২ ছক্কায় ৩৮ বলে ৪৩ রান করে ফেরেন ডাকেট। উদ্বোধনী জুটিতে ৯২ রান আসে কেবল ৭৮ বলে।
লাঞ্চের আগেই ক্রলি ফিফটি পূর্ণ করেন ৪২ বলে। ইংল্যান্ডের শতরান পূর্ণ হয় ১৪.৪ ওভারে।
ভারতের বিপক্ষে টেস্টে তৃতীয় দ্রুততম দলীয় শতক এটি। দলটির বিপক্ষে ২০১১ সালে পার্থের ওয়াকায় অস্ট্রেলিয়া শতরান পূর্ণ করেছিল ১৪ ওভারে, ২০০৭ সালে মিরপুরে বাংলাদেশের একশ ছুঁতে লেগেছিল ১৪.১ ওভার।
বিরতির পর ধৈর্য হারিয়ে প্রাসিধকে পুল করার চেষ্টায় সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ক্রলি। তার ব্যাট থেকে আসে ১৪ চারে ৫৭ বলে ৬৪ রান।
আট ওভারের দুর্দান্ত এক স্পেলে অলিভার পোপ (৪৪ বলে ২২), জো রুট (৪৫ বলে ২৯) ও জ্যাকব বেথেল- তিন জনকেই এলবিডব্লিউ করে ফেরান সিরাজ। চা-বিরতির আগে একই ওভারে জেমি স্মিথ ও জেমি ওভারটনকে বিদায় করেন প্রাসিধ।
একপর্যায়ে ২ উইকেটে ১৪২ থেকে ইংল্যান্ডের স্কোর তখন ৭ উইকেটে ২১৫!
অ্যাটকিনসনকে ফিরিয়ে চতুর্থ শিকার ধরেন প্রাসিধ। মাঝে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে কিছুক্ষণ। এক প্রান্ত আগলে রেখে ৫৭ বলে ফিফটি করেন হ্যারি ব্রুক। তাকে (৬৪ বলে ৫৩) বোল্ড করে স্বাগতিকদের ইনিংসের ইতি টানেন সিরাজ।
প্রাসিধ ও সিরাজ, দুজনেরই শিকার ৪টি করে উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দুইরকম শুরু করেন ভারতের দুই ওপেনার। জয়সওয়ালের ব্যাটে দেখা যায় আগ্রাসন, লোকেশ রাহুল ছিলেন সতর্ক। দশম ওভারে রাহুলকে স্লিপের ক্যাচ বানিয়ে ৪৬ রানের শুরুর জুটি ভাঙেন জশ টং।
২০ ও ৪০ রানে রানে জীবন পেয়ে এগিয়ে যান জয়সওয়াল। ওভারটনকে ছক্কায় উড়িয়ে ৪৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন বাঁহাতি ওপেনার।
একবার জীবন পেয়েও ইনিংস টেনে নিতে পারেননি সাই সুদার্শান (২৯ বলে ১১)। তাকে এলবিডব্লিউ করেন অ্যাটকিনসন। ‘নাইটওয়াচম্যান’ হিসেবে নেমে প্রথম বলে চার মারেন আকাশ। আলোকস্বল্পতায় দিনের খেলা শেষ হয়ে যায় ওই ওভারেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত ১ম ইনিংস: (আগের দিন ২০৪/৬) ৬৯.৪ ওভারে ২২৪ (কারুন ৫৭, ওয়াশিংটন ২৭, আকাশ ০*, সিরাজ ০, প্রাসিধ ০; ওকস ১৪-১-৪৬-১, অ্যাটকিনসন ২১.৪-৮-৩৩-৫, টং ১৬-৪-৫৭-৩, ওভারটন ১৬-০-৬৬-০, বেথেল ২-১-৪-০)
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৫১.২ ওভারে ২৪৭ (ক্রলি ৬৪, ডাকেট ৪৩, পোপ ২২, রুট ২৯, ব্রুক ৫৩, বেথেল ৬, স্মিথ ৮, ওভারটন ০, অ্যাটকিনসন ১১, টং ০*, ওকস আহত অনুপস্থিত; সিরাজ ১৬.২-১-৮৬-৪, আকাশ ১৭-০-৮০-১ প্রাসিধ ১৬-১-৬২-৪, জাদেজা ২-০-১১-০)
ভারত ২য় ইনিংস: ১৮ ওভারে ৭৫/২ (জয়সওয়াল ৫১*, রাহুল ৭, সুদার্শান ১১, আকাশ ৪*; অ্যাটকিনসন ৬-২-২৬-১, টং ৭-১-২৫-১, ওভারটন ৫-১-২২-০)