Published : 24 Feb 2026, 09:16 PM
সাচিন টেন্ডুলকারের ক্যারিয়ারে আউটের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর একটি ২০০৩ সালের ব্রিজবেন টেস্টে এলবিডব্লিউ হওয়া। ওই সময়ই ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সিদ্ধান্তটি দিয়েছিলেন যে আম্পায়ার, সেই স্টিভ বাকনর দুই দশকের বেশি সময় পর বললেন, ভুল করেছিলেন তিনি।
বাকনর ছিলেন তার সময়ের সবচেয়ে সম্মানিত আম্পায়ারদের একজন। ১২০টির বেশি টেস্ট ম্যাচসহ একাধিক বিশ্বকাপে আম্পায়ারিং করেছেন এই ক্যারিবিয়ান। তবে তার কিছু সিদ্ধান্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে নানা সময়ে।
তেমনই একটি সিদ্ধান্ত ছিল ২০০৩-০৪ মৌসুমের বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির ব্রিজবেন টেস্টে টেন্ডুলকারের আউট। সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলাপে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বলেন ৭৯ বছর বয়সী বাকনর।
“সাচিন টেন্ডুলকারকে এলবিডব্লিউ আউট দেওয়াটা ভুল ছিল। এখনও প্রতিদিন মানুষ এটি নিয়ে কথা বলে। আমি কেন তাকে আউট দিয়েছিলাম? সে কি আউট ছিল? এসব। তবে জীবনে ভুল হয়। আমি মেনে নিয়েছি যে, এটি ভুল ছিল।”
অস্ট্রেলিয়ান পেসার জেসন গিলেস্পির অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিটি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন টেন্ডুলকার। বল তার প্যাডে লাগে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের জোরাল আবেদনে সঙ্গে সঙ্গে আম্পায়ার বাকনর আঙুল তুলে দেন। কিছুটা অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে মাঠ ছাড়েন টেন্ডুলকার। তিন বলে শূন্য রানে ফেরেন তিনি।
রিপ্লেতে বোঝা যাচ্ছিল, বল স্টাম্পের অনেক ওপর দিয়ে চলে যেত। তখন ধারাভাষ্যে থাকা সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক টনি গ্রেগ বিস্ময় প্রকাশ করেন সিদ্ধান্তটি নিয়ে। এটিকে ‘ভয়াবহ সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।
সেই সময়ে এখনকার মতো ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস) ছিল না। তাই আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।
বাকনর ও টেন্ডুলকারের মধ্যে এটিই একমাত্র বিতর্কিত মুহূর্ত ছিল না। কয়েক বছর পর ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচে আব্দুল রাজ্জাকের বলে টেন্ডুলকারকে কট বিহাইন্ড আউট দেন বাকনর। যদিও রিপ্লে দেখে মনে হচ্ছিল, বল টেন্ডুলকারের ব্যাট স্পর্শ করেনি।
একবার বাকনরকে নিয়ে টেন্ডুলকার হাসতে হাসতে বলেছিলেন, “যখন আমি ব্যাটিং করি, তখন তাকে বক্সিং গ্লাভস পরিয়ে দাও।”