Published : 12 Jan 2026, 10:05 AM
ড্যারেন গফ নামটিই অনেকের জন্য নস্টালজিয়া ও রোমাঞ্চের ফুরফুরে বাতাস বয়ে আনে। নব্বই দশকে বেড়ে ওঠা ক্রিকেটপাগল কোনো কিশোর তার অ্যাকশনকে অনুকরণ করার চেষ্টা করেনি, এমন নজির বিরল। ইংল্যান্ডের হয়ে দুইশ ওয়ানডে উইকেট শিকারি প্রথম বোলার তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনও ইংল্যান্ডের চতুর্থ সফলতম বোলার। ইংলিশ এই পেস গ্রেট এবার বিপিএলে এসেছেন ধারাভাষ্য দিতে। ৫৫ বছর বয়সী সাবেক পেসার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কথা বললেন এই টুর্নামেন্ট, বাংলাদেশের ক্রিকেট, তার নিজের ক্যারিয়ার ও জীবন, সদ্য সমাপ্ত অ্যাশেজ ও আরও অনেক কিছু নিয়ে।
ধারাভাষ্য কি নিয়মিতই দিয়ে থাকেন? ইংল্যান্ডের বাইরে খুব বেশি দেখা যায় না আপনাকে!
ড্যারেন গফ: ১২ বছর ধরেই আমি ব্রডকাস্টার এবং শুধু ক্রিকেট নয়, সব খেলাই কাভার করি। তিনটি ফুটবল বিশ্বকাপ করেছি, দুটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ… গলফ করেছি। টকস্পোর্টের হয়ে কাজ করি, বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্পোর্টস স্টেশন। এসএ টোয়েন্টি করেছি, দা হান্ড্রেড, টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট… সবকিছু।
তবে আমি গোটা বিশ্ব ঘুরে কাজ করি না। আমি মূলত বেজড ব্রডকাস্টার। গত ১২ বছরের প্রায় প্রতি দিনই করেছি। তবে আমি কোচিংও করাই। এজন্য দেশের বাইরে নানা জায়গায় গিয়ে ধারাভাষ্য দেই না।
গত বছর নেপাল প্রিমিয়ার লিগ করেছি। এবারও করার কথা ছিল, কিন্তু মায়ের মৃত্যুর কারণে যেতে পারিনি। এরপর এখানে এলাম বিপিএল করতে। তবে আমি সাধারণত নানা জায়গায় ঘুরে ধারাভাষ্য দেই না। আরও অনেক ব্যস্ততা আমার আছে।
বিপিএলে আর একটি ম্যাচই করব। সিলেট থেকেই আমার শেষ। সামনে কিছু টুকটাক কাজ আছে। এরপর শ্রীলঙ্কা-ইংল্যান্ড সিরিজ করব (২২ জানুয়ারি শুরু)।
বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ে খুব বেশি ধারণা হয়তো আপনার ছিল না আগে। এবার কেমন দেখলেন? আপনার নজর কেড়েছে কারা?
গফ: নাহিদ রানা অবশ্যই আমাকে চমকে দিয়েছে তার গতি দিয়ে। অসাধারণ এক প্রতিভা। বিশ্বের যে কোনো জায়গাতেই কেউ ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করা মানে সে বড় এক সম্পদ। তাকে খুব ভালোভাবে সামলাতে হবে। ওকে দেখে যা মনে হয়, তিনটি সংস্করণেই খেলানো যাবে। লাল ও সাদা, দুই বলেই বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদ হতে যাচ্ছে সে।
শরিফুলকে ভালো লেগেছে। নতুন বলে সে দারুণ। মুস্তাফিজ তো বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি বোলারদের একজন। এত এত বৈচিত্র আছে ওর। সাইফ উদ্দিনও খারাপ নয়, গতির মিশ্রণ করে এবং ব্যাটিংও পারে।
পেসারদের বাইরে শান্ত দুর্দান্ত ক্রিকেটার। পারভেজ হোসেন ইমনকেও ভালো লেগেছে। আরও দু-একজনের একটু-আধটু ঝলক ভালো লেগেছে। শামীম যেদিন আশির বেশি রানের ইনিংস খেলল, সে দারুণ খেলেছিল। অন্য বোলাররাও… নাসুম ৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছে…। রিশাদ এখন বিগ ব্যাশে খেলছে। তবে লাহোর কালান্দার্সে কোচ হিসেবে ওকে পেয়েছিলাম। ড্রাফট থেকেই ওকে নিয়েছিলাম।
আমার মনে হয়, শান্ত ও নাহিদকে দলে রাখলে দল আরও ভালো হতে পারে। কোনো কারণে তারা (নির্বাচকরা) হয়তো অভিজ্ঞদের ওপর ভরসা রেখেছে।
আপনি নিজে তো রিভার্স সুইং খুব ভালো পারতেন। বিপিএলে কাউকে দেখেছেন রিভার্স করাতে? যদিও টি-টোয়েন্টিতে এটা খুবই কঠিন ও বিরল…
গফ: খুব একটা চোখে পড়েনি। চাপের মধ্যে একজনের বোলিং আমার সত্যিই দারুণ লেগেছে- রিপন মন্ডল। সুপার ওভারের ম্যাচটিতে কিছুটা রিভার্স সুইং সে পেয়েছে। শেষ ওভারে খুবই বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং করেছে। বাঁহাতি কাইল মেয়ার্স ও পরে খুশদিলের সামনে অফ সাইডে মাঠ সাজিয়ে বাইরে বাইরে খুব ভালো বল করেছে।
হাসান মাহমুদও কিছুটা করেছে। ওকেও ভালো লেগেছে।

অনেক পেসার দেখেছি এবার। বিশ্বজুড়ে লড়াই করতে হলে পেসার লাগবেই। ভারত যেমন একসময় শুধু দেশেই জিততে পারত, দেশের বাইরে ধুঁকত। এখন ওদের সাত-আট-নয়জন ভালো পেসার আছে এবং চিত্র বদলে গেছে।
বাংলাদেশও অনেকটা একই অবস্থায় আছে, এত ফাস্ট বোলার আছে ওদের, তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে। নিউ জিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো জায়গায় সফরে গেলে প্রয়োজনীয় বোলার এখন বাংলাদেশের আছে।
বাংলাদেশে এত পেসার দেখে অবাক হননি?
গফ: হ্যাঁ, সত্যিই চমকে গেছি এত ভালো মানের পেসার দেখে।
যেটা চোখে পড়ার মতো ব্যাপার ছিল, বিশেষ করে এখানে সিলেটে, পিচ ছিল পেসারদের সহায়ক, বিশেষ করে নতুন বলে। উপরিভাগে হালকা সবুজের ছোঁয়া ছিল, যা পেসারদের উৎসাহ জুগিয়েছে। এখানে স্পিনারদের জন্য সহায়তা ছিল, অনেক সময় স্কিড করেছে, কিছু টার্ন। ব্যাটসম্যানরাও রান পেয়েছে।
উইকেট এখানে দারুণ ছিল, সবার জন্যই কিছু না কিছু ছিল।
১৫০ কিলোমিটার গতির বোলারদের কথা বলছিলেন, ইংল্যান্ডে জফ্রা আর্চার, মার্ক উড আছে, কিন্তু আপনাদের সময়ে, মানে নব্বইয়ের দশকে খুব একটা ছিল না। কেন তখন পাওয়া যায়নি?
গফ: একদমই ছিল না, তা নয়। আমিই তো ৯০ মাইলের বেশি গতিতে বল করতে পারতাম। ডেভন ম্যাকলম ছিল। ক্রেই হোয়াইটও। পরে তো ফ্রেডি ফ্লিন্টফ, স্টিভ হার্মিসন ছিল। আমার দ্রুততম ডেলিভারি ছিল ৯৪.৬ মাইল। এখন আর্চার-উড আছে।
তখন তো মূলত আপনার সঙ্গে অ্যান্ডি ক্যাডিক, অ্যাঙ্গাস ফ্রেজারদেরই বেশি দেখা গেছে…
গফ: ক্যাডিক ৮৭-৮৮ মাইল গতিতে বল করত। সে ভালো বাউন্স আদায় করতে পারত। দারুণ বোলার ছিল। ডমিনিক কর্ক হয়তো ৮৪-৮৫ মাইল গতিতে করত।
দেখুন, নব্বই দশকের প্রথম ভাগে আমরা ধুঁকেছি। তবে নব্বইয়ের শেষ দিকে আমরা অনেক ভালো হয়ে উঠেছি। পাকিস্তানকে হারিয়েছি, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছি, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছি, প্রায় সব দলকেই। শুধু অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারিনি। তারা অনেকটা এগিয়ে থেকে বিশ্বের সেরা দল ছিল।
ইংল্যান্ড তো এখনও অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারছে না। অ্যাশেজে গলদটা হলো কোথায়?
গফ: খুবই হতাশাজনক ফল। সবার এত বেশি হতাশার মূল কারণ হলো, এবার বিশ্বাসটা এরকম ছিল যে, এই ইংল্যান্ড দলের সত্যিই অস্ট্রেলিয়াতে জয়ের সুযোগ আছে।
এখন যদি সত্যিকার অর্থে বলুন…সিরিজ শুরুর আগে যদি বলা হতো, কামিন্স স্রেফ একটি টেস্ট খেলবে, হেইজেলউড একটি না, লায়ন মাত্র কয়েক ওভার বোলিং করবে, খাওয়াজার ক্যারিয়ার শেষের পথে, স্মিথও একটি টেস্ট খেলতে পারবে না… ডগেট-নিসারদের নিয়ে খেলতে হবে, এমনকি জাই রিচার্ডসনও… তাহলে সবাই বলত যে ইংল্যান্ডের জয়ের দারুণ সম্ভাবনা আছে। এখন বলা যায়, ওরা সবাই ফিট থাকলে অস্ট্রেলিয়া ৫-০ ব্যবধানে জিতত। খুবই হতাশাজনক পারফরম্যান্স।

অনেক হোমওয়ার্ক করতে হবে। খেলার ধরন পুনর্মুল্যায়ন করতে হবে। নিষ্প্রাণ পিচে আমাদেরকে ভালো মনে হয়। বল একটু মুভ করলেই আমাদের ব্যাটিং দৃষ্টিকটূ লাগে। টেকনিকের দিক থেকে আমাদের ব্যাটিং যথেষ্ট ভালো নয়। টেকনিক্যালি সেরা দুজন ব্যাটসম্যান মনে হয়েছে, একজন অবশ্যই জো রুট, আরেকজন জেকব বেথেল। বেথেল মাত্র দুটি টেস্ট খেলেছে।
ওরা দেখিয়েছে যে, যথাযথ টেকনিকে ব্যাট করলে এখানে রান করা যায়। রুট দুটি সেঞ্চুরি করেছে। এই দুজন ছাড়া অন্যদেরকে তাদের খেলার ধরন পুনর্বিবেচনা করা উচিত। বল যখন মুভ করে, শীর্ষমানের বোলিংয়ের সামনে মাথার ব্যবহার করা উচিত।
বাজবল এবং বাজ (কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম) টিকে থাকবে বলে মনে হয়?
গফ: আমার তো বরং ‘হেডবল’ বেশি পছন্দ! ট্রাভিসবল বা ট্রাভবল… বাজবলের চেয়ে ট্রাভবল ভালো ছিল।
দেখুন, ইতিবাচক ক্রিকেট নিয়ে আমার আপত্তি নেই। এটা বরং দারুণ। কিন্তু আমরা যদি ইতিবাচক ক্রিকেটের সঙ্গে ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তা মেশাতে পারি, রুট যেমন করেছে, তাহলে হয়তো আরও ভালো দলকে হারানো সুযোগ আরও বেশি থাকবে।
ইংল্যান্ডকে সবসময়ই বিচার করা হবে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ ও অ্যাশেজ দিয়ে। কারণ, এগুলো পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। অন্যগুলি তিন ম্যাচের।
আপনাদের সময়ে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দল হিসেবে না পারলেও আপনি বেশ ভালোই করেছেন…
গফ: অস্ট্রেলিয়াতে ৮ টেস্ট খেলেছি, ৪১ উইকেট নিয়েছি, বেশ ভালো রেকর্ড…!
অস্ট্রেলিয়ায় তো সফরকারী দলগুলির জন্য কাজটা কঠিন, বিশেষ করে ইংলিশদের জন্য। প্রতিপক্ষ, দর্শক, মিডিয়া, গোটা আবহ মিলে চ্যালেঞ্জ জানায় সেখানে। আপনার সাফল্যের মন্ত্র কি ছিল সেখানে?
গফ: আমি সেই মানুষদের একজন, যে বাইরের সবকিছু ব্লক করে দিতে পারে। ক্রিকেট খেলতে উপভোগ করি, ফাস্ট বোলিং করতে ভালো লাগে, দর্শক যত বড় ও বৈরী, আমার পারফর্ম করতে ততই ভালো লাগত। লোকে আমাকে ‘বক্স অফিস গফ’ বলে চিৎকার করে ডাকত এবং সেভাবেই নিজেকে মেলে ধরতাম। বাইরের এসব নিয়ে চাপ নিতাম না।
আমি শুধু জোরে বোলিং করতে চাইতাম। অস্ট্রেলিয়ায় সেটাই করতে হয়। অস্ট্রেলিয়াতে পারফর্ম করতে পারলে লোকে আপনাকে ভালোবাসবে, সমর্থকেরা পছন্দ করবে। অস্টেলিয়ান দর্শকরা সবার চরম পরীক্ষা নেয়। কিন্তু সেটায় উতরে গেলে বা ভালো করলে তারা আপনাকে দারুণ সম্মান করবে।
উপমহাদেশেও আপনি বেশ সফল ছিলেন। কিভাবে সম্ভব করেছিলেন?
গফ: আমার হৃদয় ছিল বিশাল, বোলিংয়ে ছিল বৈচিত্র। নতুন বল দুই দিকেই সুইং করাতে পারতাম। পুরোনো হলে রিভার্স সুইং ব্যবহার করতাম। ক্রিজের ব্যবহার করতাম। স্লোয়ার ডেলিভারিও ছিল।
ইংলিশ ক্রিকেট মহল তো রিভার্স সুইং নিয়ে শুরুতে অনেক সংশয়-সন্দেহ করেছে। আপনি কিভাবে শিখেছিলেন?
গফ: ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুসকে দেখে অনুকরণ করেছি (হাসি)…।
নাহ,সত্যি বলতে, আমার বোলিং অ্যাকশনের কারণে করাটা সহজ হয়েছে। স্কিডি অ্যাকশন ছিল। একটু রাউন্ড আর্ম অ্যাকশন… রিভার্স সুইং করানোর সময় আরও বেশি রাউন্ড করতাম… বল হাত থেকে বেরিয়ে আসত ফ্লাইং সসারের মতো করে এবং রিভার্স সুইংয়ের মতো কিছু থাকলেই আমি আদায় করতাম। রিভার্স সুইং এভাবেই পেতে হয় এবং আমি সেটায় ভালোই ছিলাম। অনেক উইকেট পেয়েছি এই ডেলিভারিতে, বিশেষ করে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায়।
আপনার সময়ে বিশ্বকাপগুলোতে ইংল্যান্ড ভালো করেনি…
গফ: হ্যাঁ, হতাশাজনক ছিল। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে আমাদের দলটাই ভালো ছিল না। অনেক ক্রিকেটার ক্যারিয়ারের শেষ দিকে ছিল, ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে সংশয় ছিল, আমাদেরকে সামলানো হয়েছে খুব বাজেভাবে।
তবে ১৯৯৯ সালে দেশের মাঠের বিশ্বকাপে আমাদের ভালো সম্ভাবনা আছে বলেই মনে হয়েছিল আমার। প্রথম ম্যাচে আমরা হারালাম আগের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে। লোকে ধরে নিয়েছিল আমরা ভালো দল।
তবে পরে পেছন ফিরে তাকালে মনে হয়, আমাদের দলের গভীরতা ও স্কিল যথেষ্ট ছিল না। গ্রুপ থেকেই বাদ পড়ে যাই আমরা। কিছুটা দুর্ভাগাও ছিলাম। গোটা দুয়েক ম্যাচে খুব কাছে গিয়ে হেরেছি। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি যেমন… ওই ম্যাচটি আমাদের জিততেই হতো, প্রচণ্ড চাপে ছিলাম আমরা। ম্যাচটি হেরে আমরা বাদ পড়ে যাই।
আমি অবশ্য চোটে পড়ে গিয়েছিলাম। ইংল্যান্ড পরের ধাপে গেলেও আমি খেলতে পারতাম না।
যাদের বিপক্ষে বোলিং করেছেন, আপনার চোখে সেরা ব্যাটসম্যান কে?
গফ: একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো, আমি কখনও ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলিনি। দুবার সুযোগ ছিল, দুবারই চোটে পড়েছিলাম। আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় আক্ষেপগুলোর একটি এটি। বিশেষ করে, নব্বই দশকের শেষ দিকে, কারণ তখন দুর্দান্ত ফর্মে ছিলাম….। ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সময়টায় ফর্মের চূড়ায় ছিলাম…।
মানে, আপনি সাচিন টেন্ডুলকারকে বোলিং করার সুযোগ পাননি!
গফ: টেস্টে করতে পারিনি। তবে আমি জানি সে কেমন। ওয়ানডেতে তাকে বোলিং করেছি অবশ্যই এবং ইয়র্কশায়ারে তার সঙ্গে খেলেছি। তার সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানি।
আমার দেখা বা যাদের বিপক্ষে খেলেছি, তাদের মধ্যে সেরা ব্যাটসম্যান…. সাচিন অবশ্যই একজন… সাচিন, ব্রায়ান লারা, জ্যাক ক্যালিস…. রিকি পন্টিং, ইনজামাম-উল-হাক… বছর দুয়েক মোহাম্মদ ইউসুফ দুর্দান্ত ছিল…
এই তো, কাউকে আলাদা করে বেছে নিতে চাই না।

তবে বোলার হিসেবে সবচেয়ে কঠিন ব্যাটসম্যান যদি বলেন, সেটা ছিল অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। কারণ সে ব্যাটিংয়ে নামত সাতে। আমরা তখন ২০-২৫ ওভার বোলিং করে ক্লান্ত। সে নেমে ইচ্ছেমতো পেটাত।
সে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এবং ল্যান্স ক্লুজনার দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সাতে নেমে যা করত… বোলারদের কাজ খুব কঠিন হয়ে উঠত।
জো রুট কি সাচিন টেন্ডুলকারের টেস্ট রান ও সেঞ্চুরির রেকর্ড টপকাতে পারবে বলে মনে হয়?
গফ: অবশ্যই। আমার কোনো সংশয় নেই।
তার মানেই কি সর্বকালের সেরা হয়ে যাবে? জানি না। প্রতিটি যুগ আলাদা। আধুনিক ক্রিকেটাররা অনেক বেশি ম্যাচ খেলে, এজন্যও অনেক রেকর্ড ভেঙে যায়। জিমি অ্যান্ডারসন ১৮৮ টেস্ট ম্যাচ খেলেছে, স্টুয়ার্ট ব্রড ১৬৭টি। এসব কোনো কথা! জো রুটের ১৭০ টেস্ট (১৬৩) হয়ে গেছে।
ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের ক্রিকেটাররা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ খেলে। তাদের রেকর্ডের সুযোগও বেশি।
তাই আমি তুলনায় যাব না। শুধু বলব, জো রুট অসাধারণ ক্রিকেটার।
সর্বকালের সেরার বিতর্কে নাহয় গেলেন না, রুট কি ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা?
গফ: হ্যাঁ, আমার মনে হয় না এটা নিয়ে কোনো সংশয় আছে। গ্রাহাম গুচও দারুণ ছিলেন। কিন্তু জো রুটই সর্বকালের সেরা ইংলিশ টেস্ট ব্যাটার।
আপনি যার বিয়ের ‘বেস্ট ম্যান’ ছিলেন, সেই কেভিন পিটারসেন?
গফ: সে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা হতে পারত! কিন্তু ওরা (নীতি-নির্ধারকরা) কেভিনের ক্যারিয়ারের ৩-৪ বছর কেড়ে নিয়েছে নানা বিতর্কে।
সে দুর্দান্ত ক্রিকেটার ছিল এবং ইংল্যান্ডের প্রথম ক্রিকেটার, যে সত্যিকার অর্থেই বিনোদনদায়ী ও রোমাঞ্চকর ছিল এবং অনেক বাচ্চাকে উব্ধুদ্ধ করেছে তার মতো খেলতে।
খেলোয়াড়ি জীবনেই ২০০৫ সালে আপনি বিবিসির ড্যান্স রিয়েলিটি শোতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এই প্রতিভা কি আপনার বরাবরই ছিল? সেখানে যাওয়ার পেছনে ভাবনা কি ছিল?
গফ: সবাই বলছিল যে, এটার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিত্ব আমার আছে। আমি সবকিছুতে নিজেকে পরখ করতে চেয়েছি। ট্যুর ডি ফ্রান্সে অংশ নিয়েছে আমি, টিভি শোতে বাইক নিয়ে পাহাড়ে রাইড দিয়েছি, মেক্সিকোয় পেশাদার রেসলিং লড়েছি, ড্যান্স রিয়েলিটি শো জিতেছি, স্কি জাম্পিং করেছি… রান্নার প্রতিযোগিতায় গিয়েছি… হ্যাঁ, অনেক কিছুই করেছি।
নাচের প্রতিযোগিতায় আমি ভাবতেও পারিনি চ্যাম্পিয়ন হব। নিজেও বিশ্বাস করতে পারিনি তখন। জীবনেও আগে কখনও নাচিনি। কিন্তু ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জিতেছি। ১২ সপ্তাহের লম্বা অনুষ্ঠান ছিল.
খেলা ছাড়ার পর এতকিছু করেছেন… সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছেন কি?
গফ: টিভি শো যেসব করি, অবশ্যই উপভোগ করি। তবে রেডিওর কাজটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। ১২ বছর রেডিওতে কাজ করেছি। মূলত ফুটবল নিয়ে, তবে ক্রিকেট, গলফ, ফর্মুলা ওয়ান, সবই ছিল। সব খেলাই করেছি, সব খেলাই পছন্দ আমার।
ইয়র্কশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের পরিচালক ছিলাম বছর তিনেক। যা কিছু যাচ্ছিল ক্লাবের ওপর দিয়ে (বর্ণবাদ বিতর্কে টালমাটাল)… আমি গিয়ে সেটা সামাল দেওয়া ও গড়ে তোলার কাজ করেছি। সেই কাজ শেষ করে আবার ব্রডকাস্টিংয়ে ফিরেছি।
আপনি এত ফুটবল কাভার করেছেন, প্রিয় ফুটবল ক্লাব কোনটি?
গফ: বার্নসলি এফসি, যে শহরের সন্তান আমি। আমরা এখন লিগ ওয়ানে খেলছি।
প্রিমিয়ার লিগের কথা বললে, টটেনহ্যাম হটস্পার। আমার যখন ১১ বছর বয়স, ওরা এফএ কাপ জিতেছিল ১৯৮১ সালে। সেই স্মৃতি মনে গেঁথে আছে।
বার্নসলি সবশেষ এফএ কাপ জিতেছে ১৯১২ সালে, যেবার টাইটানিক ডুবে গেল। ক্লাবকে প্রিমিয়ার লিগে উঠতে দেখেছি আমি, যা ছিল বিরাট ব্যাপার।
আরও অনেকের মতোই আমি বিশ্বাস করি, যেখানে আমার শেকড়, সেই দলকেই সমর্থন করা উচিত। বার্নসলিই আমার দল।
বিপিএল থেকে বিদায় নিচ্ছেন, এখানে কোন ব্যাপারটি সবচেয়ে ভালো লেগেছে?
গফ: টুর্নামেন্ট একটি জায়গাতেই হলো এখনও পর্যন্ত, যা সবার জন্যই দুঃখজনক। তবে সেটা কিছু করার ছিল না, পরিস্থিতিই বাধ্য করেছে। অন্য কোথাও যেতে পারলে ভালো লাগত।
বিপিএলে ভালো লেগেছে যে, সব দলই কাছাকাছি। হ্যাঁ, নোয়াখালী টানা ছয়টি হেরেছে। তবে তারাও ভালো দল এবং সেটা রংপুরকে হারিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। আমার কাছে এটাই ভালো লেগেছে যে, শক্তিতে সব দলই কাছাকাছি।