আইসিসি র্যাঙ্কিং
Published : 10 Dec 2025, 04:36 PM
সিংহাসন পুনরুদ্ধারের পথে আরও এগিয়ে গেছেন ভিরাট কোহলি। ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে ফেরার খুব কাছে এখন ভারতের ব্যাটিং গ্রেট। চূড়ায় থাকা রোহিত শার্মার সঙ্গে তার রেটিং পয়েন্টের পার্থক্য স্রেফ ৮।
যথারীতি বুধবার পুরুষ ক্রিকেটারদের র্যাঙ্কিংয়ের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রকাশ করা হয়েছে, এতে ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দুই ধাপ এগিয়েছেন কোহলি। ৭৭৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে তিনি। তার সতীর্থ ও ভারতের আরেক সাবেক অধিনায়ক রোহিতের রেটিং পয়েন্ট ৭৮১।
ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে টানা তিন বছরের বেশি সময় ধরে চূড়ায় ছিলেন কোহলি। ২০২১ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের বাবর আজমের কাছে শীর্ষস্থান হারানোর পর আর সেখানে ফিরতে পারেননি তিনি। একটা সময় তো সেরা দশের বাইরে চলে গিয়েছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে এখন শীর্ষে ফেরার খুব কাছে পৌঁছে গেছেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করে এক ধাপ এগিয়ে চারে উঠেছিলেন রোহিত। পরের দুই ম্যাচেই হাসে তার ব্যাট। গত বুধবার দ্বিতীয় ম্যাচেও তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পান তিনি, খেলেন ২ ছক্কা ও ৭ চারে ১০২ রানের ইনিংস।
সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে গত শনিবার ৬৪৫ রান করে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন কোহলি। তিন ম্যাচে ৩০২ রান করে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতে নেন তিনি।
এই পারফরম্যান্সে ২২ রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে তার। তালিকায় তিনে ও চারে নেমে গেছেন নিউ জিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল (৭৬৬) ও আফগানিস্তানের ইব্রাহিম জাদরান (৭৬৪)।
ভারতের পরের ওয়ানডে সিরিজ জানুয়ারিতে, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। রোহিতকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠতে পারেন কিনা কোহলি, সেটা নিয়ে নিশ্চিতভাবেই থাকবে আগ্রহ।
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে শুবমান গিলের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা লোকেশ রাহুলও উন্নতি করেছেন। দুই ধাপ এগিয়ে এখন দ্বাদশ স্থানে এই কিপার-ব্যাটসম্যান।
দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক (৩ ধাপ এগিয়ে ১৩তম), এইডেন মার্করাম (৪ ধাপ এগিয়ে ২৫তম) ও টেম্বা বাভুমারও (৩ ধাপ এগিয়ে ৩৭তম) অগ্রগতি হয়েছে।
ওয়ানডে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে কুলদিপ ইয়াদাভের। ভারতের বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার তিন ধাপ এগিয়ে এখন ক্যারিয়ার সেরা তৃতীয় স্থানে, রেটিং পয়েন্ট ৬৫৫। এই তালিকায় শীর্ষে আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রাশিদ খান (৭১০), দুইয়ে ইংলিশ পেসার জফ্রা আর্চার (৬৭০)।
অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্ট ও নিউ জিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের পারফরম্যান্সও বিবেচনায় এসেছে এবারের হালনাগাদে।
দিবা-রাত্রির ব্রিজবেন টেস্টে ইংল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারানোর পথে ব্যাটে-বলে অবদান রাখেন মিচেল স্টার্ক। টেস্ট অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে এখন তিনি পাঁচে। এই তালিকায় শীর্ষে ভারতের রাভিন্দ্রা জাদেজা।
গোলাপি বলের টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৬টিসহ মোট ৮ উইকেট নেন স্টার্ক। এতে টেস্ট বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ার সেরা তৃতীয় স্থানে উঠলেন তিনি। তার রেটিং পয়েন্ট এখন ৮৫২। অস্ট্রেলিয়ান অভিজ্ঞ পেসারের উপরে আছেন নিউ জিল্যান্ডের ম্যাট হেনরি (৮৫৩) ও ভারতের জাসপ্রিত বুমরাহ (৮৭৯)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিমার রোচের অগ্রগতি ৫ ধাপ, আছেন ১৮ নম্বরে। ইংল্যান্ডের ব্রাইডন কার্স ৪ ধাপ এগিয়ে এখন ২৯তম স্থানে। নিউ জিল্যান্ডের জ্যাকারি ফোকস এগিয়েছেন ৯ ধাপ, অবস্থান ৫৫তম। বড় লাফ দিয়েছেন তার সতীর্থ জ্যাকব ডাফি, ৭৬ ধাপ উন্নতি করে এখন তিনি যৌথভাবে রোস্টন চেইসের সঙ্গে ৬৩ নম্বরে।
ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে আগের মতোই শীর্ষে ব্রিজবেনে সেঞ্চুরি করা ইংলিশ গ্রেট জো রুট। এক ধাপ করে এগিয়ে দুই ও তিনে যথাক্রমে নিউ জিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন ও অস্ট্রেলিয়ার স্টিভেন স্মিথ। দুই ধাপ পিছিয়ে চারে ইংলিশ ব্যাটসম্যান হ্যারি ব্রুক।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা কিউই ব্যাটসম্যান রাচিন রাভিন্দ্রা এগিয়েছেন ৯ ধাপ, আছেন পঞ্চদশ স্থানে। আরেক কিউই সেঞ্চুরিয়ান টম ল্যাথামের উন্নতি ৬ ধাপ, অবস্থান ৩৪তম।
ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে সেঞ্চুরি করা শেই হোপ ১৯ ধাপ এগিয়ে ৪৮তম স্থানে। অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরিতে ক্যারিবিয়ানদের অবিশ্বাস্য এক ড্র এনে দেওয়া জাস্টিন গ্রেভসের অগ্রগতি ১৬ ধাপ, আছেন ৬০ নম্বরে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ৭৭ রান করে অস্ট্রেলিয়ার লিড নেওয়ার পথে বড় ভূমিকা রাখেন স্টার্ক। ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে ১২ ধাপ এগিয়ে এখন তিনি ৯০তম স্থানে।