বাংলাদেশের দায়িত্বে থাকছেন না গিবসন

পাকিস্তান সুপার লিগের দল মুলতান সুলতানস বুধবার রাতে টুইটারে জানায়, তাদের সহকারী ও ফাস্ট বোলিং কোচের দায়িত্ব নিচ্ছেন ওটিস গিবসন। সেই খবরে বিস্ময় ও প্রশ্নের জোয়ার বয়ে যায় বাংলাদেশের ক্রিকেটে। গিবসন যে বাংলাদেশের বোলিং কোচ! অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে নিশ্চিত হওয়া গেল, এই দায়িত্ব ছেড়ে নতুন অভিযানে নামছেন সাবেক ক্যারিবিয়ান ফাস্ট বোলার।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Jan 2022, 04:56 AM
Updated : 13 Jan 2022, 04:56 AM

বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনিস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, চুক্তি নবায়ন না করার কথা কয়েক দিন আগে বোর্ডকে জানিয়ে দিয়েছেন গিবসন। ফোনে গিবসন নিজেও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেন, বাংলাদেশের দায়িত্বে এই সফরই তার শেষ। বিস্তারিত আর কিছু তিনি আপাতত বলেননি।

২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশের বোলিং কোচ হিসেবে গিবসনের নাম ঘোষণা করে বিসিবি। চুক্তি ছিল দুই বছরের। এই ২০ জানুয়ারি শেষ হচ্ছে তার মেয়াদ।

বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের সাম্প্রতিক উন্নতিতে গিবসনের বড় ভূমিকা দেখেন সংশ্লিষ্ট সবাই। তাকে তাই ধরে রাখতে চেয়েছিল বিসিবি। তবে গিবসনের ভাবনা ভিন্ন, জানালেন জালাল ইউনুস।

“৪-৫ দিন আগে ওটিস (গিবসন) আমাদের জানিয়ে দিয়েছে, সে চুক্তি নবায়ন করছে না। আমাদের ভাবনা ছিল, সে থাকতে চাইলে তাকে রেখে দেব। তবে তার পরিকল্পনা ভিন্ন।”

“সেরকম কোনো কারণ সে দেখায়নি। বলেছে যে, সে এখানে কাজ করে খুব খুশি ছিল, এখন নতুন পথ দেখতে চায়। আনুষ্ঠানিক চিঠিতে যা বলে আর কী।”

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ২ টেস্ট ও ১৫ টি ওয়ানডে খেলা গিবসনের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ার দারুণ সমৃদ্ধ। বিশেষ করে ইংলিশ কাউন্টিতে ইনিংসে ১০ উইকেটের সবকটি নেওয়ার কীর্তিসহ তার রেকর্ড দুর্দান্ত। পরে কোচিংয়ে তিনি খ্যতি অর্জন করতে থাকেন ইংল্যান্ড থেকেই। ২০০৭ সাল থেকে তিন দফায় ছিলেন ইংল্যান্ডের বোলিং কোচ।

কোচ হিসেবে সেরা সাফল্য অবশ্য তার ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়েই। ২০১০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ছিলেন ক্যারিবিয়ানদের কোচ। তার কোচিংয়েই ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরে দায়িত্ব নেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচের।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের বোলিং কোচ হওয়ার ঠিক আগে বিপিএলে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের কোচ ছিলেন তিনি। বিপিএল চলার সময়ই বিসিবি তার সঙ্গে আলোচনা করে এবং পরে তাকে দেয় দায়িত্ব।

বাংলাদেশের দায়িত্বেও তাকে যথেষ্ট সফল বলতে হবে। কাজ শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশের পেস বোলিং সংস্কৃতি বদলানো, পেসারদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়া নিয়ে উচ্চকিত ছিলেন তিনি। পেসারদের তৈরি করে দেওয়াতেও তার চেষ্টা চোখে পড়ে সবারই। তাসকিন আহমেদের বদলে যাওয়া, মুস্তাফিজুর রহমানের স্কিল বাড়ানো, ইবাদত হোসেন চৌধুরির সাম্প্রতিক উত্থান, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলামের মতো তরুণদের উন্নতি, সবকিছুতেই তার বড় অবদান দেখেন সংশ্লিষ্টরা।

তিনি দায়িত্ব ছাড়ায় এখন আবার নতুন পেস বোলিং কোচের খোঁজে নামতে হবে বিসিবিকে। শেষ নয় শুধু সেখানেই। এই নিউ জিল্যান্ড সফর শেষে জাতীয় দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর কাজ মূল্যায়ন করা হবে বলেও কিছুদিন আগে জানিয়েছিলেন বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান। তিনি এখন কানাডায়, এই মাসের শেষ নাগাদ তার ফেরার কথা।

জালাল ইউনুস জানালেন, বোর্ড প্রধান ফিরলে এটা নিয়ে আলোচনা হবে।

“এখনও পর্যন্ত ডমিঙ্গো আমাদের কোচ, সেভাবেই সব ঠিক আছে। বিসিবি সভাপতি ফিরলে এটা নিয়ে আলোচনা হবে। আমাদের দলের স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত সবচেয়ে উপযুক্ত, সেটাই নেওয়া হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক