‘শেষবারের মতো’ ছাড় পেলেন সোহাগ-ধীমান-ফরহাদ

একবার, দুইবার নয়, তিন-তিনবার নেওয়া হয়েছে বিপ টেস্ট। একবারও উতরাতে পারেননি সোহাগ গাজী, ধীমান ঘোষ ও ফরহাদ হোসেন। হতাশ নির্বাচক হাবিবুল বাশার বুঝে ফেলেছেন, আর হবে না। তিন জনই ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞ ও নিয়মিত পারফরমার। শেষ পর্যন্ত বিশেষ বিবেচনায় ছাড় দেওয়া হয়েছে তাদেরকে। তবে হাবিবুল তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন, এবারই শেষ। পরের মৌসুমে ফিটনেসের উন্নতি না হলে তাদের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারও থমকে যাবে।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Oct 2019, 12:45 PM
Updated : 15 Oct 2019, 12:46 PM

প্রথম দুই দফায় ব্যর্থক্রিকেটারদের আরেক দফা বিপ টেস্ট নেওয়া হয় সোমবার। মৌসুম শুরুর আগে ন্যূনতম পাশের স্কোর১১ ধরা হলেও পরে সিনিয়র ক্রিকেটার ও পারফরমারদের জন্য সেটি কমিয়ে করা হয় ১০। ১০৮টিপ্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা নাদিফ চৌধুরি ১০.৩ স্কোর করে উতরে গেছেন। তবে এবারও পারেননিসোহাগ, ধীমান ও ফরহাদ।

বিপ টেস্টে পাশ না করায়জাতীয় লিগের প্রথম রাউন্ডে বিবেচনার বাইরে ছিলেন তারা সবাই। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিবেচনায়থাকবেন এই চার জন। তাদের খেলার ছাড়পত্র দিয়েছেন নির্বাচকেরা।

বিপ টেস্টে পাশ না করারপরও সোহাগ, ধীমান ও ফরহাদকে কেন ছাড়পত্র দেওয়া হলো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে সেটিজানালেন নির্বাচক হাবিবুল বাশার।

“আমি আসলে ভীষণ হতাশ।ওদেরকে এতবার বলেছি, বারবার বলেছি। তারপরও পারছে না। আগের চেয়ে উন্নতি করেছে। কিন্তুযথেষ্ট নয় তা। কী আর করব! খুব সহজেই ওদেরকে বাইরে রাখা যায়। প্রথম রাউন্ডে তো পারেনিখেলতে। তারপরও যেহেতু ওরা ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করে আসছে, অনেক বছর ধরে খেলছে,সব বিবেচনায় নিয়ে এবারের মতো ছাড় দেওয়া হয়েছে।”

“যে ক্রিকেটাররা অনেককষ্ট করে, পাশ করে খেলছে, তাদের প্রতি হয়তো ঠিক হলো না ওদেরকে এভাবে ছাড় দেওয়ায়। তবুবৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে ভেবে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে এবারই শেষ। আশা করি, ওরা এবার বুঝতেপেরেছে যে ফিটনেস নিয়ে আমরা কতটা কঠোর। পরেরবার উন্নতি করতে না পারলে ওদের ক্যারিয়ারআর এগোবে না নিশ্চিত।”

সোহাগ দীর্ঘদিন ধরেজাতীয় দলের বাইরে থাকলেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বেশ ধারাবাহিক। সবশেষ মৌসুমে ৭ ম্যাচে২৩ উইকেট নিয়েছেন, ব্যাট হাতে ছিল একটি সেঞ্চুরি। সব মিলিয়ে ৮৬ ম্যাচে ৩২৩ উইকেট নিয়েছেন২৮ বছর বয়সী এই অফ স্পিনার, ৮ সেঞ্চুরিতে রান সাড়ে ৩ হাজারের বেশি।

৩১ বছর বয়সী ধীমানেরসবশেষ মৌসুম ছিল গড়পড়তা। ১১ ম্যাচে ৫ ফিফটিতে ৪১৯ রান করেছিলেন ৩০ ছুঁইছুঁই গড়ে। তবেআগের কয়েক মৌসুমে এই কিপার-ব্যাটসম্যান পারফর্ম করেছেন নিয়মিত। ক্যারিয়ারে ১২৮ ম্যাচেরান সাড়ে ৬ হাজারের বেশি। কিপার হিসেবে ডিসমিসাল তিনশর বেশি।

ফরহাদ গত মৌসুমেও ১২ম্যাচে প্রায় ৪৯ গড়ে করেন ৭৩৩ রান। ৩২ বছর বয়সী অলরাউন্ডার ম্যাচ খেলেছেন ১৩৮টি। প্রথমশ্রেণির ক্রিকেটে ৮ হাজার রানের পাশাপাশি দেড়শর বেশি উইকেট আছে-বাংলাদেশের এমন দুইঅলরাউন্ডারের একজন তিনি, আরেকজন অলক কাপালী।

তাদের পারফরম্যান্সনিয়ে তাই প্রশ্ন ছিল না। প্রশ্ন ফিটনেস নিয়ে। ফরহাদ ও সোহাগ মুটিয়ে গেছেন বেশ, এই সময়েরপেশাদার ক্রিকেটে যা বেশ বেমানান। বিপ টেস্টের ফিটনেসের বাইরেও অবশ্য আলাদা করে ম্যাচফিটনেস বা ব্যাটিং-বোলিং ফিটেনসের ব্যাপার আছে ক্রিকেটে। ফরহাদ-সোহাগরা হয়তো সেখানেখারাপ করবেন না। কিন্তু নির্বাচকদের চাওয়া, দেশের ক্রিকেটে ফিটনেসের একটি সংস্কৃতিগড়ে তোলা।

“ফিটনেসের একটি মিনিমামস্ট্যান্ডার্ড তো থাকা উচিত! ওদেরকে বুঝতে হবে যে ক্রিকেট খেলাটা এখন অনেক কঠিন। অন্যসব দেশের চেয়ে আগেই আমরা পিছিয়ে থাকি এখানে। তাই ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেই সেটির চর্চা করতেচাই আমরা।”

“এবার হয়তো ন্যূনতমস্কোর পরে কমানো হয়েছে বা অনেককে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এরপর আর দেওয়া হবে না। দেওয়া উচিতনা। আমি মনে করি, একটি ভালো সংস্কৃতি আমরা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি যেটি ক্রিকেটারদেরভালোর জন্য, দেশের ক্রিকেটের ভালোর জন্য। ক্রিকেটারদের এই উপলব্ধি যত দ্রুত আসে, ততইভালো।”

এবারের জাতীয় লিগেরদ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হবে বৃহস্পতিবার থেকে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক