Published : 04 Dec 2025, 01:33 PM
প্রথম ইনিংসে গোটা দল মিলিয়ে ২৩১। দ্বিতীয় ইনিংসে এক জুটিতেই ২৭৯। পার্থক্যটা দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার। নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটিং পারফরম্যান্সও এভাবেই আলোকিত টম ল্যাথাম ও রাচিন রাভিন্দ্রার ব্যাটে। দুই বাঁহাতির দুর্দান্ত দুটি ইনিংস আর বড় জুটিতে লিড হৃষ্টপুষ্ট করে জয়ের ভিত গড়ে ফেলেছে কিউইরা।
হ্যাগলি ওভালের উইকেট বরাবরই ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো থাকে তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে। এবার প্রথম দুই দিনে আকাশ ছিল মেঘলা, বাতাস বৃষ্টিভেজা। কিন্তু তৃতীয় দিনটি ছিল রোদ ঝলমলে। সহজ হয়ে আসা উইকেট আর ভালো হয়ে ওঠা আবহাওয়ায় দ্যুতিময় ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং যেন ছারখার করে দেন ল্যাথাম ও রাভিন্দ্রা।
ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে নিউ জিল্যান্ডের রান ৪ উইকেটে ৪১৭। প্রথম ইনিংসের ৬৪ রানের লিড মিলিয়ে কিউইরা এগিয়ে ৪৮১ রানে।
২৫০ বলে ১৪৫ রানের ইনিংস উপহার দেন টম ল্যাথাম। টেস্ট ক্রিকেটে পঞ্চদশ সেঞ্চুরিতে লম্বা খরাও কাটালেন কিউই অধিনায়ক। আগের সেঞ্চুরিটি তিনি করেছিলেন তিন বছর ও ৩৯ ইনিংস আগে!
রাভিন্দ্রা ছিলেন নিজের সেরা চেহারা। আগ্রাসী, দাপুটে ও নান্দরিক! ক্যারিবিয়ান বোলারদের নিয়ে যেন স্রেফ ছেলেখেলা করেছেন ১৮৫ বলে ১৭৬ রানের ইনিংসে।
তার টানা দ্বিতীয় শতরান এটি। ১৮ টেস্টে সেঞ্চুরি হলো চারটি। কোনোটিইতে শতরান ছুঁয়েই থামেননি। আগের তিনটি সেঞ্চুরির ইনিংস ২৪০, ১৬৫ ও ১৩৪।
ল্যাথামের ইনিংস ছিল কেবল ১২টি চার। রাভিন্দ্রার ব্যাটে ছিল বাউন্ডারির জোয়ার। চার ২৭টি, সঙ্গে একটি ছক্কা।
দুজনের ২৭৯ রানের জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে নিউ জিল্যান্ডের রেকর্ড। আগের সেরা ২৪১ ছিল মার্টিন ক্রো ও জন রাইটের, ১৯৮৭ সালে ওয়েলিংটনে।
বিনা উইকেটে ৩২ রান নিয়ে বৃহস্পতিবার দিন শুরু করে নিউ জিল্যান্ড। ল্যাথাম ও ডেভন কনওয়ে সাবলির ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন অনায়াসে। লাঞ্চের কাছাকাছি গিয়ে জুটি থামে ৮৪ রানে। আলগা শটে উইকেট হারান ৩৭ রান করা কনওয়ে।
লাঞ্চের ঠিক আগের ওভারে কিমার রোচকে আক্রমণে আনেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক রস্টন চেইস। কাজে লেগে যায় তা দারুণভাবে। ৩৭ বছর বয়সী পেসারের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে কেন উইলিয়ামসন বিদায় নেন ৯ রানে।
লাঞ্চের পর রাভিন্দ্রার শুরুটা ছিল ঝুঁকির পিঠে চড়ে। ৮ রানে কঠিন এক সুযোগ দিয়ে তিনি রক্ষা পান, দারুণ চেষ্টা করেও ক্যাচ নিতে পারেননি কিমার রোচ। ১৪ রানে বেঁচে যান তিনি স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েও। দুবারই বোলার ছিলেন জাস্টিন গ্রেভস। তবে নিজের ব্যাটিংয়ের ধরন বদলাননি রাভিন্দ্রা। আগ্রাসী ব্যাটিংয়েই ছন্দ খুঁতে পান দ্রুত। একের পর এক বাউন্ডারিতে ছুটতে থাকেন তিনি। ল্যাথাম তো ততক্ষণে থিতু হয়েই গেছেন।
ল্যাথাম পঞ্চাশে পা রাখেন ১১৮ বলে। পরের পঞ্চাশে বদলে যায় তার গতি। ফিফটি থেকে সেঞ্চুরিতে যেতে লাগে কেবল ৬১ বল।
বাউন্ডারির স্রোতে রাভিন্দ্রার ফিফটি আসে ৫২ বলে। একই গতিতে ছুটে শতরানে পৌঁছে যান ১০৮ বল খেলে।
দুজনের জুটির ডাবল সেঞ্চুরি আসে ২৪২ বলে।
৮০ ওভার পার হতেই দ্বিতীয় নতুন বল নয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সাফল্য আসে একটু পর। ল্যাথামকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রোচ।
ডাবল সেঞ্চুরির দিকে ছুটতে থাকা রাভিন্দ্রাকে থামাতে প্রয়োজন হয় স্পেশাল এক ডেলিভারির। অভিষিক্ত ওজে শিল্ডসের দুর্দান্ত ইয়র্কারে বোল্ড হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
নিউ জিল্যান্ডের ছুটে চলা তাতে থামেনি। ১৫ বলে ২১ রান নিয়ে দিন শেষ করেন উইল ইয়াং। উইকেটে তার সঙ্গী মাইকেল ব্রেসওয়েল, দ্রুত রান তোলার কাজটি তিনিও ভালোই করেন। চতুর্থ দিনে আগ্রাসী ব্যাটিং করে হয়তো ইনিংস ঘোষণা করবে কিউইরা।
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৩১
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ১৬৭
নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৯৫ ওভারে ৪১৭/৪ (আগের দিন ৩২/০) (ল্যাথাম ১৪৫, কনওয়ে ৩৭, উইলিয়ামসন ৯, রাভিন্দ্রা ১৭৬, ইয়াং ২১*, ব্রেসওয়েল ৬*; রোচ ১৯-৬-৬১-২, সিলস ১৮-৩-৫৮-০, শিল্ডস ১৩-১-৬৪-২, চেইস ১৬-০-৬২-০, লেইন ১৩-০-৮০-০, গ্রেভস ১৬-১-৮০-০)।