Published : 25 Dec 2025, 08:03 PM
দুপুরে যিনি ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে স্টেডিয়াম ছেড়ে গেলেন, বিকেলে তাকে দেখা গেল হাসিমুখে ক্রিকেটারদের হাতে পারিশ্রমিকের চেক তুলে দিচ্ছেন। মাঝের সময়টায় হয়ে গেছে অনেক কিছু। তবে আপাতত সবকিছুর মধুরেণ সমাপয়েৎ। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের কোচের দায়িত্বে থাকবেন না জানিয়ে রেগে মাঠ ছেড়ে যাওয়া খালেদ মাহমুদ পরে বললেন, মুহূর্তের উত্তেজনায় ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে আসে নোয়াখালী দল। তবে দলের ভেতরের নানা অব্যস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সহকারী কোচ তালহা জোবায়েরকে নিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় করে মাঠ ছেড়ে যান কোচ খালেদ মাহমুদ।
চলে যাওয়ার সময় মাহমুদের শরীরী ভাষায় ছিল বারুদ, কণ্ঠ থেকে ঠিকরে বের হচ্ছিল যেন আগুন। “কাজ করতে ইচ্ছে করছে না, বিপিএল করব না…”, “অনেক কোচ আছে, তারা কোচ নিতে পারবে”, এই ধরনের বিস্ফোরক মন্তব্য করে চলে যান তিনি।
ক্রিকেটাররা ছিলেন মাঠেই। অনুশীলন শেষ হওয়ার আগেই কালো একটি গাড়িতে করে আবার মাঠে ফেরেন মাহমুদ ও তালহা। এ সময় বিসিবি পরিচালক ও টুর্নামেন্ট সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় নোয়াখালী কোচকে।
‘‘এটা ভুল বোঝাবুঝি… হিট অব দা মোমেন্টে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তবে দলের মালিকদের ধন্যবাদ, যারা আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন, দুজনই। উনারা আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। বিসিবি থেকেও আমার সঙ্গে কথা বলেছে একটু।”
“এটা ভুল বোঝাবুঝি…অনুশীলনের সুযোগসুবিধা ছিল না বলে… যে সরঞ্জামগুলো দরকার, আমি তখনও পাইনি বলে আমার একটু মেজাজ খারাপই হয়েছিল আসলে। আমার সঙ্গে একটু অশোভন আচরণ করে ফেলেছে আর কী। তখন আমার মনে হয়েছে, ‘শুরুই হয়নি টুর্নামেন্ট, এখনই যদি এমন আচরণ করে, তাহলে খেলায় হারলে কী হবে!’ তবে ওরা যথেষ্ট যত্নশীল, আমার সঙ্গে কথা বলেছেন দুজনই (কর্ণধার), দলের চেয়ারম্যান কথা বলেছেন। স্রেফ ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, আর কিছু না।”
দুপুরে মাহমুদ ও তালহা মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর বিসিবি কর্তাদের ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকপক্ষের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। সেটিরই প্রতিফলন পরে তাদের মাঠে ফিরে আসা। অনুশীলন শেষে টিম বাসে করেই মাঠ ছেড়ে যান তারা। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম তখন এগিয়ে গিয়ে মাহমুদকে আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধন্যবাদ জানান ফিরে আসার জন্য।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দলের মধ্যে এমন লঙ্কাকাণ্ড ঘটে গেলেও শেষ পর্যন্ত শান্তির পতাকা উড়িয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের প্রশংসাই করলেন মাহমুদ।
‘‘আমি আমার ফ্র্যাঞ্চাইজির ওপরে দারুণ খুশি। আমি যেহেতু অনেকগুলা বিপিএল করেছি, আমাদের পোশাক থেকে আরম্ভ করে, কোয়ালিটি পোশাক দেওয়া, ক্রিকেটারদের আজকে পেমেন্ট করে দেওয়া,আমি সত্যি খুব খুশি যে উনারা উনাদের প্রতিশ্রুতিগুলো রাখছেন। আশা করি যে পুরা টুর্নামেন্টটা এভাবেই আমাদের সাথে থাকবেন, কমিটমেন্ট করবেন।"
"তাদের বয়স খুবই কম। দেখতেই পাচ্ছেন, অনেক তরুণ। ক্রিকেটের প্রতি তাদের ভালোবাসা আছে, সেই ভালোবাসা থেকেই তাদের এখানে আসা। আমি আশা করি যে, তারা এটাকে বজায় রাখবেন টুর্নামেন্টজুড়ে। আমাদের এরকম একটা বন্ধন থাকবে দলের। যেটা আজকে হয়েছে, সেটা হয়তো একদিকে ভালো হয়েছে, পরে হওয়ার থেকে আগে হয়ে যাওয়াটা ভালো হয়তো। আমরা আরও একতাবদ্ধ থাকব, দলের ভেতর বন্ধন থাকবে।"