Published : 12 Mar 2026, 06:27 PM
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে একাদশ থেকে বাদ পড়ায় কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন আকসার প্যাটেল। সতীর্থের মনঃক্ষুণ্ণ হওয়াকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেন সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ। পরে দলের পক্ষ থেকে আকসারের কাছে ক্ষমাও চান ভারত অধিনায়ক।
বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচেই আকসারকে খেলায় ভারত। যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়া ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ওই লড়াইগুলোতে বাঁহাতি স্পিনে দুটি করে উইকেট নেন তিনি। ব্যাট হাতে অবশ্য ভালো করতে পারেননি ওই ম্যাচগুলোই, করতে পারেন কেবল ১৪ রান।
এরপর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আকসারকে বাইরে রাখে ভারত। পরে সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও তাকে খেলায়নি দল। ওই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় পড়ে যায় ভারত।
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ওই হারের পর আকসারকে একাদশে না রাখা নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে বয়ে যায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। পরে জিম্বাবুয়ে ম্যাচেই তাকে ফেরানো হয় একাদশে। এরপর বাকি ম্যাচগুলোতেও খেলেন আকসার।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে দুর্দান্ত দুটি ক্যাচ ধরে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন আকসার। সেই ম্যাচে একটি উইকেটও নেন তিনি। পরে ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭ রান খরচায় ধরেন তিন শিকার।
কিউইদের ৯৬ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়ে ভারত।
একাদশ থেকে বাদ পড়ে আকসারের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে আলাপকালে বলেন সুরিয়াকুমার।
“সে খুব রেগে গিয়েছিল এবং তার রাগ করাটাই স্বাভাবিক। সে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নেতৃত্ব দেয়। তার ক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক। আমি তার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলাম। বলেছিলাম, আমি ভুল করেছি এবং এর জন্য দুঃখিত। তবে সিদ্ধান্তটি দলের জন্য নেওয়া হয়েছিল। তার সঙ্গে কথোপকথন বেশ কঠিন ছিল… পরদিন আমরা বিষষয়টা নিয়ে আরও কথা বলে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলি।”
সুরিয়াকুমারের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হার ভারতকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সামনের লড়াইয়ের জন্য আরও মনোযোগী করে তুলেছিল।
“ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচটি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছিল। এই দল নিয়ে আমার কখনোই সংশয় ছিল না, কিন্তু ওই হার আমাদের ওপর আরও চাপ বাড়িয়ে দেয়…আমাদের কাছে জিম্বাবুয়ে ম্যাচটি ছিল প্রি- কোয়ার্টার-ফাইনালের মতো। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ ছিল কোয়ার্টার-ফাইনাল। এরপর সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল। আমাদের প্রতিটি ম্যাচই নকআউটের মতো খেলতে হয়েছে।”