রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ভারতকে হারাল দ.আফ্রিকা

বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ওয়ানডে ৯ রানে জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল টেম্বা বাভুমার দল।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Oct 2022, 05:37 PM
Updated : 6 Oct 2022, 05:37 PM

৬ বলে ৩০ রানের সমীকরণ ভীষণ কঠিন হলেও অসম্ভব নয়, সেটাই যেন প্রমাণের পথে ছুটলেন সাঞ্জু স্যামসন। প্রথম বল ওয়াইড দেওয়া তাবরাইজ শামসিকে পরের তিন বলে ছক্কা ও দুই চার মেরে উত্তেজনা ছড়ালেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান। কিন্তু শেষ তিন বলে বাকি অঙ্কটা মেলাতে পারলেন না তিনি। দারুণ জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।

লক্ষ্ণৌয়ে বৃহস্পতিবার বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ৯ রানে।

বৃষ্টির বাধা ও ভেজা মাঠের কারণে সোয়া দুই ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪০ ওভারে। হাইনরিখ ক্লাসেন ও ডেভিড মিলারের দারুণ দুটি ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা তোলে ২৪৯ রান। শ্রেয়াস আইয়ার ও স্যামসনের ব্যাটে ভারত করতে পারে ২৪০।

২ ছক্কা ও ৬ চারে ৬৫ বলে ৭৪ রান করেন ক্লাসেন। মিলারের ৬৩ বলে ৭৫ রানের ইনিংসটি সাজানো ৩ ছক্কা ও ৫ চারে। পঞ্চম উইকেটে দুইজনে গড়েন ১০৬ বল স্থায়ী ১৩৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি।

রান তাড়ায় শুরুতে ধাক্কা খাওয়া ভারত ঘুরে দাঁড়ায় শ্রেয়াসের ৮ চারে ৩৭ বলে ৫০ রানের ইনিংসে। পরে ৬৩ বলে ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন স্যামসন। তার ইনিংসটি গড়া ৩ ছক্কা ও ৯ চারে।

শুরুর কঠিন কন্ডিশনে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা কুইন্টন ডি কক ও ইয়ানেমান মালানের জুটি ভালো সূচনা পায়। শুরুতে তেমন রান না হলেও প্রথম ১২ ওভার কাটিয়ে দেন দুই ওপেনার। মাঝে অবশ্য একবার জীবন পান মালান; নবম ওভারে শার্দুলের ঠাকুরের বলে প্রথম স্লিপে তার ক্যাচ নিতে পারেননি শুবমান গিল।

১৭ রানে বেঁচে গিয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি মালান (৩ চারে ২২)। শার্দুলের বলেই মিডউইকেটে ধরা পড়েন তিনি। ভাঙে ৪৯ রানের শুরুর জুটি।

এরপর টানা দুই ওভারে টেম্বা বাভুমা ও এইডেন মারক্রামকে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দুর্দান্ত এক ইনসুইঙ্গারে প্রতিপক্ষ অধিনায়কের স্টাম্প ভেঙে দেন শার্দুল। বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কুলদিপ যাদবের অসাধারণ এক ডেলিভারিতে শূন্য রানে বোল্ড হন মারক্রাম।

২১ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ডি কক ও ক্লাসেনের জুটি জমতে দেননি অভিষিক্ত রবি বিষ্ণই। এই লেগ স্পিনারকে রিভার্স সুইপ করে এলবিডব্লিউ হন ৫ চারে ৪৮ রান করা ডি কক।

এরপর দলের হাল ধরেন ক্লাসেন ও মিলার। দেখেশুনে খেলে বাড়াতে থাকেন রান। প্রায় একই গতিতে রান তুলে ইনিংসের ৩৬তম ওভারে দুই ব্যাটসম্যানই স্পর্শ করেন ফিফটি। মিলারের পঞ্চাশ আসে ৫০ বলে, ক্লাসেনের ৫২ বলে।

শেষ দিকে ৫১ ও ৫২ রানে দুই দফায় জীবন পান মিলার। ৬৪ রানে একবার বেঁচে যান ক্লাসেন। শেষ পাঁচ ওভারে ৫৪ রান তোলেন দুইজন। তাদের ব্যাটেই আড়াইশ রানের পুঁজি পায় সফরকারীরা।

ব্যাটিংয়ে ভারতের শুরুটা হয় খুব বাজে। কাগিসো রাবাদা ও ওয়েইন পার্নেলের বলে বোল্ড হন গিল ও অধিনায়ক শিখর ধাওয়ান। ৮ রানে দুই উইকেট হারানোর ধাক্কা কিছুটা সামলে ওঠে তারা অভিষিক্ত রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও ইশান কিষানের ব্যাটে।

কিন্তু পরপর দুই ওভারে দুইজনই ফিরলে আবারও চাপে পড়ে ভারত, ৫১ রানে নেই ৪ উইকেট। সেখান থেকে স্যামসনকে নিয়ে দলকে কক্ষপথে রাখেন শ্রেয়াস। দুইজনে গড়েন ৬৭ রানের জুটি, যেখানে স্যামসনের অবদান ছিল স্রেফ ১৫।

দারুণ বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতেও দলকে এগিয়ে নেন শার্দুল। তাকে নিয়ে ভারতের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন স্যামসন। দুইজনে গড়েন ৬৬ বলে ৯৩ রানের জুটি। ৫ চারে ৩৩ রান করেন শার্দুল।

শেষ ১৮ বলে যখন ৪৬ রান দরকার ভারতের, এনগিডি ও রাবাদা দুই ওভারে তিন উইকেট তুলে নিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপরই স্যামসনের ওই তাণ্ডব। যদিও শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি স্বাগতিকরা।

তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে আগামী রোববার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪০ ওভারে ২৪৯/৪ (মালান ২২, ডি কক ৪৮, বাভুমা ৮, মারক্রাম ০, ক্লাসেন ৭৪*, মিলার ৭৫*; সিরাজ ৮-০-৪৯-০, আভেশ ৮-০-৫১-০, শার্দুল ৮-১-৩৫-২, বিষ্ণই ৮-০-৬৯-১, কুলদিপ ৮-০-৩৯-১)

ভারত: ৪০ ওভারে ২৪০/৮ (ধাওয়ান ৪, গিল ৩, রুতুরাজ ১৯, ইশান ২০, শ্রেয়াস ৫০, স্যামসন ৮৬*, শার্দুল ৩৩, কুলদিপ ০, আভেশ ৩, বিষ্ণই ৪*; রাবাদা ৮-২-৩৬-২, পার্নেল ৮-১-৩৮-১, মহারাজ ৮-১-২৩-১, এনগিডি ৮-০-৫২-৩, শামসি ৮-০-৮৯-১)

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ রানে জয়ী

সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা

ম্যান অব দা ম্যাচ: হাইনরিখ ক্লাসেন

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক