Published : 23 Jan 2026, 01:12 PM
সারফারাজ খানের ব্যাটে রানের প্রবাহ চলছেই। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে সম্প্রতি সাদা বলের দুই সংস্করণের টুর্নামেন্ট রাঙানোর পর এবার লাল বলের ক্রিকেটেও উত্তাল তার ব্যাট। রাঞ্জি ট্রফিতে মুম্বাইয়ের ব্যাটসম্যান উপহার দিলেন বিধ্বংসী ডাবল সেঞ্চুরি।
রাঞ্জি ট্রফি এলিটের ‘ডি’ গ্রুপে হায়দরাবাদের বিপক্ষে ম্যাচে ২১৯ বলে ২২৭ রানের ইনিংস খেলেন সারফারাজ। তার ইনিংসে চার ছিল ১৯টি, ছক্কা ৯টি।
হায়দরাবাদের রাজিব গান্ধি স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম দিনে ছোট ভাই মুশির খান আউট হওয়ার পর ক্রিজে যান সারফারাজ। ৮২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন বিপদে মুম্বাই। সেখান থেকে ২৫১ রানের জুটি গড়ে তোলেন তিনি সিদ্ধেশ লাডের সঙ্গে। দিনের শেষ বেলায় অধিনায়ক লাড আউট হন ১০৪ রানে।
সারফারাজ প্রথম দিন শেষে অপরাজিত থাকেন ১৪২ রানে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার সপ্তদশ সেঞ্চুরি এটি।
দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান তিনি ২০৬ বলে। তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম ডাবল সেঞ্চুরি এটি। এর মধ্যে আছে ট্রিপল সেঞ্চুরিও।
পরে তার ইনিংস থামে ২২৭ রানে।
ইনিংসের পথে হায়দরাবাদের অধিনায়ক ও ভারতের টেস্ট পেসার মোহাম্মাদ সিরাজ ৩৯ বল খেলে রান করেন তিনি ৪৫।
এই ইনিংসের পথে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঁচ হাজার রানও পূর্ণ করেন সারফারাজ। ৬১ ম্যাচে তার রান এখন পাঁচ হাজার ৯০, ব্যাটিং গড় ৬৫.২৫।
চলতি মৌসুমে সব সংস্করণেই সারফারাজের পারফরম্যান্স এমন চোখধাঁধানো। একদিনের ম্যাচের আসর ভিজায় হাজারে ট্রফিতে কিছুদিন আগে গোয়ার বিপক্ষে তিনি খেলেছেন ১৪ ছক্কায় ৭৫ বলে ১৫৭ রানের ইনিংস।
ওই টুর্নামেন্টে পাঁচ ইনিংসে ৩০৩ রান করেন তিনি ৭৫.৭৫ গড় ও ১৯০.৫৬ স্ট্রাইক রেটে। পাঞ্জাবের বিপক্ষে ফিফটি করেন তিনি ১৫ বলে, লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে যা ভারতীয় কোনো ব্যাটসম্যানের রেকর্ড।
এর আগে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতেও তার ব্যাটে ছিল একই সুর। ওই আসরে সাত ইনিংসে ১টি সেঞ্চুরি ও ৩টি ফিফটিতে ৩২৯ রান করেন ৬৫.৮০ গড় ও ২০৩.০৮ স্ট্রাইক রেটে।
এমন পারফরম্যান্সের পরও অবশ্য আইপিএলের নিলামে খুব আগ্রহ ছিল না তাকে নিয়ে। ৭৫ লাখ রুপিতে তাকে দলে নেয় চেন্নাই সুপার কিংস।
বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটে আলোচিত ব্যাটসম্যান নানা বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেভাবে থিতু হতে পারেননি। ২৮ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান ভারতের হয়ে খেলেছেন ৬টি টেস্ট। অভিষেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফটি করেছিলেন দুই ইনিংসে, চতুর্থ টেস্টেই নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১৫০ রানের ইনিংস।
পরের দুই টেস্টের ব্যর্থতায় জায়গা হারান তিনি দলে। এরপর আর সুযোগ পাননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পরও জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ায় ভারতীয় ক্রিকেটে তাকে নিয়ে আলোচনাও হয় নিত্য।