Published : 31 Jan 2026, 10:11 AM
সময় যত গড়াচ্ছে, ওয়েলিংটনে সেই রাতের ঘটনার নানা অধ্যায় প্রকাশিত হচ্ছে ক্রমেই। হ্যারি ব্রুক এবার স্বীকার করেছেন, ঘটনার সময় তিনি একা ছিলেন না, সতীর্থরা ছিলেন তার সঙ্গে। তাদেরকে আড়াল করতেই তখন মিথ্যা বলেছিলেন বলে দাবি করেছেন ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
কদিন আগে ব্রুক বলেছিলেন, ঘটনার সময় তিনি একাই ছিলেন। তবে দা টেলিগ্রাফের খবর অনুযায়ী, ওই ঘটনায় ব্রুক ছাড়াও জশ টং ও জেকব বেথেলের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। এরপরই বিবৃতিতে আগের অবস্থান থেকে সরে এলেন ব্রুক।
“ওয়েলিংটনে আমার আচরণের দায় আমি পুরোপুরি নিচ্ছি এবং স্বীকার করছি যে, সেই রাতে সেখানে অন্যরাও ছিল। আমার আগের মন্তব্যের জন্য আমি অনুতপ্ত। আমি শুধু চেয়েছিলাম আমার সতীর্থদেরকে রক্ষা করতে, যেন আমার নিজের সিদ্ধান্তের জন্য তৈরি হওয়া ঘটনায় ওদেরকে যেন টেনে আনা না হয়।”
নিউ জিল্যান্ড সফরে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডের আগে গত ৩১ অক্টোবরের ঘটনা সেটি। নাইটক্লাবে প্রবেশের সময় বাধা পান ব্রুক। অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় দেখে তাকে নাইটক্লাবে ঢুকতে দিচ্ছিলেন না নিরাপত্তারক্ষীরা। পরে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তাকে ঘুসি মারেন নাইটক্লাবের বাউন্সার।
দা টেলিগ্রাফে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই ঘটনাটি জানাজানি হয়। ঘুসি খাওয়ার ঘটনা ব্রুক নিজেই পরে দলের সংশ্লিষ্টদের জানান। ৩০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয় তাকে, ইসিবির বিধি অনুযায়ী যা সর্বোচ্চ জরিমানা। এছাড়াও তার নেতৃত্ব কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছিল। শেষ পর্যন্ত শেষবারের মতো সতর্ক করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অ্যাশেজের মেলবোর্ন টেস্টের আগে ইংল্যান্ডের ছেলেদের দলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি বলেছিলেন আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ওই ঘটনায়। সময়ের সঙ্গে জানা যায়, তিনিও মূল ঘটনা আড়াল করেছিলেন।
ইংল্যান্ড দল এখন আছে শ্রীলঙ্কা সফরে। সেখানেই গত সপ্তাহে ব্রুক দাবি করেছিলেন, তিনি একাই ছিলেন ঘটনার সময়।
কিন্তু তখন মিথ্যা বলেছিলেন জানিয়ে এখন তিনি বলছেন, ভুল থেকে শিখতে থাকবেন।
“আমি ক্ষমা প্রার্থনা করেছি এবং ব্যাপারটি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে থাকব। আমার ক্যারিয়ারের এটি চ্যালেঞ্জিং সময়, তবে এখান থেকে শিখছি। নেতৃত্ব ও অধিনায়কত্বের সঙ্গে মাঠের বাইরের যে দায়িত্বগুলো থাকে, সেসব নিয়ে আমাকে আরও শিখতে হবে বলে মেনে নিচ্ছি। এই জায়গায় নিজেকে আরও গড়ে তুলতে এবং ব্যক্তিগতভাবে ও পেশাদারভাবে উন্নতি করতে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”