Published : 26 Feb 2026, 11:14 PM
বড় পরাজয়ের ক্ষতে প্রলেপ দিতেই যেন ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালাল ভারত। বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে জিম্বাবুয়ের বাজে দিনে মিলিত চেষ্টায় সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের দল গড়ল রেকর্ড সংগ্রহ। সেই রান তাড়ায় ধারে কাছেও যেতে পারল না সিকান্দার রাজার দল। দারুণ জয়ে সেমি-ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখল ভারত।
চেন্নাইয়ে বৃহস্পতিবার সুপার এইটে একপেশে লড়াইয়ে ৭২ রানে জিতেছে শিরোপাধারীরা। ২৫৬ রান করে তারা জিম্বাবুয়েকে থামিয়েছে ১৮৪ রানে।
টি-টোয়েন্টিতে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। টুর্নামেন্টে কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে কোনো দলের সর্বোচ্চ। আর এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
ভারত ইনিংস শেষ হতেই সম্ভাব্য ফল মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে যায়। ম্যাচের শেষ দিকে একটা লড়াই জমে ওঠে, ব্রায়ান বেনেটকে নিয়ে। দেখার ছিল এই ওপেনার তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেন কিনা। দলের ব্যর্থতার দিনে আক্ষেপ সঙ্গী হয় তারও। শেষ দুই বলে ছক্কা ও চার মেরে তিনি অপরাজিত থাকেন ৯৭ রানে।
এমএ চিদাম্বারাম স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হয় ভারত। প্রতিপক্ষের এলোমেলো বোলিং আর বাজে ফিল্ডিংয়ের সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্বাগতিকরা এগিয়ে যায় দ্রুত।
ওপেনিংয়ে নেমে সুর বেঁধে দেন সাঞ্জু স্যামসন। ১৫ বলে দুই ছক্কা ও এক চারে এই কিপার-ব্যাটসম্যান করেন ২৪ রান। আভিশেকের সঙ্গে তার ২৩ বলের জুটিতে আসে ৪৮ রান।
দ্বিতীয় উইকেটে আভিশেক ও ইশান কিষাণও মনোযোগী ছিলেন দ্রুত রান তোলায়। একবার জীবন পেয়েও বেশি দূর যেতে পারেননি ইশান (২৪ বলে ৩৮)। সিকান্দার রাজার বলে ক্যাচ দিয়ে তিনি ফিরলে ভাঙে ৪২ বল স্থায়ী ৭২ রানের জুটি।
আগের চার ম্যাচে কেবল ১৫ রান করা আভিশেক পান আসরে প্রথম পঞ্চাশের দেখা। নিজের জোনে প্রচুর বল পেয়ে বিস্ফোরক ওপেনার চারটি করে ছক্কা ও চারে ৩০ বলে করেন ৫৫ রান।
টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট ছিল দেড়শর বেশি। পরের তিন ব্যাটসম্যানের দুইজনের স্ট্রাইক রেট আড়াইশর বেশি, অন্য জনের দুইশর বেশি।
সে সময় যেন বল ফেলারই জায়গা পাচ্ছিলেন না জিম্বাবুয়ের বোলাররা। সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ তাণ্ডব চালান; ১৩ বলে দুই ছক্কা ও তিন চারে করেন ৩৩ রান।
সতীর্থদের গড়ে দেওয়া ভিত কাজে লাগিয়ে দলকে রান-পাহাড়ে নিয়ে যান হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলাক ভার্মা। অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেটে দুই জনে ৩১ বলে গড়েন ৮৪ রানের টর্নেডো জুটি। ২৩ বলে চার ছক্কা ও দুই চারে ৫০ রান করেন অলরাউন্ডার পান্ডিয়া। ১৬ বলে চার ছক্কা ও তিন চারে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিলাক।
চার ওভারে ৬২ রান দেন রিচার্ড এনগারাভা। ব্র্যাড ইভান্স দেন ৫২ রান।
রান তাড়ায় জয়ের চেষ্টাই করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। বরং ব্যবধান যতটা সম্ভব কমানোর দিকেই যেন ছিল তাদের মনোযোগ।
পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট হারায়নি জিম্বাবুয়ে। তবে খুব বেশি রানও করতে পারেননি। সপ্তম ওভারে টাডিওয়ানাশে মারুমানির বিদায়ে ভাঙে ৪৪ রানের উদ্বোধনী জুটি।
তিনে নেমে তেমন কিছু করতে পারেননি ডিওন মায়ার্স।
তৃতীয় উইকেটে ব্রায়ান বেনেট ও রাজার জুটিতে এগিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। রাজার বিদায়ে ভাঙে ৪২ বল স্থায়ী ৭২ রানের জুটি। এক বল পর ফিরে যান রায়ার্ন বার্ল।
২১ বলে ৩১ রান করেন রাজা। এই রান করার পথে জিম্বাবুয়ের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে তিন হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে তিন হাজার রান ও ১০০ উইকেট ডাবল স্পর্শ করা দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। প্রথম জন মালয়েশিয়ার ভিরানদিপ সিং।
দলকে দুইশ রানের কাছে নিয়ে যাওয়া বেনেট অপরাজিত থাকেন ৯৭ রানে। তার ৫৯ বলের ইনিংস গড়া ছয় ছক্কা ও আট চারে।
ভারতের হয়ে আর্শদিপ সিং ৩ উইকেট নেন ২৪ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ২৫৬/৪ (স্যামসন ২৪, আভিশেক ৫৫, ইশান ৩৮, সুরিয়াকুমার ৩৩, পান্ডিয়া ৫০*, তিলাক ৪৪*; এনগারাভা ৪-০-৬২-১, মুজারাবানি ৪-০-৪৩-১, মাপোসা ২-০-৪০-১, ইভান্স ৪-০-৫২-০, রাজা ৩-০-২৯-১, বেনেট ২-০-১৬-০, বার্ল ১-০-১০-০)
জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৮৪/৬ (বেনেট ৯৭*, মারুমানি ২০, মায়ার্স ৬, রাজা ৩১, বার্ল ০, মুনিয়োঙ্গা ১১, মুসেকিওয়া ৭, ইভান্স ১*; আর্শদিপ ৪-০-২৪-৩, পান্ডিয়া ৩-০-২১-০, বুমরাহ ৩-০-২১-০, ভারুন ৪-০-৩৫-১, আকসার ৪-০-৩৫-১, দুবে ২-০-৪৬-১)
ফল: ভারত ৭২ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: হার্দিক পান্ডিয়া
ভারতের জয়ে সেমি-ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা