Published : 02 Jan 2026, 10:40 PM
অপেক্ষা ছিল একটি উইকেটের। মুস্তাফিজুর রহমানের লাগল স্রেফ দুই বল। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে চারশ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করার পর, নিজের পরের তিন ওভারেও দারুণ বোলিংয়ে তিনি শিকার ধরলেন আরও দুটি। সঙ্গে ফাহিম আশরাফের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জয়ের পথে ফিরল রংপুর রাইডার্স।
আগের দিন মুঠো থেকে জয় ছুটে গেলেও, এবার আর ভুল করল না রংপুর। বিপিএলে শুক্রবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেট টাইটান্সকে ৬ উইকেটে হারাল ফেভারিটরা।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সিলেটকে ১৪৪ রানে আটকে রেখে জয়ের ভিত গড়ে দেন মুস্তাফিজ-ফাহিমরা। রংপুর লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ৭ বল হাতে রেখে।
৪ ওভারে ২৪ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন মুস্তাফিজ। টি-টোয়েন্টিতে ৩১৫ ম্যাচে বাঁহাতি পেসারের উইকেট হলো ৪০২টি।
বিশ্বের ১১তম ক্রিকেটার হিসেবে এই সংস্করণে ৪০০ বা এর বেশি উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন মুস্তাফিজ। চারশ ছোঁয়ায় পেসারদের মধ্যে তিনিই দ্রুততম। আগের দ্রুততম পাকিস্তানের ওয়াহাব রিয়াজের লেগেছিল ৩৩৫ ম্যাচ। পেস-স্পিন মিলিয়ে সবচেয়ে দ্রুততম ২৮৯ ম্যাচে মাইলফলকটি স্পর্শ করেন আফগান লেগ স্পিনার রাশিদ খান।
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে মুস্তাফিজের আগে এই তালিকায় নাম লেখান সাকিব আল হাসান। এই স্পিনিং অলরাউন্ডারের উইকেট এখন ৫০৭টি।
ফাহিম এদিন ৪ ওভারে ১৮ রানে নেন ৩ উইকেট। তিন ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিও পাকিস্তানের এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন আফিফ হোসেন। তার ৩১ বলের ইনিংস গড়া ৪টি চার ও একটি ছক্কায়।
আগের দিন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে শেষ বলে যার রান আউটে ম্যাচ টাই হয়েছিল এবং রংপুর সুপার ওভারে হেরেছিল, সেই মাহমুদউল্লাহ এবার ৫ চার ও এক ছক্কায় ১৬ বলে ৩৪ রানের ঝড়ো ইনিংসে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন। ম্যাচ-সেরার পুরস্কারও জেতেন ৩৯ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লের মধ্যে ওপরের তিন ব্যাটসম্যানকে হারায় সিলেট। রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলামকে ছক্কার চেষ্টায় লং-অফে ফাহিমের দারুণ ক্যাচে ফেরেন সাইম আইয়ুব।
দারুণ কয়েকটি শট খেলেন রনি তালুকদার। কাইল মেয়ার্সকে পরপর ছক্কা ও চার মারেন তিনি। দুটি চার মারেন আলিসকে।
পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে আসা মুস্তাফিজের প্রথম বলে লেগ সাইডে চার মারেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পরের বলে আবার একইরকম শট খেলার চেষ্টায় ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। মুস্তাফিজ পূর্ণ করেন ৪০০ উইকেট।
ষষ্ঠ ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে এসে প্রথম বলে দারুণ ডেলিভারিতে রনিকে (১৪ বলে ১৯) বোল্ড করে দেন ফাহিম। প্রথম ৬ ওভারে সিলেট করতে পারে ৩ উইকেটে ৩৯।
চার নম্বরে নেমে ভালো করতে পারেননি পারভেজ হোসেন ইমনও। মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরির নিচু হওয়া ডেলিভারিতে বোল্ড হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান (১৯ বলে ১৫)।
এরপরই পঞ্চম উইকেটে সিলেট তাদের একমাত্র পঞ্চাশোর্ধ (৬৬) জুটি পায় আফিফ ও ইথান ব্রুকসের ব্যাটে। দুজনই খেলেন দারুণ কিছু শট। আলিসকে ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কায় ওড়ান ব্রুকস। মৃত্যুঞ্জয়কে ছক্কার পরের বলে চার মারেন বাঁহাতি আফিফ।
অষ্টাদশ ওভারে এই জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজ। তার প্রথম বলে চার মারার পর, দ্বিতীয় বল আকাশে তুলে দেন আফিফ।
পরের ওভারে কেবল ৫ রান দিয়ে আজমতউল্লাহ ওমারজাই ও ব্রুকসকে (৩০ বলে ৩২) ফেরান ফাহিম। শেষ ওভারে ৭ রান দিয়ে মুস্তাফিজ উইকেট নেন আরেকটি।
রান তাড়ায় তিনটি চার মারলেও এদিন ইনিংস টেনে নিতে পারেননি দাভিদ মালান। প্রথম দুই ম্যাচে ফিফটি করা ইংলিশ ব্যাটসম্যান ১৯ রান করে ফিরতি ক্যাচ দেন সৈয়দ খালেদ আহমেদকে।
লিটন কুমার দাস শুরুতে স্বস্তিতে ছিলেন না। অষ্টম ওভারে তার ফিরতি ক্যাচ নিতে পারেননি স্পিনার নাসুম আহমেদ। পরের বল দারুণ শটে ছক্কা মারেন লিটন। এর পরের বল আরেকটি ছক্কার চেষ্টায় তিনি তুলে দেন আকাশে। অনেকটা দৌড়ে বলের নিচে গেলেও মুঠোয় জমাতে পারেননি বোলার নাসুম। ওই ওভারেই অবশ্য তাওহিদ হৃদয়কে বোল্ড করে দেন তিনি।
লিটন ও মেয়ার্সের জুটিতে এগিয়ে যায় রংপুর। আফিফের অসাধারণ ক্যাচে লিটন বিদায় নেন ২৫ বলে ৩৫ রান করে। ব্রুকসকে চার ও ছক্কার পর ওই ওভারেই আউট হয়ে যান মেয়ার্স (২৯ বলে ৩১)।
ষোড়শ ওভারে মিরাজের টানা চার বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারেন মাহমুদউল্লাহ। খুশদিল শাহকে নিয়ে বাকিটা সারেন তিনি অনায়াসে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সিলেট টাইটান্স: ২০ ওভারে ১৪৪/৮ (সাইম ১১, রনি ১৯, মিরাজ ৪, পারভেজ ১৫, আফিফ ৪৬, ব্রুকস ৩২, ওমারজাই ৬, নাসুম ৬*, খালেদ ০, আমির ২*; মেয়ার্স ৩-০-২৬-০, আলিস ৪-০-৩৩-১, মুস্তাফিজ ৪-০-২৪-৩, ফাহিম ৪-০১৮-৩, মৃত্যুঞ্জয় ৩-০-৩০-১, খুশদিল ২-০-১৩-০)
রংপুর রাইডার্স: ১৮.৫ ওভারে ১৪৫/৪ (মালান ১৯, লিটন ৩৫, হৃদয় ৬, মেয়ার্স ৩১, মাহমুদউল্লাহ ৩৪*, খুশদিল ১৯*; আমির ৩.৫-০-২১-০, ওমারজাই ১-০-১২-০, সাইম ৪-০-১৬-১, খালেদ ৩-০-১৯-১, নাসুম ২-০-১৮-১, মিরাজ ৩-০-৩৫-০, ইবাদত ১-০-১১-০, ব্রুকস ১-০-১৩-১)
ফল: রংপুর ৬ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: মাহমুদউল্লাহ