Published : 13 Jun 2026, 08:34 PM
ম্যাচের প্রথম ওভারে একটি করে চার-ছক্কা মেরে শুরু। এরপর কেবল ছুটলেন রাহমানউল্লাহ গুরবাজ। ভারতীয় বোলারদের তুলাধুনা করে উপহার দিলেন চমৎকার এক সেঞ্চুরি। নাম লেখালেন রেকর্ডের একটি পাতায়ও।
ধারামসালায় শনিবার ভারতের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন গুরবাজ। আটটি করে ছক্কা-চারে ৫১ বলে ১০২ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন আফগানিস্তানের ওপেনার।
ইনিংসটির পথে ৪৮ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন গুরবাজ। ওয়ানডেতে আফগানদের হয়ে যা দ্রুততম শতকের রেকর্ড। দেশটির জার্সিতে এই সংস্করণে সত্তরের কম বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি কেউ।
এতদিন রেকর্ডটি ছিল যৌথভাবে দুইজনে; ২০১০ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মোহাম্মাদ শাহজাদ এবং তার দুই বছর পর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কারিম সাদিক ৭২ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন।
ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে গুরবাজের ৪৮ বলের সেঞ্চুরি দ্বিতীয় দ্রুততম। ২০০৫ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন পাকিস্তানের শাহিদ আফ্রিদি।
ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের হয়ে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ডটি আগে থেকেই গুরবাজের। নবম শতক করে সেটিকে আরও সমৃদ্ধ করলেন তিনি। ছয়টি করে সেঞ্চুরি করেছেন ইব্রাহিম জাদরান ও শাহজাদ।
বৃষ্টি বাধায় এদিন নির্ধারিত সময়ের চার ঘণ্টা পর খেলা শুরু হয়। ২৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে আফগানিস্তান। প্রথম বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে গুরবাজ বুঝিয়ে দেন তার অভিপ্রায়, যদিও বলটি ব্যাটেই লাগাতে পারেননি তিনি।
আর্শদিপ সিংয়ের করা ওই ওভারের তৃতীয় বলে চার মেরে রানের খাতা খোলেন গুরবাজ, পঞ্চম বলে হাঁকান ছক্কা। পরের দুই ওভারে দুই উইকেট হারায় আফগানরা। তাতে ভড়কে যাননি গুরবাজ। নিজের মতো খেলে যান। অষ্টম ওভারে অভিষিক্ত হার্শ দুবেকে মারেন একটি করে চার ও ছক্কা।
বাঁহাতি স্পিনার হার্শকেই ছক্কায় উড়িয়ে ২৫ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন গুরবাজ। আফগানিস্তানের হয়ে যা দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটি। ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৪ বলে পঞ্চাশ করেছিলেন মোহাম্মাদ নাবি।
ফিফটির পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন গুরবাজ। প্রাসিধ কৃষ্ণাকে একটি করে চার ও ছক্কা, ওয়াশিংটন সুন্দারের ওভারে দুটি ছক্কা ও একটি চার হাঁকান তিনি। নিতিশ কুমার রেড্ডিকে ছক্কা মেরে নব্বইয়ে পৌঁছে যান ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
পঞ্চদশ ওভারে আরেক অভিষিক্ত গুরনুর ব্রার বলে ডাবল নিয়ে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের ঠিকানায় পা রাখেন গুরবাজ। ফিফটি থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে তার লাগে ২৩ বল।
পরের ওভারেই বাজে গুরবাজের বিদায় ঘণ্টা। নিতিশের দুর্দান্ত ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে যান তিনি।