Published : 17 Apr 2026, 11:38 AM
ক্রিকেট কানাডাকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট (এসিইউ), যার মধ্যে একটি এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডার এক ম্যাচকে কেন্দ্র করে।
ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো জানতে পেরেছে যে, এসিইউ দুটি সক্রিয় তদন্ত পরিচালনা করছে, যেগুলোর আওতায় ক্রিকেট কানাডার বিভিন্ন দিক এবং আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া পর্যায়ে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে।
কানাডিয়ান অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র অনুষ্ঠান ‘দা ফিফথ এস্টেট’ প্রযোজিত ‘করাপশন, ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিকেট’ নামক একটি তথ্যচিত্রের মাধ্যমে এই অভিযোগগুলো প্রকাশ্য হয়। শুক্রবার সরকারি সম্প্রচারকারী সিবিসিতে(কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন) প্রচারিত ৪৩ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটিতে কানাডা ক্রিকেটে দুর্নীতি ও সুশাসনের বিষয়ে ব্যাপক অভিযোগ আনা হয়েছে।
তথ্যচিত্রটি অনুসারে, বিশ্বকাপে দুর্নীতির অভিযোগটি ছিল নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে কানাডার ম্যাচে। নিউ জিল্যান্ডের রান তাড়ায় পঞ্চম ওভারটি এসেছে তদন্তের আওতায়, যখন অধিনায়ক দিলপ্রিত বাজওয়া বল করতে আসেন। টুর্নামেন্ট শুরুর তিন সপ্তাহ আগে ২২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে অধিনায়ক করা হয়।
বাজওয়া মূলত ব্যাটিং অলরাউন্ডার, বোলিং করে থাকেন তিনি অফ স্পিন। সেদিন তিনি যখন বল হাতে নেন, নিউ জিল্যান্ডের রান ছিল ২ উইকেটে ৩৫।
কানাডার প্রথম দুই ওভারে দুই পেসার জাসকারান সিং এবং ডিলন হেইলিগার রান দেন ১৪ ও ১৫। তৃতীয় ওভারে মেডেন উইকেট নেন স্পিনার সাদ বিন জাফর। লেগ বাই থেকে আসে একটি রান। চতুর্থ ওভারে হেইলিগার ৫ রান দিয়ে উইকেট নেন ১টি।
এরপরই বাজওয়ার সেই ওভার। ওভারের প্রথম বলটি ‘নো’ করেন তিনি, পরে একটি ওয়াইড দেন। দুটি বাউন্ডারিসহ ওভারে ১৫ রান দেন তিনি।
অন্য তদন্তটি কানাডার সাবেক কোচ খুররাম চোহানের একটি টেলিফোন কথোপকথনের রেকর্ডিং থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যেখানে তিনি দাবি করেন যে, ক্রিকেট কানাডার সিনিয়র (বর্তমানে প্রাক্তন) বোর্ড সদস্যরা জাতীয় দলে নির্দিষ্ট কিছু ক্রিকেটার নির্বাচন করার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। অডিওটি গত বছর ফাঁস হয় এবং তখন থেকেই এটি এসিইউ-এর তদন্তাধীন রয়েছে। রেকর্ডিংটিতে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে, যদিও সেগুলোর স্বপক্ষে কার্যকর প্রমাণ উপস্থাপনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের অন্তর্বর্তীকালীন জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ ইএসপিএনক্রিকইনফোকে দেওয়া বিবৃতিতে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।।
“সিবিসি প্রচারিত অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে এসিইউ অবগত আছে। প্রতিষ্ঠিত কার্যপ্রণালী অনুসারে, এতে থাকা কোনো অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে মন্তব্য করার মতো অবস্থানে এসিইউ নেই। আইসিসি সদস্য দেশগুলোর প্রশাসনিক বিষয়গুলো, যেখানে সেগুলো আইসিসির এখতিয়ারভুক্ত, সেখানে আইসিসি তার সাধারণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসারে বিবেচনা করে থাকে।"
“আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট তিনটি মূল কাজ পরিচালনা করে: গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, প্রতিরোধ ও শিক্ষা এবং তদন্ত। এই কাজগুলো একই সঙ্গে পরিচালিত হয় এবং যেখানেই খেলার সততা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে বিশ্বাস করার মতো বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি থাকে, সেখানেই এগুলো প্রয়োগ করা হয়।”
ডকুমেন্টারিটিতে আরেকজন প্রাক্তন কোচ, পুবুদু দাসানায়েকের সাক্ষাৎকারও রয়েছে, যিনি ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল নির্বাচনে তার ওপর অযাচিত প্রভাব খাটানোর বিষয়ে একই ধরনের দাবি করেছেন। সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বোর্ড দাসানায়েকেকে নির্দিষ্ট কিছু ক্রিকেটারকে দলে নিতে “বাধ্য” করার চেষ্টা করেছিল এবং তিনি তা না করায় তাকে চুক্তি বাতিলের কথা বলা হয়। অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করার অভিযোগে দাসানায়েকে ক্রিকেট কানাডার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
গত এক বছর ধরে ক্রিকেট কানাডা প্রশাসনিক অস্থিরতার সম্মুখীন হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো সাবেক প্রধান নির্বাহী সালমান খানের নিয়োগ এবং পরবর্তীকালে তার অপসারণ। সালমানের নিয়োগ আইসিসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, কারণ তিনি তার পূর্ববর্তী ফৌজদারি অভিযোগগুলো প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং ক্যালগারি পুলিশ তার বিরুদ্ধে চুরি ও প্রতারণার অভিযোগ এনেছিল। সালমান যদিও অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। এই মাসের শুরুতে আমজাদ বাজওয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়ে বোর্ড সভাপতি নির্বাচিত হন আরভিন্দার খোসা।
২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে প্রাপ্য পুরস্কারের অর্থ পেতে দেরি হয় কানাডার ক্রিকেটারদের এবং তথ্যচিত্রটিতে দাবি করা হয়, জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে চুক্তিবিহীন এবং এরপর এই বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে চার মাসের জন্য তাদের স্বল্প পারিশ্রমিকে চুক্তিবদ্ধ রাখা হয়।
একজন সাবেক ক্রিকেটার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করার পর তথ্যচিত্রটিতে সংগঠিত অপরাধ চক্রের যোগসূত্রও তুলে ধরা হয়। ‘দা ফিফথ এস্টেট’কে এফগ্রেভ বলেছেন, সেই তদন্ত এসিইউ-এর আওতার বাইরে। তথ্যচিত্রটিতে এফগ্রেভ বলেন, “কিছু অভিযোগ সম্পর্কে আমি অবগত। এটি সম্পূর্ণই একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়, যা যখনই ঘটুক না কেন এবং এটি মূলত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব।”