Published : 16 May 2025, 12:26 PM
২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকসে কি অংশ নিতে পারবেন ক্যারিবিয়ানরা? প্রশ্নটির উত্তর এখনও দাঁড়িয়ে অনিশ্চিত ও জটিল এক মোড়ে। সেটা অনুভব করতে পেরেই আইসিসির কাছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনুরোধ, অলিম্পিকসের বাছাই প্রক্রিয়ায় যেন ন্যায্য ও স্বচ্ছ পথ অনুসরণ করা হয়।
লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকস দিয়ে ১২৮ বছর পর ক্রিকেট ফিরছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসবে। ছেলে ও মেয়েদের ক্রিকেটে ছয়টি করে দলে অংশ নেবে এই আসরে। সেই ছয়টি দল বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এখনও জানায়নি
আইসিসি। এই বছরই তা চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
২০২৮ অলিম্পিকসে ক্রিকেটকে রাখার জন্য যখন জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল আইসিসি, তখন সংস্থাটির প্রস্তাবনা ছিল একটি নির্দিষ্ট তারিখে (কাট-অফ ডেট) টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ছয়টি দল সুযোগ পাবে এই আসরে।
শেষ পর্যন্ত র্যাঙ্কিং দিয়েই যদি বাছাই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়, তাহলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সম্ভাবনা এখনও পর্যন্ত উজ্জ্বল। ছেলেদের র্যাঙ্কিংয়ে এই মুহূর্তে তারা আছে পাঁচ নম্বরে, মেয়েদের র্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে।
তবে মূল সমস্যা হলো, অলিম্পিকসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগই নেই। কারণ এটি কোনো দেশ নয়! ক্যারিবিয়ার দ্বীপপুঞ্জের দেশগুলি একত্রে ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নামে খেলে থাকে। কিন্তু অলিম্পিকসে খেলতে পারে কেবল সার্বভৌম দেশ। ক্যারিবিয়ানের দেশগুলি নিজেদের নামেই অলিম্পিকসের নানা ইভেন্টে অংশ নিয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে।
ক্রিকেটে যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ যোগ্যতা অর্জন করে, তাহলে সমাধান কি?
অলিম্পিকস সনদের কথা তুলে ধরে বিবৃতিতে সেই সমাধান দাবি করেছেন ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের সভাপতি ড. কিশোর শ্যালো।
“অলিম্পিকসে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল সবসময়ই নিজেদেরকে ছাড়িয়ে গেছে এবং আমাদের ক্রীড়া উৎকর্ষ দিয়ে গোটা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করেছে। ২০২৮ গেমসে যখন ক্রিকেট ফিরবে, একই স্বপ্নে উজ্জীবিত আমাদের তরুণ ক্রিকেটারদের যেন বঞ্চিত না করা হয়।”
“অলিম্পিকস সনদে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও সার্বজনীনতা। আমাদের স্রেফ চাওয়া, এই মূল নীতিগুলোই যেন জবা রাখা হয়, সেটা শুধু চেতনায় নয়, বরং কার্যকারিতায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের জন্য অবশ্যই একটি পথ করে দিতে হবে। অংশ নেওয়ার সুযোগ পুরোপুরি প্রাপ্য আমাদের।”
আইসিসির কাছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুপারিশ হলো, যদি র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতেই বাছাই হয় এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি টিকে যায়, তাহলে এই অঞ্চলের অলিম্পিকস অধিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি বাছাই টুর্নামেন্ট করে জয়ী দলকে সুযোগ দেওয়া অথবা তাদের আরেকটি সুপারিশ, বৈশ্বিক একটি বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা, যেখানে অন্যান্যদের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত থাকবে আইসিসির পাঁচটি ডেভেলপমেন্ট অঞ্চলের সহযোগী দেশগুলো ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোও।
২০২২ বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে মেয়েদের ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে অংশ নিয়েছিল বারবাডোজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেবার সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল এবং বারবাডোজকে বেছে নেওয়া হয়েছিল ক্যারিবিয়ানের আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট দা টি-টোয়েন্টি ব্লেজ-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে।
অলিম্পিকসের ক্ষেত্রেও ন্যায্য বাছাই প্রক্রিয়ার দাবি জানালেন ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান নির্বাহী ক্রিস ডেরিং।
“বহু বছর ধরেই আমাদের দেশগুলো অলিম্পিকসের মঞ্চে সোনার পদক উঁচিয়ে ধরে তাদের পতাকা উড়িয়েছে গর্ব নিয়ে। এখন যেহেতু ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যেন আমাদের ক্রিকেটাররা ইতিহাসের বাইরে ছিটকে না পড়ে। আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত। সবকিছুর ওপরে, আমরা চাই ন্যায্যতা।”
র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে বাছাই করা হলেও শীর্ষ ছয় দলের অংশগ্রহণ নিয়ে অবশ্য অনিশ্চয়তা আছে। র্যাঙ্কিংয়ের অনেক নিচের দিকে থাকলেও নিয়ম অনুযায়ী স্বাগতিক হিসেবে সুযোগ পেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। সেটা নিয়ে অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এই প্রসঙ্গেই আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির ক্রীড়া পরিচালক কিট ম্যাককনেল ২০২৩ সালে বলেছিলেন, “সাধারণত, দলীয় খেলার ক্ষেত্রে স্বাগতিক দেশ সুযোগ পেয়ে থাকে এবং এরপর আমরা দেখি বৈশ্বিক শক্তি ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ও চেষ্টা প্রাপ্য কোটাগুলোর মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে বের করতে।”
অলিম্পিকসের ইতিহাসে ক্রিকেট হয়েছিল একবারই। সেই ১৯০০ সালে প্যারিস অলিম্পিকসে স্রেফ তুটি দেশ অংশ নিয়েছিল ক্রিকেটে। দুই দিনের ম্যাচটিতে ফ্রান্সকে ১৫৮ রানে হারিয়ে সোনা জিতেছিল গ্রেট বৃটেন।