Published : 27 Jun 2026, 06:01 PM
পোশাক বদল বা নাম পরিবর্তন করলেই কোনো বাহিনীর মানসিকতার পরিবর্তন হয় না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।
শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ কথা বলেন।
বাজেট বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বক্তব্য রাখতে চেয়েছিলেন তুলে ধরে গিয়াস কাদের চৌধুরী বলেন, “বিরোধী দলের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অনেক কথা বলেন এবং সরকারকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। বাস্তবতা হল, পোশাক বদলি করে, নাম পরিবর্তন করে মানসিকতার পরিবর্তন আসে না।”
এটিকে ‘অপ্রিয় সত্য’ বলে বর্ণনা করে তার দাবি, সামরিক বাহিনীর নাম পরিবর্তন হয়নি কিন্তু ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ রাইফেলসের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে।
‘বিডিআর হত্যাকাণ্ডের’ প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “যারা ঘটিয়েছে বিডিআর বিদ্রোহ, যারা ঘটিয়েছে বিডিআর হত্যা, তারা বলে বিডিআর বিদ্রোহ। কিন্তু এটা ছিল একটা সুপরিকল্পিত হত্যা। তারপরে বাংলাদেশ রাইফেলস একটা ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের নাম পাল্টিয়ে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।”
নাম পরিবর্তনে বিডিআরের ঘটনায় সেনা কর্মকর্তাদের মনে সৃষ্ট ক্ষত দূর হবে না বলেও মনে করেন তিনি। গিয়াস কাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করতে প্রস্তাব দেন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রস্তাবিত বাজেটেরও প্রশংসা করেন চট্টগ্রামের এই সংসদ সদস্য।
এদিকে ঢাকা-৭ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত পুরান কেন্দ্রীয় কারাগারকে বৃদ্ধাশ্রমে রূপান্তরের প্রস্তাব দেন।
পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগার দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী মন্তব্য করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সেখানে কারাবন্দি রাখার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।
বিরোধী দলের এই এমপি বলেন, “তার ত্যাগ ও স্মৃতি ধরে রাখার জন্য কারাগারটি বৃদ্ধাশ্রম করা যায় কি না, তা সরকার ভেবে দেখতে পারে।”
পুরান ঢাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট দূর করা, অগ্নি নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহজ ঋণ সুবিধার দাবিও তোলেন তিনি। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদীকে বাঁচাতে পদক্ষেপ নেওয়া ও নিজ এলাকার গ্যাস সংকট নিয়েও তিনি কথা বলেন।
গাজীপুর-৫ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন বাজেটের আকার নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব দেন।
তিনি বলেন, “বৃহৎ বাজেট নিয়ে যারা সমালোচনা করেন, আমার মনে হয় তারা সেই ব্যক্তির মত, যারা একই ডালে বসে নিজের ডাল কাটা শুরু করেন।”
রাজস্ব আহরণ কঠিন হবে স্বীকার করলেও মিলন বলেন, “প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানো হয়েছে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে করা হয়েছে।”
বাজেট বাস্তবায়নে সরকারি দল, বিরোধী দল ও জনগণের যৌথ প্রচেষ্টা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নরসিংদী-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনও তার বক্তব্যে প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জনকল্যাণমুখী’ বলে তুলে ধরেন।
শরীয়তপুর-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ বাজেটের প্রশংসা করে তার নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন দাবি তুলে ধরেন।
নোয়াখালী-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান বাজেট বাস্তবায়নে ‘স্বচ্ছতা বাড়াতে’ অর্থবছর জুলাই-জুনের বদলে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব দেন।
জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল বারী প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জনবান্ধব’ ও ‘বাস্তবায়নযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেন।
তার ভাষ্য, বাজেট প্রণয়নের আগে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন খাতের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং অর্থমন্ত্রী নিরলস পরিশ্রম করেছেন।
পটুয়াখালী-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাজেটের প্রশংসা করে পটুয়াখালীর উন্নয়নে একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরেন।
পটুয়াখালী পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, পটুয়াখালী ইপিজেড কার্যকর করা, ২৫০ শয্যার হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা, পটুয়াখালী বা কলাপাড়ায় হালকা উড়োজাহাজ বা হেলিকপ্টারের জন্য রানওয়ে করার প্রস্তাব দেন তিনি।