Published : 11 Oct 2025, 10:05 PM
রোমাঞ্চের নানা মোড় পেরিয়ে ম্যাচ গড়াল শেষ ওভারে। ১১ রানের সমীকরণে আন্দিলে সিমেলানের প্রথম ডেলিভারিতে ছক্কা মেরে দিলেন জেন গ্রিন। পরের তিন বলে এলো আরও চার রান। একটি ডট বলের পর, শেষ ডেলিভারিতে মিড-উইকেট দিয়ে চার হাঁকিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে স্তব্ধ করে দিলেন তিনি। ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দে বাঁধনহারা উল্লাসে মেতে উঠল নামিবিয়া।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেই বাজিমাত করল নামিবিয়া। উইন্ডহকে শনিবার ৪ উইকেটের জয় তুলে নেয় তারা। এই সংস্করণের সবশেষ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া প্রোটিয়াদের ১৩৪ রানে থামিয়ে শেষ বলে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় দলটি।
আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে জয়ের চতুর্থ কীর্তি গড়ল নামিবিয়া। এর আগে আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল তারা।
আর দক্ষিণ আফ্রিকা এনিয়ে দ্বিতীয়বার কোনো আইসিসির সহযোগী দেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে হারল। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের ১৩ রানে হারিয়েছিল নেদারল্যান্ডস।
নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এটাই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ঘরের ছেলেদের উৎসাহ দিতে গ্যালারিতে ছিলেন হাজার হাজার দর্শক। তাদেরকে হতাশ করেনি আফ্রিকা অঞ্চল থেকে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া নামিবিয়া ক্রিকেট দল।
এই ম্যাচে অবশ্য পূর্ণ শক্তির দল পায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে যে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে নামিবিয়া, এই জয়ে তাদের কৃতিত্বই বেশি।
দলের জয় নিয়ে ফেরা গ্রিন ১ ছক্কা ও ২ চারে ২৩ বলে করেন ৩০ রান। তবে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন রুবেন ট্রাম্পেলমান। ২৮ রানে ৩ উইকেট নেওয়া এই পেসার পরে ব্যাট হাতেও রাখেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ১ চারে ৮ বলে ১১ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ষষ্ঠ বলেই কুইন্টন ডি-কককে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৪ সালের জুনের পর জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নেমে স্রেফ ১ রান করেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান।
রিজা হেনড্রিকসকে টিকতে দেননি ট্রাম্পেলমান। ২৫ রানে ২ উইকেট হারানো দলকে কিছুক্ষণ টানেন লুয়ান ড্রে-প্রিটোরিয়াস ও রুবিন হারমান। ১৮ বলে ২৩ রান করা হারমানকে ফিরিয়ে ফেন ট্রাম্পেমান। পরের ওভারে অভিষিক্ত ম্যাক হেইনগোকে কট বিহাইন্ড করেন প্রিটোরিয়াসকে (২ চারে ২২)।
নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগই দেয়নি নামিবিয়া। সফরকারীদের ফিফটি করতে পারেননি কেউ। সর্বোচ্চ ৩১ রান আসে জেসন স্মিথের ব্যাট থেকে।
প্রতিপক্ষকে অল্পতে আটকানোর স্বস্তি অবশ্য শুরুতে উবে যায় নামিবিয়ার। ২৮ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলে তারা। সপ্তম ওভারে বিদায় নেন টপ অর্ডারের আরেকজন।
চাপে পড়া দলকে কিছুক্ষণ টানেন অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস। ৩ চারে ২১ রান করেন তিনি। জেজে স্মিট (১ চারে ১৩) ও মালান ক্রুগার (১ ছক্কায় ১৮) পারেননি টিকতে।
এরপর আর দলকে উইকেট হারাতে দেননি গ্রিন ও ট্রাম্পেলমান। তাদের জুটির পথচলা যখন শুরু হয়, তখনও জিততে নামিবিয়ার দরকার ছিল ২১ বলে ৩৪ রান। দারুণ ব্যাটিংয়ে ৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন যুগলবন্দিতে দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দেন তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৩৪/৮ (প্রিটোরিয়াস ২২, ডি কক ১, হেনড্রিকস ৭, হারমান ২৩, স্মিথ ৩১, ফেরেইরা ৪, সিমেলানে ১১, ফোরটান ১৯*, কুটসিয়া ১২; এরাসমাস ২-০-১২-১, শিকোঙ্গো ৩-০-২৩-১, স্মিট ৪-০-২৩-১, ট্রাম্পেলমান ৪-০-২৮-৩, হেইঙ্গো ২-০-৩২-২, শুলজ ৪-০-১৬-০)
নামিবিয়া: ২০ ওভারে ১৩৮/৬ (স্টিনক্যাম্প ১৩, ফ্রাইলিঙ্ক ৭, লফটি-ইটন ৭, এরাসমাস ২১, স্মিট ১৩, ক্রুগার ১৯, গ্রিন ৩০*, ট্রাম্পেলমান ১১; বার্গার ৪-০-২১-২, উইলিয়ামস ৪-০-২৩-০, কুটসিয়া ১.৩-০-১৪-১, ফেরেইরা ২.৩-০-১৭-০, সিমেলানে ৪-০-২৮-২, ফোরটান ৪-০-২৮-১)
ফল: নামিবিয়া ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: রুবেন ট্রাম্পেলমান