Published : 24 Jan 2026, 08:34 AM
এমনিতে ওপেনার হলেও পারভেজ হোসেন ইমন এবারের বিপিএল শুরু করেছিলেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে। তার পারফরম্যান্সও ছিল বেশ উজ্জ্বল। পরে তাকে তুলে আনা হয় তাকে ওপেনিংয়েই। সহজাত ব্যাটিং পজিশনেও খুব একটা খারাপ করেননি। ধারাবাহিক পথচলার শেষে আসরের সবচেয়ে বেশি রান এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানেরই।
বিপিএলের গত আসরে চারশর বেশি রান করেছিলেন চার জন ব্যাটসম্যান। যাদের একজন ছুঁয়েছিলেন পাঁচশর ঠিকানা। এবার চারশ রান করতে পারেননি কেউ। কাছাকাছি যেতে পেরেছেন কেবল পারভেজ।
তার মতো তিনশ বা এর বেশি রান করেছেন আরও চার জন। রানের তালিকায় সেরা পাঁচে আছেন তাওহিদ হৃদয়, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত ও দাভিদ মালান।
পারভেজ হোসেন ইমন- ১২ ইনিংসে ৩৯৫ রান
বিপিএলের নিলামে এবার পারভেজকে ৩৫ লাখ টাকায় দলে নেয় সিলেট টাইটান্স। এমনিতে সহজাত টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান তিনি। ওপেনারই তার মূল পরিচয়। তবে এবারের আসরে প্রথম পাঁচটি ম্যাচে তাকে খেলানো হয় চার নম্বরে।
শুরুটাও তিনি করেন দারুণ। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ৫টি ছক্কা ও ৪টি চারে ৩৩ বলে অপরাজিত ৬৫ রানের ইনিংস দিয়ে শুরু করেন আসর। পরের ম্যাচে আরেকটি ফিফটি করেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে (৪১ বলে ৬০)। তৃতীয় ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে করেন ৩২ বলে ৪৪।
পাঁচ ম্যাচ চার নম্বরে খেলে ৫০.২৫ গড় ও ১৩৬.৭৩ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেন ২০১।
নোয়াখালীর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাকে তুলে আনা হয় ওপেনিংয়ে। তবে এখানে ব্যর্থ হন তিনি প্রথম দুই ম্যাচে ( ১ ও ২)। পরে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৪১ বলে অপরাজিত ৫২ রানের ইনিংস খেলে দলের জয়ে অবদান রাখেন ২৩ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজশাহীর বিপক্ষে হেরে বিদায় নেয় তার দল সিলেট। ওই ম্যাচে রান তাড়ায় পারভেজের ব্যাটে আসে ৩৪ বলে ৪৮ রানের ইনিংস।
সব মিলিয়ে ১২ ইনিংসে ৩৯.৫০ গড় ও ১৩২.৯৯ স্ট্রাইক রেটে তার রান ৩৯৫।
আসরের সেরা ব্যাটসম্যানের পুরস্কার তিনি পেয়েছেন। যদিও তার দল ফাইনালে ছিল না বলে তিনিও ছিলেন না মঞ্চে। তার হয়ে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন সেরা বোলারের স্বীকৃতি পাওয়া শরিফুল ইসলাম।

তাওহিদ হৃদয়- ১১ ইনিংসে ৩৮২ রান
পারভেজের খুব কাছেই আছেন হৃদয়। এলিমিনেটর ম্যাচে হেরে বিদায় নেওয়া রংপুর রাইডার্সের হয়ে ১১ ইনিংসে ৩৮.২০ গড় ও ১৩৭.৯০ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেন ৩৮২ রান।
আসরের শুরুটা হৃদয়ের মোটেও ভালো ছিল না। প্রথম ছয় ম্যাচে তিন ও চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ফিফটি করতে পারেন কেবল একটি। ওই ছয় ম্যাচে ১৭.৬৬ গড় ১০৯.২৭ স্ট্রাইক রেটে তার রান ছিল কেবল ১০৬।
এরপরই তাকে তুলে আনা হয় ওপেনিংয়ে। তাতে বদলে যায় তার ব্যাটিংও। প্রথম ম্যাচেই রাজশাহীর বিপক্ষে ৮ চার ও ৬ ছক্কায় খেলেন ৫৬ বলে ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস। পরের ম্যাচে ভালো করতে না পারলেও ঢাকার বিপক্ষে করেন ৪৬ বলে ৬২।
আরও বিধ্বংসী রূপে দেখা দেন তিনি পরের ম্যাচে। নোয়াখালীর বিপক্ষে ১৭৪ রান তাড়ায় ১৫ চার ও ২ ছক্কায় উপহার দেন ৬৩ বলে ১০৯ রানের ইনিংস।
এলিমিনেটর ম্যাচে অবশ্য ৪ রানের বেশি তিনি করতে পারেননি।
তানজিদ হাসান- ১৩ ইনিংসে ৩৫৬ রান
গত আসরে ১২ ইনিংসে ৪৮৫ রান করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তানজিদ। এবার অতটা ভালো তিনি করতে পারেননি। ১৩ ইনিংসে ২৭.৩৮ গড় ও ১৩৬.৯০ স্ট্রাইক রেটে ৩৫৬ রান করে তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার ২৫ বছর বয়সী ওপেনার।
নিজের সেরাটা উপহার দেন তিনি সবচেয়ে বড় ম্যাচে। ফাইনালে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে রাজশাহীর শিরোপা জয়ের নায়ক তিনিই। এ দিন ৭ ছক্কা ও ৬ চারে তিনি খেলেন ৬২ বলে ১০০ রানের ইনিংস।
বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিপিএলে তিনটি সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন তিনি।
এবার নিলামের আগেই সরাসরি চুক্তিতে তাকে দলে নেয় রাজশাহী। কিন্তু শুরুতে দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। প্রথম সাত ইনিংসে ছুঁতে পারেননি ৩০, তিনটিতে আউট হন তিনি দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগে। অষ্টম ম্যাচে ৪৩ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে।
পরের দুই ম্যাচে আবার তিনি আউট হয়ে যায় দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলেন ৪১ রানের মন্থর ইনিংস। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস টেনে নিতে পারেননি (১৫ বলে ৩২)।
তবে ফাইনালে নিজের সেরাটা মেলে ধরে দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে দলকে শিরোপা জেতালেন তিনি।
নাজমুল হোসেন শান্ত- ১৩ ইনিংসে ৩৫৫ রান
রানের তালিকায় তানজিদের ঠিক পরেই আছেন তার দলের অধিনায়ক শান্ত। ১৩ ইনিংসে ২৯.৯৮ গড় ও ১৩৫.৪৯ স্ট্রাইক রেটে ৩৫৫ রান করেছেন রাজশাহীর শিরোপা জয়ী অধিনায়ক।
১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে এবারের আসর শুরু করেন শান্ত। সিলেটের বিপক্ষে ১০ চার ও ৫ ছক্কা খেলেন ৬০ বলে অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংস। পরের ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষে করেন ২৮ বলে ৩৭। পরের দুই ম্যাচে ২৪ ও ৪১।
এরপর দুই ম্যাচে অল্পে আউট হয়ে যান তিনি। তবে রংপুরের বিপক্ষে খেলেন ৪২ বলে ৭৬ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস।
ছয় শেষ ইনিংসে অবশ্য তিনি ত্রিশ ছুঁতে পারেন মাত্র একবার। ফাইনালে ৭ বলে ১১ রানে অপরাজিত রয়ে যান বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক।
দাভিদ মালান- ৯ ইনিংসে ৩০০
দেশি-বিদেশি ক্রিকেটার আর শক্তি সামর্থ্যে অন্য সব দলের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা রংপুর রাইডার্সের হয়ে এবার ৯ ইনিংসে ৩৭.৫০ গড় ও ১১২.৩৫ স্ট্রাইক রেটে ৩০০ রান করেন মালান।
ইংলিশ ব্যাটসম্যান প্রথম দুই ম্যাচেই করেন কার্যকর ফিফটি। প্রথম পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই তিনি স্পর্শ করেন ত্রিশ। ষষ্ঠ ম্যাচে আউট হয়ে যান অল্পতে। পরের ম্যাচে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় খেলেন ৪৯ বলে ৭৮ রানের ইনিংস।
তবে শেষ দুই ম্যাচে তিনি ভালো করতে পারেননি। বিশেষ করে এলিমিনেটর ম্যাচে আউট হয়ে যান কেবল ৪ রানে।