Published : 01 Feb 2026, 08:27 AM
চার-ছক্কার প্রবাহ, রানের জোয়ার। এই সময়ের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রামাণ চিত্রই ফুটে উঠল শনিবার থিরুভানান্থাপুরামে ভারত-নিউ জিল্যান্ড লড়াইয়ে। এই ম্যাচেই আবার আর্শদিপ সিং পেলেন এমন ৫ উইকেট, যেটির নজির আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নেই আর।
সব মিলিয়ে এই ম্যাচে রেকর্ড, মাইলফলক আর অর্জন দেখা গেল বেশ কিছু। এর মধ্যে একটি রেকর্ডে বাংলাদেশের লিটন কুমার দাসকে পেছনে ফেলেছেন নিউ জিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন।
আড়াইশর রাজা
২০ ওভারে ২৭১ রান তুলেছে ভারত। টি-টোয়েন্টিতে তাদের তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এটি।
এই সংস্করণে চারবার ২৫০ ছুঁয়ে ভারত এখন এককভাবে সবার ওপরে। তিনবার নিয়ে দুইয়ে জিম্বাবুয়ে, দুবার করে পেরেছে ইংল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র ও জাপান।
কিউই তুলাধুনা
আগের রেকর্ড অনেকটা ছাড়িয়ে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এই ২৭১।
আগের সেরা ছিল অস্ট্রেলিয়ার ২৪৫, ২০১৮ সালে অকল্যান্ডে।
রান শিখরের কাছে
ভারতের ২৭১ রানের জবাবে নিউ জিল্যান্ড করেছে ২২৫। ম্যাচে রান উঠেছে ৪৯৬। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান।
৫১৭ রান নিয়ে সবার ওপরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই। ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে ক্যারিবিয়ানদের ২৫৮ রান টপকে ২৫৯ রান করে রেকর্ড গড়ে জিতে যায় প্রোটিয়ারা।
ছক্কা আর ছক্কা-১
গোটা ইনিংসে ২৩টি ছক্কা মেরেছে ভারত। এক ম্যাচে যা তাদের যৌথ সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জোহানেসবার্গেও ২৩টি ছক্কা ছিল তাদের।
এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কার বিশ্বরেকর্ড ২৯টি। গত ডিসেম্বরে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২৭৮ রানের ইনিংসে এতগুলো ছক্কা মেরেছে স্পেন।
এছঅড়া ২০২৪ সালে গাম্বিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে মেরেছে ২৭ ছক্কা, ২০২৩ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে নেপালের ছক্কা ছিল ২৬টি।
ছক্কা আর ছক্কা-২
ভারতের ২৩ ছক্কার পর নিউ জিল্যান্ডের ইনিংসে ছিল ১৩ ছক্কা। এই ৩৬ ছক্কা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
সবচেয়ে বেশি ৪১ ছক্কা হয়েছে গত বছর সোফিয়ায় বুলগেরিয়া ও জিব্রাল্টারের ম্যাচে।
ছক্কা আর ছক্কা-৩
গোটা সিরিজে ৫ ম্যাচে ৬৯টি ছক্কা মেরেছে ভারত। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে যা বিশ্বরেকর্ড।
২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ও গত বছর একই দলের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ৬৪ ছক্কা ছিল আগের রেকর্ড।
ছক্কা আর ছক্কা-৪
গোটা সিরিজে দুই দল মিলিয়ে ছক্কা হয়েছে ১১৬টি, একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে যা তৃতীয় সর্বোচ্চ।
২০২৩ সালে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ছক্কা হয়েছিল ১২০টি, গত বছর অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ১১৭টি।
কিষান-ঝড়
৪২ বলে সেঞ্চুরি করেছেন ইশান কিষান, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে যা দ্রুততম। শ্রীলঙ্কার কুসাল পেরেরার ৪৪ বলের শতরান ছিল আগের দ্রুততম।
ভারতের সেঞ্চুরি-রাজ
ইশান কিষানকে দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সেঞ্চুরি হলো ২৫টি। এখানে তাদের ত্রিসীমানায় নেই আর কোনো দল।
১৩টি করে সেঞ্চুরিতে দুইয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ড।
সুরিয়া-রথ
৩০ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলার পথে ৩ হাজার রান পূর্ণ করেছেন সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ। এই মাইলফলকে পৌঁছেছেন তিনি কেবল ১ হাজার ৮২২ বল খেলে।
বলের হিসেবে দ্রুততম ৩ হাজার রানের রেকর্ডে অনেকটা পেছনে ফেলেছেন তিনি আগের রেকর্ড গড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুহাম্মাদ ওয়াসিমকে (১ হাজার ৯৪৭)।
১২ ওভারের টর্নেডো
৮ ওভার শেষে ভারতের রান ছিল ৬৯। সেখান থেকে পরের ১২ ওভারে তারা তোলে ২০২ রান।
শেষ ১২ ওভারে এর চেয়ে বেশি রানের নজির আছে কেবল দুটি। ২০২৩ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে নেপাল তুলেছিল ২৩৭ রান, ২০২৪ সালে গাম্বিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে ২১৯।
চোখের পলকে পঞ্চাশ
৩.১ ওভারেই ৫০ রানে পৌঁছে যায় নিউ জিল্যান্ড, ভারতের বিপক্ষে যা দ্রুততম দলীয় ফিফটি। ৩.৩ ওভারে ফিফটির আগের রেকর্ড ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার, গত মাসে আহমেদাবাদে।
লিটনকে ছাড়িয়ে অ্যালেন
পাওয়ার প্লেতে ৫৭ রান করেছেন ফিন অ্যালেন। ভারতের বিপক্ষে যা পাওয়ার প্লেতে সবচেয়ে বেশি রান। কিউই ওপেনার ছাড়িয়েছেন গেছেন লিটন কুমার দাসকে। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অ্যাডিলেইডে বাংলাদেশের ওপেনার করেছিলেন ৫৬ রান।

ব্যয়বহুল ৫ উইকেট
৫ উইকেটের স্বাদ পেলেও আর্শদিপ সিং রান খরচ করেছেন ৫১। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথমবার কোনো বোলার রান দেওয়ার ফিফটি করেও ৫ উইকেট নিলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আলজারি জোসেফের ৪০ রানে ৫ উইকেট ছিল আগের সবচেয়ে খরুচে ৫ উইকেট।
সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রান দেওয়ার ফিফটি করেও ৫ উইকেট শিকারের তৃতীয় নজির এটি। মজার ব্যাপার হলো, তিনজনই বাঁহাতি পেসার।
২০১৬ সালে ভারতেই দিল্লির বিপক্ষে আন্ধ্রা প্রদেশের চিপুরাপাল্লি স্টিফেন ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ৫২ রানে, ২০২২ সালে মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে ইংলিশ পেসার লুক উড পার্থ স্কর্চার্সের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ৫০ রানে।
অচেনা বুমরাহ
৪ ওভারে ৫৮ রান দিয়েছেন জাসপ্রিত বুমনাহ, অনায়াসেই যা এক ম্যাচে তার সবচেয়ে খরুচে বোলিং। আগে একবারই ৪ ওভারে ৫০ রান দিয়েছিলেন তিনি, ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
এই ম্যাচে এক ওভারে তিনি রান দিয়েছেন ২২, যা তার সবচেয়ে রানপ্রসবা ওভার। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক ওভারে দিয়েছিলেন ২০ রান।
বোলারদের দুঃস্বপ্ন
নিউ জিল্যান্ডের তিনজন আর ভারতের দুজন, মোট ৫=পাঁচ বোলার এই ম্যাচে রান দেওয়ার ফিফটি করেছে। এক ম্যাচে যা যৌথভাবে রেকর্ড।
২০২৪ সালে জিম্বাবুয়ে-গাম্বিয়া ম্যাচেও পাঁচ বোলারের রান পঞ্চাশ ছুঁয়েছিল। পাঁচজনই ছিলন গাম্বিয়ার।
কোহলির পর সুরিয়া
ছয়বার ম্যান অব দা সিরিজ হলেন সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ, যৌথভাবে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার সঙ্গে। তাদের ওপরে কেবল ভিরাট কোহলি (৭)।